রবিবার ১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গোপালগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, থানায় অভিযোগ

কোটালীপাড়া প্রতিনিধি : সুজিৎ মৃধা   |   মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট  

গোপালগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, থানায় অভিযোগ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের নৈয়ারবাড়ি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মধুসূদন বাড়ৈকে সামাজিক ভাবে হেয় করার জন্য তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি কুচক্রি মহল। প্রধান শিক্ষক বলছেন এতে সমাজে তার সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। এবিষয়ে মধুসূদন বাড়ৈ বাদি হয়ে কোটালীপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। নৈয়ারবাড়ি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মধুসূদন বাড়ৈ বলেন, ১৫ আগষ্ট ২০১৯ আমাদের বাড়িতে ধর্মিয় অনুষ্ঠান হয়। ওই দিন আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যায় । পরের দিন আমার কাকাতো ভাই সঞ্জিতের স্ত্রী ও ছেলে সৌম্য বাড়ৈ মোবাইলটি আমাকে দিয়ে যায়। পরে জানতে পারি সৌম্য ওই রাতে পড়ে থাকতে দেখে মোবাইলটি নিয়ে যায় এবং সকালে এসে দিয়ে যায়। ৬ মাস পরে এসে এই গ্রামের দুইজন ব্যক্তি সিদ্ধেশ্বর রায় এর ছেলে সচিন রায় এবং মনোরঞ্জন বাড়ৈর ছেলে সুখরঞ্জন বাড়ৈ (ধলু)আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে । আমি নাকি মোবাইল দিতে আসলে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীকে মারপিট করেছি । মাপপিট করার ৬ মাস পর তিনি মারা যায়। ওই দুইজন গত ১৬ মার্চ এই অপপ্রচার চালিয়ে এলাকায় মাইকিং করে । একটা মিথ্যা ঘটনা অপপ্রচার করে আমার সম্মান ক্ষুন্ন করছে। আমি এর বিচার চাই।
নৈয়ারবাড়ি গ্রামের সঞ্জিত বাড়ৈ বলেন, আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবত শারীরিক অসুস্থ ( লিভার ও ফুসফুসে সমস্যা ) জনিত কারনে ভুগছিলেন। অনেক টাকা পয়সা খরচ করে গোপালগঞ্জ , বরিশাল চিকিৎসা করানোর পর ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ মারা যায়। ১ মার্চ ২০২০ ধর্মীয় বিধান মতে এলাকার লোকদের নিয়ে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করি । প্রায় দুই মাস পরে এসে একটি মহল আমার কাকাতো ভাই নৈয়ারবাড়ি বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মধুসূদন বাড়ৈ এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে যে , আমার স্ত্রীকে নাকি ১৫ আগষ্ট ২০১৯ সে মারপিট করেছিলো সেই জন্য ৬ মাস পরে মারা যায় । কাকাতো ভাই কোন মারপিট, বকাবকি কিছুই করেনি। বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট,৩য় পক্ষ প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা পাওয়ার লোভে আমাকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করতে চেয়েছিলো,আমার স্ত্রী ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০ হটাৎ অসুস্থ হয়। এর আগে সম্পূর্ন সুস্থ ছিলো এবং আমার সংসারের যাবতীয় কাজ সে নিজেই করতো। একই গ্রামের সিদ্ধেশ্বর রায় এর ছেলে সচিন রায় এবং মনোরঞ্জন বাড়ৈর ছেলে সুখরঞ্জন বাড়ৈ(ধলু) এই অপপ্রচার চালাচ্ছে কেন এবং কি কারনে তা আমার জানা নেই।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সুখরঞ্জন বাড়ৈ(ধলু) বলেন, কয়েক দিন আগে আমাদের কাছে সঞ্জিত বলেছিলো তার ছেলে মোবাইল নেয়ার পর স্ত্রী ওই মোবাইল দিতে গেলে নাকি মধুসূদন বাড়ৈ মেরেছিলো। আর সেকারনে তার স্ত্রী মারা যায়। তবে এটা জানিনা ৬ মাস আগে মেরেছিলো তা বলেনি। আমরা এই এলাকায় যেকোন অপরাধের বিরুদ্ধে দাড়াই এটি একটি অপরাধ তাই এর বিরুদ্ধে মাইকিং করেছি।
এবিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার শেখ লুৎফর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলে মাইকিং করা হয়েছে এটা হয়রানি করা ছাড়া আর কিছু নয়, এই বিষয়টি সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বানোয়াট যার স্ত্রী মারা গেছে তাদের কোন অভিযোগ নেই এবং এটা সত্য নয় বলে জানিয়েছে। এটা তার সম্মান নষ্ট করার জন্য করেছে।

Facebook Comments Box


Posted ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১