সোমবার ১৮ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গোয়েন্দা নজরদারিতে আরো শতাধিক ‘পপিয়া’

  |   বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | প্রিন্ট  

গোয়েন্দা নজরদারিতে আরো শতাধিক ‘পপিয়া’

বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের অন্তত শতাধিক নারী নেত্রীকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতায় বেপরোয়া হয়ে ওঠা এই সব নারী নেত্রীর বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান চলছে। এমনকি তারা যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারে সে ব্যাপারেও সতর্ক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নরসিংদী যুব মহিলা লীগের আলোচিত ও বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউর অপকর্ম বের হয়ে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে আইনশৃংখলা বাহিনী। এছাড়াও রিমান্ডে থাকা পাপিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দা ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, রাজধানীর বেশ কয়েকটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এ সব নারী নেত্রী বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছেন। এর পেছনে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে। অপরাধ জগতের খোঁজ করতেই বেশ কয়েকটি আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে। এ সব আস্তানা থেকে নানা অপকর্ম পরিচালনা করে আসছে আরো শতাধিক পাপিয়া। তাদের এসব অবৈধ পন্থায় অর্জিত কাঁচা টাকা দিয়েই বেপরোয়া জীবন যাপন করে আসছে। এর বাইরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় কর্মকর্তা এ সব নেত্রীর কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে থাকেন। এ সব কাজ অবলীলায় করে আসার পেছনে তাদরেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানায়, এ সব লেবাসধারী নারী নেত্রীর কারণে অনেক তরুণীর সর্বনাশ হয়েছে। ভালো চাকরি বা সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা বলে অনেককে পতিতাবৃত্তিতে নামতে বাধ্য করা হচ্ছে। অবৈধ পথে উপার্জন করা ব্যক্তিরাই তাদের নিয়মিত খদ্দের। অভিজাত ক্লায়েন্টের চাহিদা মেটাতে প্রায়ই এ সব আস্তানায় বিদেশি মডেল-তরুণীদের আনা হয়। এ সব জায়গায় কিছুদিন অবস্থান করে তারা আবার চলে যেত নিজ দেশে। ঢাকার অভিজাত মহলে উঠতি মডেলদের চাহিদাও ব্যাপক।
এসব আস্তানা পরিচালনা করা নেত্রীরা শুধু মোটা অংকের টাকাই হাতিয়ে নিচ্ছে না, তাদের এই ব্যবসা দিয়ে উচু মহলের ক্ষমতাশীল লোকদের মাধ্যমে হাতিয়ে নেন বিভিন্ন সুবিধা। এমনকি এই সুবিধা দিয়ে রাজনৈতিক পদ পদবিও হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বদালি বা নিয়োগ বাণিজ্যও হয়ে আসছে এই সব নেত্রীদের হাত ধরে।
জানা যায়, বেশ কিছু নারী নেত্রী তাদের নিজ দলের পরিচয় দিয়ে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় চড়া দামে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এ সব কাজ করে আসছেন। বিশেষ করে গুলশান-বনানী ও উত্তরা এলাকায় এ ধরনের শতাধিক ফ্লাটের খোঁজ পাওয়া গেছে। ঢাকার বেশ কয়েকটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্রী মোটা অংকের টাকার লোভে এ সব ফ্ল্যাটে আসা-যাওয়া করে। লোভনীয় প্রস্তাবে তরুণীরা সাড়া দিয়ে প্রথম দিকে আয়েশি জীবন যাপন করলেও এক পর্যায়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ছে। পারছে না ফিরতে আর স্বাভাবিক জীবনে। পরিবার সমাজ থেকেও সরে যাচ্ছে দূরে।
এ বিষয়ে র‌্যাব-১-এর পরিচালক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল বলেন, পাপিয়ার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছি। পাপিয়ার বেশকিছু সহযোগী আছে, তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি।
ঢাকা মহানগর উত্তরের গোয়েন্দা বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, আমরা এই সব আস্তানা কোথায় কোথায় আছে, তা বের করতে কাজ করে যাচ্ছি। এর সাথে কারা জড়িত তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে।

Facebook Comments Box


Posted ৯:৪৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১