বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২০, ২০২২

গৌরনদী টু ঢাকা

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২ | প্রিন্ট  

গৌরনদী টু ঢাকা

আক্ষরিক অর্থেই ছোটবেলা থেকে অভিনয়ই জীবন। মফস্বলে থাকাকালে যাত্রাপালায় অভিনয় করেছি। তারপর এসেছি থিয়েটারে। এখন টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি। অনেককেই বলতে শুনেছি, আমি অনেক স্ট্রাগল করে বড় হয়েছি। এটা আমি মানতে নারাজ- যখন যা ভালো লাগে, আমি তা-ই করি। আমি যখন নাটকের দলে যোগ দিই, তখন খিলগাঁওয়ে থাকতাম। দলের মহড়া হতো নীলক্ষেতে। অনেক দিন আমি হেঁটে হেঁটে গিয়েছি সেখানে। যদি কেউ বলে, এই হেঁটে যাওয়া স্ট্রাগল, তাহলে সেটা আমি কেন মানব। হেঁটে যেতেই ভালো লাগত। আনন্দ পেতাম। আমার কাছে জীবনটা উপভোগের। জীবনের পুরো অধ্যায়ই আমার কাছে রঙিন মনে হয়। ছোটবেলায় ছিলাম দুরন্ত স্বভাবের। ওই বয়সে মাঝেমধ্যে বাসার কাউকে না বলে দূরে কোথাও চলে যেতাম। পড়ালেখায় মনোযোগ কম ছিল। ঢাকার নিজ বাসাই শুরু হয় এক অর্থে জীবনের প্রথম স্কুল। সুলতান নামের একজন শিক্ষক এসে বাসায় পড়াতেন। তাকে আমি ডাকতাম সুলতান কাকু বলে। স্কুলের মতো বাসায় সাপ্তাহিক-মাসিক পরীক্ষা নিতেন, বার্ষিক পরীক্ষা নিতেন ওই শিক্ষক। বছর শেষে প্রমোশন দিতেন তিনি। সুলতান কাকুর কাছে ক্লাস টু পর্যন্ত পড়ে সরাসরি ভর্তি হই ক্লাস থ্রিতে সেগুনবাগিচা উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুলে প্রতিদিন স্যার এসে রোল কল করেন। সবাই ইয়েস স্যার বলেন। ওই সময় আমি চুপ থাকতাম। কারণ, তখনও রোল নম্বর জানতাম না। বাবা জানতেন। সুলতান কাকু যখন বাসায় পড়াতেন, সেখানে তো রোল কল ছিল না।

স্কুলের ক্লাসে ভর্তির পর স্যার এসে যখন রোল কল করা শুরু করেন, তখন আমার কাছে বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হয়েছিল। একদিন সন্ধ্যা নামের এক সহপাঠী স্যারকে বলে দেয়, আমি রোল কলের সময় সাড়া দিই না। স্যার তখন আমার রোল নম্বর জানতে চান। আমি বলতে পারিনি। স্যারকে তখন সব খুলে বলি। তারপর জেনে যাই আমার রোল নম্বর ৫৫। যখন চতুর্থ শ্রেণির শেষ দিকে আসি, তখন একদিন হুট করে শহরের পাট চুকে গেল আমার। আমাকে দিয়ে কিছু হবে না- এই টাইপের কথা শুনতাম। আমাকে আমাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের গৌরনদীতে পাঠিয়ে দিলেন বাবা। সেখানের পিঙ্গলাকাঠি চিপারটাইপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। এ স্কুল থেকেই ক্লাস ফাইভ পাস করি। সে সময় গ্রামে ফিরে না গেলে আমি কখনোই আলাদা করে গ্রীষ্ফ্মকাল, বর্ষাকাল, শরৎকাল, হাড়কাঁপানো শীত কাকে বলে বুঝতাম না। হেমন্তের ধানকাটা, শীতের পিঠার স্বাদ নেওয়া হতো না। এখন মনে হয় ওটাই ছিল জীবনের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট সময়।


Posted ২:১২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]