বুধবার ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গ্রামীণফোনে প্রশাসক বসাতে প্রস্তুত সরকার: মোস্তাফা জব্বার

ডেস্ক   |   শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | প্রিন্ট  

গ্রামীণফোনে প্রশাসক বসাতে প্রস্তুত সরকার: মোস্তাফা জব্বার

বিটিআরসিকে সোমবারের মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা দিতে হবে গ্রামীণফোনকে। আদালতের এই নির্দেশ না মানলে গ্রামীণফোনে সরকার প্রশাসক বসাবে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
তিনি বলেছেন, ‘প্রশাসক নিয়োগের সব প্রস্তুতি আমাদের আছে। যিনি গ্রামীণফোনের প্রশাসক হবেন তিনি হবেন ওই প্রতিষ্ঠানের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) পদ মর্যাদার। আমরা এমন একজনকে নিয়োগ করব যিনি গ্রামীণফোনকে কব্জায় আনতে পারেন।’
ডয়চে ভেলের খবরে বলা হয়েছে- বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-কে সোমবারের মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে গ্রামীণফোনের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
পাওনা নিয়ে বিটিআরসির সাথে গ্রামীণফোনের এই লড়াই চলছে এক বছর আগে থেকে। বিটিআরসি ২৭টি খাতে ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওনা দাবি করে গত বছরের ২ এপ্রিল গ্রামীণফোনকে চিঠি দেয়। কিন্তু ওই দাবি উপেক্ষা করে গ্রামীণ ফোন শুরু থেকেই আইনি পথে হাঁটে। তারা প্রথমে নিম্ন আদালতে ওই দাবির বিরুদ্ধে মামলা করে।
গত বছরের ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালত গ্রামীণফোনের আবেদন খারিজ করে দিলে তারা হাইকোর্টে আপিল করে। আর গত অক্টোবরে তারা বিটিআরসির টাকা আদায়ের ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞাও পায় হাইকোর্ট থেকে।
কিন্তু বিটিআরসি ওই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করলে গত ২৪ নভেম্বর তিন মাসের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা দেয়ার আদেশ দেন আপিল বিভাগ। ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করে গ্রামীণফোন। সেই রিভিউ আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ হয়।
আপিল বিভাগের এই রায়ের আগে গ্রামীণফোন দুই হাজার কোটি টাকার বিপরীতে বিটিআরসিকে মাত্র ১০০ কোটি টাকা দিতে চেয়েছিল। বিটিআরসি তা প্রত্যাক্ষাণ করে।
গ্রামীণ ফোনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এম আমীন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মূল আইনি লড়াই শেষ হয়নি। কারণ, বিটিআরসির দাবি তো অনেক টাকা। আপিল বিভাগ যে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছিলেন তার এক হাজার কোটি টাকা এখন সোমবারের মধ্যে দিতে হবে। আমি আমার মক্কেল গ্রামীণফোনকে আদালতের এই চূড়ান্ত আদেশ জানিয়ে দিয়েছি। এখন তারা কী করবেন সেটা তাদের বিষয়।’
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার আপিল বিভাগের এই রায়ের পর বলেন, ‘গ্রামীণফোনকে বাংলাদেশে ব্যবসা করতে হলে এই দেশের আইন মেনে করতে হবে। তারা এই দেশে ব্যবসা করে, কিন্তু এই দেশের আইন-আদালতের প্রতি তাদের কোনো শ্রদ্ধা নেই। তারা এর আগে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধেও উকিল নোটিশ পাঠিয়েছে। তাদের এই ধরনের ঔদ্ধত্বপূর্ণ মানসিকতা এই দেশে ব্যবসা করার জন্য ক্ষতিকর। এ দেশে ব্যবসা করার মানসিকতা তাদের আছে বলে মনে হয় না।’
তিনি বলেন, ‘গ্রামীণফোনে প্রশাসক নিয়োগের অনুমোদন আমরা আগেই নিয়ে রেখেছি। এখন নিয়োগ করলে বোঝা যাবে পরিচালনায় কোনো সমস্যা হয় কিনা। সমস্যা হলে সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণফোনের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি। তবে তাদের আইনজীবী এ এম আমীন উদ্দিন বলেছেন, ‘সর্বশেষ আদেশ চূড়ান্ত। এখন এটা গ্রামীণফোন মানবে কি মানবে না তা আমাকে এখনো জানায়নি।’
অবশ্য সন্ধ্যায় গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়, ‘আপীলেট ডিভিশনের আদেশের বিষয়ে আমরা অবগত। রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে আমরা প্রত্যাশিত ফলাফল পাইনি। এই মুহূর্তে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।’
গ্রামীণফোন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন অপারেটর। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী তাদের গ্রাহক প্রায় আট কোটি। অন্যদিকে বিটিআরসি বাংলাদেশের টেলিকম্যুনিকেশন খাতে সরকারের রেগুলেটরি প্রতিষ্ঠান।

Facebook Comments Box


Posted ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১