বৃহস্পতিবার ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নিজেই আসামির বাবাকে রক্ত দান পুলিশ কর্মকর্তার

ডেস্ক   |   রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নিজেই আসামির বাবাকে রক্ত দান পুলিশ কর্মকর্তার

একটি খুনের মামলায় পলাতক আসামিকে চার মাস ধরে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে ওই আসামি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছেন। গুরুতর অসুস্থ বাবার রক্তের জোগাড় করে দিতেই তিনি মেডিকেলে আসেন।
পুলিশ তাকে সেখানে গ্রেপ্তার করতে যায়। দেখতে পায় ওই আসামির বাবার জরুরি ভিত্তিতে রক্তের দরকার। তবে আসামিকে গ্রেপ্তার করলে বাবা রক্ত সমস্যায় পড়তে পারেন। এই বিষয়টা দাগ কাটে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের আকবর শাহ থানার উপ পরিদর্শক বদিউল আলমের মনে। তিনি এমদাদ হোসেন নামের ওই আসামিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নিজেই আসামির বাবাকে রক্ত দান করেছেন।
গত শনিবার রাতের এই ঘটনা জানাজানি হতেই চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের প্রশংসায় ভাসছেন এসআই বদিউল। সহকর্মীরাও তাকে এই মহতী কাজের জন্য সাধুবাদ জানাচ্ছেন। তবে বদিউল বলছেন, তিনি মানবতার খাতিরেই কাজটি করেছেন। কোনো ধরনের প্রশংসা পাওয়ার জন্য নয়।
জানা যায়, আকবরশাহ থানার কৈবল্যধাম রেললাইনের সন্নিকটে রশিদের কলোনিতে গত বছরের ২৫ অক্টোবর রাত দেড়টার দিকে একটি খুন হয়। গায়ে হলুদে গানবাজনাকে কেন্দ্র করে ওই খুনের ঘটনায় নিহত হন জসিম উদ্দিন নামের এক যুবক।
এঘটনায় আকবরশাহ্ থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান আকবরশাহ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বদিউল আলম। খুনের ১৬ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেন এসআই বদিউল। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয় আসামির পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেন। তারা হলেন- সাকিব, জীবন, নুরুদ্দিন, জাহিদ এবং শহীদ। এদের সবাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
তবে পলাতক রয়ে যায় অপর আসামি এমদাদ। দীর্ঘ চার মাস ধরে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন এসআই বদিউল আলম। সবশেষ শনিবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে এমদাদকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হন এসআই বদিউল।
এমদাদকে গ্রেপ্তারে অভিযানে এসআই বদিউলের সঙ্গে এসআই এমদাদ হোসেন চৌধুরী, মো. সায়েম, সহকারী উপপরিদর্শক নিখিল চন্দ্র দাস এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়োজিত নায়েক মোহাম্মদ আমির হোসেন অংশ নেন।
গ্রেপ্তারের পর এমদাদ ওই খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে পুলিশকে জানান, গত চার মাস ধরে গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। শনিবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গোপনে তার বাবাকে এক ব্যাগ ও পজেটিভ রক্ত দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য এসেছেন।
মানবিক বিষয়টি নাড়া দেয় এসআই বদিউলের মনে। এমদাদের বাবার দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে নিজেই রক্ত দেন। আসামি এমদাদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যপারে আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘এটা আসলে একটি ইতিবাচক দিক। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামির বাবাকে রক্ত দিয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নজরে এনেছি। উনারাই সিদ্ধন্ত নেবেন বদিউল আলমের ব্যাপারে। এখানে প্রতিমাসেই ভালো কাজের জন্য পুরষ্কারের ব্যবস্থা রয়েছে।’
এসআই বদিউল বলেন, ‘মানবতার খাতিরে আমি কাজটা করেছি। কোনো ধরনের প্রসংশা পাবার জন্য করিনি। যদি আমার রক্তের গ্রুপের সাথে তার রক্তের গ্রুপ না মিলত তবে আমি অন্য পুলিশের কাছ থেকে জোগাড় করে হলেও রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করতাম। যেহেতু আমার রক্তের গ্রুপের সাথে মিলেছে তাই আমি দিয়েছি। যদি আমি তার বাবাকে রক্ত দিতে না পারতাম, আর এতে যদি কোন ক্ষতি হয়ে যেতে তবে নিজেকে সব সময় অপরাধী মনে হতো।’
বদিউল আলম ২০০৫ সালে কনেস্টেবল হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। পদোন্নতি পেয়ে উপপরিদর্শক হয়েছেন। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সরবভাটার ছেলে চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের পর একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। চার ভাই চার বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ বদিউল ব্যক্তি জীবনে আদরাজ নামের এক পুত্রসন্তানের জনক।

Facebook Comments Box


Posted ৯:৩৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১