বৃহস্পতিবার ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

চারিত্রিক সনদ ও কাগজপত্র সত্যায়ন প্রসঙ্গ

খালিদ ফেরদৌস   |   শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট  

চারিত্রিক সনদ ও কাগজপত্র সত্যায়ন প্রসঙ্গ

সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এখন করোনা মহামারী চলছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। যা মানুষকে নিয়ে আতঙ্কিত করে, মানসিক শক্তি কমিয়ে দিয়েছে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তাদের ভাবনা জুড়ে- কবে অসুস্থ পৃথিবী সুস্থ হবে, তারা আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও এক শ্রেণির অসাধু লোককে চুরি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে কোনোভাবেই বিরত রাখা যাচ্ছে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার সমস্যাও সমাধান করতে হয়। এমপি-মন্ত্রী বা নেতা-কর্মীরা দেশে কোনো অনভিপ্রেত সংকট তৈরি হলে সেটার সমাধানের জন্য তার দিকে চেয়ে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি আমরা। যা অবশ্যই সাধারণ জনগণের জন্য ভালো সংবাদ নয়। টেকসই উন্নয়ন ও গুণগত সেবা প্রদানে সব সেক্টরকে বিশেষায়িত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যা বাংলাদেশের অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত।
দেশের জনগণের ধারণা- বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা কারো কথা না শুনলেও দলীয় সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা মেনে চলে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে এসেও তার কঠোর নির্দেশ প্রতি শিথিলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং চাল বা ত্রাণ চুরির ঘটনা ঘটছে। এইসব ঘটনার সিংহভাগ সংগঠিত হচ্ছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের দ্বারা। এর জন্য তিনি কয়েকজনকে দল থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত করেছেন।
তাই সময় এসেছে ভেবে দেখার- ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের কাছ থেকে মানুষের চারিত্রিক সনদ নেয়াটা কতটা সমীচীন। করোনাভাইরাস মহামারী কালেও যারা সরকারি ত্রাণের মাল চুরি করা থেকে নিজেদের নিবৃত করতে পারে না ; তাদের আইনগত ও নৈতিকভাবে চারিত্রিক সনদ দেবার অধিকার থাকতে পারে না। তাদের কাছ থেকে সাধারণ জনগণ চারিত্রিক সনদ প্রত্যাশা করে না। সচেতন মহল দাবি- সরকার কালবিলম্ব না করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।
একই সাথে তাদের কাছ থেকে চারিত্রিক সনদ নেবার প্রথা বাতিল বা ব্যবস্থাটির সংশোধন অতি জরুরি। এটা ভালো মানুষকে অসৎ মানুষের কাছে জিম্মি করে ফেলে। তাছাড়া চারিত্রিক সনদ প্রথা চলমান থাকা কতটা প্রয়োজন বা যৌক্তিক তাও ভেবে দেখার সময় এসেছে। পাশাপাশি সার্টিফিকেট ও ছবি প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার কাছ থেকে সত্যায়িত করার প্রথারটি নিয়েও ভাববার সময় এসেছে। এটির কিছু ভালো দিক থাকলেও সংশ্লিষ্টদের অসদাচরণ ও কিছু মানুষের অসৎ পথ অবলম্বনের কারণে তা দিন শেষে বিড়াম্বনা ও তামাশার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ম্যাজিস্ট্রেট, শিক্ষক থেকে শুরু করে সকল প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার সিল সব জায়গায় পাওয়া যায়। ঢাকা শহরের নীলক্ষেতসহ সারা বাংলাদেশে এটা খুব সহজে বানিয়ে নেয়া যায়। যেকোনো একাডেমিক সার্টিফিকেটের মতো জাল বা নকল চারিত্রিক সনদ পাওয়া যায়। মূলত যারা সততার সাথে জরুরি কাগজপত্র সত্যায়ন ও চারিত্রিক সনদ নিতে চায় তারাই বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তিতে পড়ে।
তাছাড়া যারা সততা ও নৈতিকতা নিয়ে চলে তাদের কাছে একজন চোর ও নৈতিক অবক্ষয়গ্রস্থ চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলরের কাছ থেকে চারিত্রিক সনদ নেয়াটা খুবই বিব্রতকর। অন্যদিকে চারিত্রিক সনদ ও কাগজপত্র সত্যায়ন পদ্ধতি ব্রিটিশদের কেরানী বা ক্লাক বানানো শিক্ষা ব্যবস্থার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এই দুটি প্রথা ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ শাসন ও শোষণকে মজবুত করার হাতিয়ার হিসেবে প্রচলন করেছিল। যা প্রত্যেকটা বাঙালির হৃদয়ে হীনমন্যতা এনে দেয়। কলোনিয়াল দাসত্ব মানসিকতা থেকে মুক্ত হতে এই চারিত্রিক সনদ ও কাগজপত্র সত্যায়ন করার পদ্ধতির বাতিল বা সময়ের চাহিদা অনুপাতে সংশোধন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আশা করি চারিত্রিক সনদ চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরের কাছ থেকে নেবার প্রথা এবং প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার দ্বারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সনদ, ছবি সত্যায়ন পদ্ধতির বিষয়ে সরকার সুদৃষ্টি দিয়ে ভেবে দেখবেন। পাশাপাশি যুগের চাহিদা অনুযায়ী প্রথা দুটির সংশোধন, বিয়োজন বা বাতিলের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
লেখক : এমফিল গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষক, গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ।

Facebook Comments Box


Posted ৪:৩১ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১