• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী হচ্ছেন দিলীপ কুমার

    অনলাইন ডেস্ক | ১২ জুন ২০১৭ | ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

    চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী হচ্ছেন দিলীপ কুমার

    ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা) চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হচ্ছেন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক, জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা।


    একান্ত আলাপচারিতায় তিনি চুয়াডাঙ্গায় নেতৃত্ব সংকটের কথা তুলে ধরেন। দীর্ঘ দিনে এলাকায় কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। স্বাধীনতার পর থেকে চুয়াডাঙ্গা-১ ও ২ আসনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারেননি। গেল ৯ম ও ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। যিনি বর্তমানে জাতীয় সংসদের হুইপ।

    ajkerograbani.com

    অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আলী আজগার টগর। চুয়াডাঙ্গা জেলায় বর্তমানে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে সাধারণ জনগণ অতিষ্ঠ। এ জেলায় আওয়ামী লীগ এখন নিজেরা নিজেদের শত্রু। ঠিক এ মুহূর্তে দিলীপ কুমার আগরওয়ালার আগমন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ মহল ভালো চোখেই দেখছেন। তারা মনে করছেন দলের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে কৃষি ও শিল্পনির্ভর এলাকাটি অনেক পিছিয়ে পড়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে হিংসা পরিহার করে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন জরুরি বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

    ব্যবসায়ী আগারওয়ালা বলেন, কৃষি ও শিল্প সমৃদ্ধ এ জেলার মানুষ যথেষ্ট সচ্ছল। কিন্তু তাদের নেই পরিকল্পিত জীবন ব্যবস্থা। গতানুগতিক ভাব ধারায় পিছিয়ে পড়েছে জেলার শিক্ষা ব্যবস্থা। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নেই কোনো বৈদ্যুতিক ফ্যান ও মিড ডে মিলের ব্যবস্থা। এসব দুর্ভোগে কারও মাথাব্যথা নেই। তিনি বলেন, স্বল্প পরিসরে হলেও নিজ উদ্যোগে কয়েকটি বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করে দিয়েছি। এ জেলায় নেই কোনো আইটি শিক্ষা ব্যবস্থা। যেটা এখনকার সময়ে ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ক্ষেত্রে খুবই প্রয়োজন। নানা সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষা ব্যবস্থার আমল পরিবর্তনে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

    তিনি বলেন, কৃষি সমৃদ্ধ এ জেলায় ‘কৃষি’ ব্যবস্থাপনার ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সর্বস্তরে কৃষি উপকরণ ও সহায়ক বিতরণের ব্যবস্থা এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সঠিক নেতৃত্বের অভাবে জীবননগর উপজেলার দৌলতগঞ্জ-ভারতের মাঝদিয়া স্থলবন্দর হচ্ছে না। এ বন্দরটি চালু হলে স্থাপনা ও কলকারখানা গড়ে উঠবে, হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। এ ক্ষেত্রে কারও মাথাব্যথা নেই। ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

    এছাড়াও পৃথিবীর বৃহৎ দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি চিনিকলটি দামুড়হুদায় অবস্থিত। এরসাথে জড়িয়ে আছে বড় জনগোষ্ঠীর জীবিকার পথ। আশাতীত আখ উৎপাদন না হওয়ায় আধুনিক এ চিনিকলটি মাড়াই মৌসুমের আগেই কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এ ক্ষেত্রে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে আসেননি। ফেলে দেয়া বজ্য দিয়ে আকন্দবাড়িয়ায় তৈরি হয়েছে জৈব সার কারখানা। উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কারও কোনো ভুমিকা নেই।

    দর্শনায় রয়েছে বাংলাদেশ-ভারত যাওয়ার আন্তর্জাতিক রেলস্টেশন ও রেল ইয়ার্ড। ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ থাকায় এটা একটি রেলওয়ে বন্দর করা যেতে পারে। এখানে যাত্রীদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। দর্শনার জয়নগরে রয়েছে একটি চেকপোস্ট। যেখান থেকে প্রতিদিন শত শত যাত্রী ভারতে যাতায়াত করেন। কিন্তু ভ্রমণ কর গ্রহণে কোনো ব্যাংক না থাকায় যাত্রীদের ৫ কি.মি. দূরে যেতে হয়। চেকপোস্টে স্বাধীনতার পর থেকে দুিট কক্ষে ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও উদ্ভিদ সংগনিরোধ এবং বাইরে চিকিৎসকদের কার্যক্রম চলছে। দীর্ঘ বছরেও যাত্রীদের জন্য আধুনিক পরিসেবা চালু হয়নি।

    তিনি বলেন, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ জেলার একাংশের যাত্রীরা ট্রেনে যাতায়াত করেন। আসন সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় ভয়াবহ দুর্ভোগের মধ্যে ঢাকামুখী যাত্রীরা ট্রেনে ভ্রমণ করছেন। বাধ্য হয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে খুলনা ও যশোর থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এক্ষেত্রে চুয়াডাঙ্গা-ঢাকা রুটে আপ ও ডাউন ৪টি ট্রেন প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া আলমডাঙ্গা উপজেলায় কুমারী ভেটেরিনারি ট্রেনিং ইনিস্টিটিউটে ১৫টি জেলার শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ নেন। পূর্ণাঙ্গ ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাব আজও কেউ রাখেননি।

    দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তায় বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালিত হয়। দৃশ্যমান কাজের পেছনে ব্যবসায়িক কমিশন জড়িয়ে আছে। প্রতিবাদের ভাষাটুকুও এলাকার মানুষ হারিয়ে ফেলেছে। তাই এলাকাবাসী তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজন অনুভব করছে। এখানকার মানুষের প্রাণের টানেই সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    তিনি বলেন, এ জনপদকে এগিয়ে নেয়ায় মিডিয়াকর্মীরা দিন-রাত নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের নিজস্ব ভবন থাকলেও আধুনিক কোনো প্রযুক্তির তেমন ছোঁয়া নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে একাধিকবার ধরনা দিয়েও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো নির্মাণে তারা সুফল পাননি। অবশেষে নিজ উদ্যোগে দায়িত্ব নিয়ে এ ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। যা বর্তমানে শেষের দিকে। তিনি বলেন, তৃতীয় তলায় আধুনিক মিলনায়তন তৈরি হবে। যেখানে সাংবাদিকরা স্বাচ্ছন্দ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

    দিলীপ কুমার আগরওয়ালার পরিচিতি:

    ১৯৬৮ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার এক সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা অমিয় কুমার আগরওয়ালা তৎকালীন জার্মানির কোলন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে বাবার ব্যবসার হাল ধরেন। তিনিও ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তিন পুরুষের শিক্ষা ও ব্যবসায়িক ঐতিহ্যপূর্ণ পারিবারিক ছোঁয়ায় শৈশব থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালার আগ্রহ পরিলক্ষিত হয়। চুয়াডাঙ্গায় প্রথম শুরু করেন ঠিকাদারি ও অন্যান্য ব্যবসা যা আজ সারা দেশে বিস্তৃত। পাশাপাশি খেলাধুলা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিও আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। তারুণ্যের এক স্বর্ণকালেই তাঁর মধ্যে পরিলক্ষিত হয় ব্যবসায় নেতৃত্বের আকাক্সক্ষা। চুয়াডাঙ্গা জেলার ব্যবসায়িক সংগঠনসহ বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িয়ে পড়েন।

    এপর্যায়ে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির জেলা ইউনিট ও চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। বিগত তিন বছর তিনি জেলার সর্বোচ্চ করদাতার স্বীকৃতিও অর্জন করেন। চুয়াডাঙ্গার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তার পরিবারের যেমন সুনাম রয়েছে। তেমনি ব্যক্তিগতভাবে তিনিও দানবীর হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তার বিচক্ষণ নেতৃত্বের ফলে সাফল্য ধরা দেয় হাতের মুঠোয়। ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের প্রিয় পাত্রে পরিণত হন। নির্বাচিত হন জেলা চেম্বারের পরিচালক, একই সঙ্গে শিল্পকলা একডেমি, সাহিত্য পরিষদ, রোগী কল্যাণ সমিতি, দৈনিক মাথাভাঙ্গার উপদেষ্টা ও আজীবন সদস্য পদ লাভ করেন। শুরু করেন সিনেমা ব্যাবসা, পান্না মুভিজের ব্যানারে বেশ কিছু ব্যবসা সফল ছবি নির্মাণ করেন। পাশাপাশি পান্না জুয়েলার্স নামে প্রথম আমদানিকৃত ডায়মন্ড জুয়েলারির ব্যবসা শুরু করেন। একই সময় শুরু করেন এ্যাগ্রো বিজনেস ও পরিবহন ব্যবসা।

    এছাড়াও কুষ্টিয়ার হরিনারায়ণপুরে পান্না সিনেমা হল ও ভেড়ামারায় প্রতিষ্ঠা করেন সজনী সিনেমা হল। ঢাকাস্থ চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতির একজন সম্মানিত সদস্য হিসেবে তিনি কাজ শুরু করেন ঢাকায় পা দেয়ার সময় থেকেই। বাংলাদেশ মেইজ এ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে তিনি লাভ করেন এফবিসিসিআইর প্রথম সদস্যপদ। বাংলাদেশ প্রযোজক সমিতি, বাংলাদেশ লায়ন্স ক্লাব, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি, বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির গর্বিত সদস্য পদ লাভ করেন। পণ্যের গুণগত মানের ব্যাপারে তিনি সব সময়ই আপসহীন ও নিষ্ঠাবান। তার সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি আর সফল নেতৃত্বের ফলে বিশ্বমানের ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড বাংলাদেশের প্রথম জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের জন্ম দেন। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের পাশাপাশি তিনি একই ধরনের গুণগত মান ও সেবাব্রত নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন একের পর এক প্রতিষ্ঠান। ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড (বিডি) লিমিটেড, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড মিডিয়া লিমিটেড ও গোল্ড ল্যাব লিমিটেড।

    ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতা থেকে দেশের ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করার তাগিদে ২০১৫-২০১৭ সালের নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর পরিচালক পদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬-২০১৮ মেয়াদে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদকের পদেও আসীন হন। ব্যবসা শুধুমাত্র মুনাফার জন্য নয় জনসেবাও বটে। দেশ, সমাজ ও পৃথিবীর জন্য। এ মূলমন্ত্রে তার দাদার নামে গড়ে তোলেন দোয়ারকা দাস আগরওয়ালা মহিলা কলেজ।

    দিলীপ কুমার আগরওয়ালা তার সামাজিক কর্মকাণ্ডকে স্থায়ী রূপ দিতে প্রতিষ্ঠা করেন চুয়াডাঙ্গায় তারা দেবী ফাউন্ডেশন। যেখান থেকে গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, নবজাতককে দেয়া হয় ২৪ ঘন্টা ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, শিক্ষাবৃত্তি, অতি দরিদ্র এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিল। মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি, বৃদ্ধাশ্রম ও অন্যান্য কার্যক্রম। সম্প্রতি তিনি মাদার তেরেসা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757