• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসছেন যারা

    উৎপল দাস | ২৯ জুলাই ২০১৭ | ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

    ছাত্রদলের নেতৃত্বে আসছেন যারা

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর প্রথমেই ঘোষণা করা হবে মেয়াদোত্তীর্ণ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি। বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত এ সংগঠনটিকে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঢেলে সাজানো হবে। বলে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তাই এবারের কমিটিতে রাখা হবে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব। এক্ষেত্রে দলের হাইকমান্ডের নজর ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের কমিটির দিকে। তবে সংগঠনটির মূল নেতৃত্বে রাখা হতে পারে ২০০০ সালের এসএসসি শিক্ষাবষের্র ছাত্রনেতাদের। যারা বর্তমান কমিটির সম্পাদকীয় পদে রয়েছেন।


    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুলাই সন্ধ্যায় প্রথম দলের সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেন লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঘরোয়া পরিবেশে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় তারেক রহমানের বাসায়। দলের বিভিন্ন কমিটির পাশাপাশি বাংলাদেশের সর্বিক রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে। তবে ওই বৈঠকে ছাত্রদলের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।

    ajkerograbani.com

    জানা গেছে, ওই বৈঠকে খালেদা জিয়া-তারেক রহমান ছাড়াও দলের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। যারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডনে যাওয়ার সময় বিমানসঙ্গী ছিলেন এবং খালেদা জিয়া যাওয়ার আগে সেখানে অবস্থান করছেন।

    উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই খালেদা জিয়া লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। ওইদিন তার সফরসঙ্গী ছিলেন, তার একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল ও গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগম। অন্যদিকে সফরসঙ্গী না হলেও লন্ডনের একটি সম্মেলনে যোগ দিতে আগে থেকে অবস্থান করেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। পরে তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ ছাড়া গত কয়েক দিনে বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতা লন্ডন গেছেন।

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ঐকমত্যে পৌছালেও ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে দীর্ঘ হয় আলোচনা। প্রথমে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে কথা তোলেন তারেক রহমান। বৈঠকে বর্তমান কমিটির বিভিন্ন সমস্যার দিক তুলে ধরেন তিনি এবং এ কমিটি নিয়ে তিনি খালেদা জিয়ার আগামী পরিকল্পনা জানতে চান।

    বৈঠকে খালেদা জিয়া বলেন, একটু অভিজ্ঞদের দিয়েই এবারের কমিটি সাজাতে হবে। না হলে আগামী সরকার বিরোধী আন্দোলন সফল করা সম্ভব হবে না। এই যুক্তির সঙ্গে একটু দ্বিমত পোষণ করে তারেক জিয়া বলেন, আন্দোলনের মাঠ দখল করতে হলে ছাত্রদলকে ঢেলে সাজাতে হবে। তারুণ্যনির্ভর সংগঠন করতে হবে। আর বয়স্কদের দিয়ে হবে না। অল্প দিনের মধ্যে এই কমিটি করতে হবে। আর খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেন দেশে গিয়ে কিছু দিনের মধ্যে এ কমিটির সব প্রক্রিয়া শেষ করতে।

    এ সময় তারেক রহমান ২০০০ সালে এসএসসি শিক্ষাবর্ষে যেসব ছাত্রনেতা আছে, তাদের দিয়ে আগামী কমিটি করার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কমিটির প্রতি গুরুত্ব দেন তিনি।

    এসব আলোচনার কারণে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মনে করেছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ এ সংগঠন গতিশীল করার জন্য যেকোনো ফর্মেটেই দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান।

    নেতাকর্মীরা মনে করছেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসার পাশাপাশি সাংগঠনিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে শলাপরামর্শ করবেন। এর মধ্যে ছাত্রদলের কমিটি অন্যতম। এজন্য সংগঠনটির নেতাকর্মীরা প্রত্যাশায় উজ্জীবিত হয়ে উঠছেন। ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন তারা। লবিং-তদবিরেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন এরা। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে ধন্না দিতেও শুরু করেছেন অনেক ছাত্রনেতা। আবার অনেকে বিগত দিনের আন্দোলনে ভূমিকার জন্যও আশাবাদী হয়ে উঠছেন।

    সূত্র জানায়, এবার ঢাকা মহানগর ছাত্রদলকে চার ভাগে ভাগ করার পরিকল্পনাও রয়েছে । ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম এ চারটি শাখায় ভাগ করে কমিটি দেয়া হতে পারে। এসবের বাইরে জেলা কমিটিগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। গড়ে সাত বছর ধরে জেলায় কমিটি করা হচ্ছে না। ফলে মাঠপর্যায়ে সংগঠন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সংগঠনটির একজন সহসভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকার বাইরে সরকারি কলেজগুলোতে ছাত্রদলের কমিটি নেই। যে কারণে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ডাকতে পারেন না। ডাকলেও কর্মসূচি সফল হয় না।

    দপ্তর সূত্রমতে, সারাদেশে সংগঠনটির ১০৭টি সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক ইউনিট রয়েছে ২৯টি। যার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি রয়েছে মাত্র ৭টি ইউনিটে। ইউনিটগুলো হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ, মিরপুর। এগুলোর মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি বিগত কমিটির আমলে পূর্ণাঙ্গ হয়েছে। বাকি ইউনিটগুলোতে আংশিক কমিটি রয়েছে। ঢাকা কলেজ ও তিতুমীর কলেজে ঢাউস কমিটি করা হয়েছে। এই দুই কমিটির প্রত্যেকটিতে প্রায় ৭০০ নেতাকর্মীকে স্থান দেয়া হয়েছে। এ ধরনের ঢাউস কমিটির কারণে সংগঠনটিকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

    এদিকে ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে আসতে পারে না। তারপরও ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলশাখাগুলোর কমিটি গঠন করা হয়। এক বছর মেয়াদি বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি ইতোমধ্যে তাদের মেয়াদ শেষ করেছে। হল কমিটিগুলোর মেয়াদ ছিল তিন মাস। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হল কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা হয়নি।

    উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানকে দায়িত্ব দিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছিল। খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দু’বছর। এই কমিটি প্রায় নয় মাস আগে নির্ধারিত সময় পার করেছে। কিন্তু এখনো নতুন কমিটি ঘোষিত হয়নি।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755