• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ছাত্রলীগকে তার ঐহিত্যের পথেই হাঁটতে হবে

    ফারুক আহম্মেদ (জাপানী ফারুক) | ২৫ জুলাই ২০১৭ | ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

    ছাত্রলীগকে তার ঐহিত্যের পথেই হাঁটতে হবে

    ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা হওয়া এই ছাত্রলীগের বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের উন্মেষকাল মাতৃভাষা রক্ষার আন্দোলন ‘মহান ভাষা আন্দোলন’ এ নেতৃত্ব দেয়ার মাধ্যমে রক্তাক্ত ও সংগ্রামী যাত্রা পথের সূচনা হয়। এরপর থেকে সংগঠিত প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রলীগ তার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সফল হয়। আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী, শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ছাত্রলীগের গৌরবদীপ্ত ও অবিস্মরণীয় ভূমিকা আজ সর্বজনস্বীকৃত ইতিহাসের অংশ।১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অবদান ছাত্রলীগের ইতিহাসকে দান করেছে অনন্য বৈশিষ্ট। জাতির স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনে ছাত্রলীগ একটি সংগঠিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে ওঁৎপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত করতে অত্যন্ত সফলভাবে সমর্থ হয়। একটি সংগঠন হিসেবে দুর্জয়ী কাফেলায় পরিণত হয়েছে। এজন্য হারাতে হয়েছে অসংখ্য নেতাকর্মী। সংগঠনের অসংখ্য শহীদ, অগণিত নেতাকর্মীর জেল-জুলুম-কারাবরণ, নির্যাতন-নিপীড়ন ভোগ, আর নেতা-কর্মীদের এক নদী রক্তের বিনিময়ে রচিত হয়েছে এক সফল রক্তাক্ত ইতিহাস ও স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ।
    তারুণ্যের যে অমিত শক্তি এবং বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস সেটি যেমন আশার দিক আবার এই তারুণ্যই যদি বিপথে চলে সেটাও এক ভয়াবহ বিপদের কারণ। বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া ছাত্রলীগ এক ঐতিহ্যবাহী সংগঠন, ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাসহ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে রয়েছে ছাত্রলীগের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা।
    বর্তমান ছাত্র নেতৃত্বকে সেই ঐতিহ্যের পথ ধরেই হাঁটতে হবে। সামনে শোকাবহ আগস্ট মাস। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। পেয়েছি লাল সবুজ পতাকা। বঙ্গবন্ধু শুধু একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের মর্যাদা দিয়ে যানটি বরং দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং ত্যাগ তিতিক্ষার চরম পরাকাষ্টা দেখিয়ে গেছেন তিনি জীবন দিয়ে। তাঁর পরিবারও রেহাই পায়নি ঘাতকের নির্মম জিঘাংসা থেকে।
    বঙ্গবন্ধু যে দেশপ্রেম এবং অনাড়ম্বর জীবনের দীক্ষা দিয়ে গেছেন সে পথেই হাঁটতে হবে ছাত্রলীগ নেতৃত্বকে। মানুষের প্রতি তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বাস হারাননি। ছাত্রনেতৃত্বও যদি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে চায় তাহলে মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ীই তাদের কাজ করতে হবে। শেখ হাসিনাই যদি ছাত্রলীগের শেষ ঠিকানা হয়ে থাকে তাহলে ‘অস্ত্র নয়, কাগজ কলমই ছাত্রদের হাতে শোভা পায়’ তার এই মন্ত্রে বিশ্বাস রাখতে হবে। নতুন নেতৃত্ব আর কোনো বিতর্কে জড়াবে না এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশকে তারা নেতৃত্ব দিয়ে সত্যিকারের সোনার বাংলায় পরিণত করবে- এই নিঃস্বার্থ মানসিকতা তাদের কাছে প্রত্যাশা করে দেশের মানুষ। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধে ওঠে দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে। পূর্বসূরিরা যে পথে হেঁটে ছাত্রলীগকে জনমানুষের সংগঠনে পরিণত করেছেন সেই ঐহিত্যের পথেই তাদের হাঁটতে হবে।
    লেখক : সহ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ কমিটি, সাধারণ সম্পাদক জাতীয় শ্রমিক লীগ আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটি ও সহ সভাপতি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755