• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ, নতুন কমিটির প্রত্যাশা

    অনলাইন ডেস্ক | ২৬ জুলাই ২০১৭ | ৩:২৫ অপরাহ্ণ

    ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ, নতুন কমিটির প্রত্যাশা

    ছাত্রলীগের ২৮তম সম্মেলনে নির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তী সময়ে ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি আজ দুই বছরপূর্তি করছে। গঠণতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি দুই বছরমেয়াদি হলেও ৯০-এর পর সব কমিটিই মেয়াদের বেশি সময় দায়িত্বে থেকেছে। এবারো সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বলছেন, সম্মেলন অনুষ্ঠানের মতো সব প্রস্তুতি তাদের রয়েছে- প্রধানমন্ত্রী বললেই সম্মেলন আয়োজন করা হবে। ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই সম্মেলনের মাধ্যমে সাইফুর রহমান সোহাগ ছাত্রলীগের সভাপতি এবং জাকির হোসাইন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আজ ২৬ জুলাই ছাত্রলীগের এই কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে।


    আওয়ামী লীগের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের মতো ছাত্রলীগেও তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের একচ্ছত্র প্রভাব। ২৮তম সম্মেলনে নির্বাচিত সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের দুই বছরের সাফল্য-ব্যর্থতার মূল্যায়নে কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।

    ajkerograbani.com

    ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এমন বেশ কয়েকজনের মূল্যায়ন হলো- সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছু ক্ষেত্রে স্থবিরতা থাকলেও তারা শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পেরেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কমিটিতে কিছু সমন্বয়ের অভাব ফুটে উঠেছে। আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, শৃঙ্খলা ধরে রাখার বিষয়ে ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্ব ৭০ ভাগ সফল। ছাত্রলীগের দফতর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা জানান, সারাদেশে গত দুই বছরে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাময়িক ও স্থায়ী বহিষ্কার হয়েছেন ৩০৬ নেতাকর্মী।

    শৃঙ্খলা ধরে রাখার পাশাপাশি বাইরে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক জড়িয়েছেন বেশ। এসব সামাজিক কর্মকাণ্ড সব সময় সাংগঠনিক ছিল তেমন না; অনেক সময় ব্যক্তি উদ্যোগে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন। তবে ছাত্রলীগ সম্পাদক জাকির হোসাইন বলেন, মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই সামাজিক এবং রাজনৈতিক। আপনি সামাজিক কর্মকাণ্ডকে রাজনীতি থেকে আলাদা করতে পারেন না। বিগত সময়ের এমন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ছিল- বন্যা, হাওর ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান ও বিনামূল্যে মেডিকেল টিম প্রেরণ, ভ্যাটবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। তবে এ সময়ে ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইমরান খানের তৎপরতায় ২১টি দেশে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সর্বশেষ বিবাহিতদের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়ে পদত্যাগ করতে বলা হলে সারাদেশে ব্যাপক সাড়া মেলে। সারাদেশে এ পর্যন্ত ২২০ জন বিবাহিত নেতা পদত্যাগ করেছেন। তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। যেসব জেলার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বিবাহিত আছে, এমন ১৫টি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য তাদের কিছুদিন সময় দেয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় কমিটির ছয় বিবাহিত নেতাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ নেত্রীদের বিষয়ে বিয়ের নিয়মানুযায়ী শিথিলযোগ্য।

    অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক তৎপরতায় বরাবরের মতোই ছাত্রলীগের সাবেক নেতা, জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা, মন্ত্রী-এমপি ও কথিত সিন্ডিকেটের প্রভাবে অনেক সময় বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বিভিন্ন জেলায় স্থবিরতার পেছনে এটাও একটা বড় কারণ। চট্টগ্রাম, পাবনা, বরিশালসহ বেশকিছু জেলায় এখনো এ স্থবিরতা বিরাজমান। বিভিন্ন জেলা সম্মেলন নিয়ে অনেক সময় এসব সিনিয়রদের নানাবিধ সুপারিশে খোদ ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও অসহায় হয়ে পড়েন। কিছু জেলায় বড় বড় অনেক নেতাকে ম্যানেজ করে সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত করতে হয়। তাই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন একটু ধীরগতিতে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাদের গ্রুপিংয়ের কারণে বিভিন্নস্থানে ছাত্রলীগ সংঘর্ষে জড়ায়। দুর্নাম ছাত্রলীগকে নিতে হলেও এর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগকে দেখভাল করছেন অনেক বেশি। প্রায়ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনেও যাচ্ছেন। তবে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে ছাত্রলীগে।

    এমন পরিস্থিতিতে দুই বছরে ১১০টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিটের মধ্যে সম্মেলন ও সম্মেলন ছাড়া কমিটি করেছেন মাত্র ৪১টি ইউনিটে। পূর্বের আংশিক কমিটির প্রায় ১০৩টি ইউনিট পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। প্রতিনিধি সভা হয়েছে চার বিভাগে। চট্টগ্রাম দক্ষিণে কমিটি নেই, উত্তরের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ, বরিশাল মহানগর ও জেলা অনেক বছর ধরে চলছে বিবাহিতদের নিয়ে। সিলেট বিভাগের বেশ কয়েকটি ইউনিট মেয়াদোত্তীর্ণ। জেলা কমিটির মেয়াদ এক বছর। সে হিসেবে নতুন ঘোষিত কমিটিগুলো ছাড়া মেয়াদ আছে এমন জেলা ইউনিট খুব একটা নেই। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়েছিল ২০১৪ সালের ১০ মার্চ। সে কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো অনুমোদন করেনি কেন্দ্রীয় কমিটি। চলতি বছরের মার্চের ৩০ তারিখ প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কিন্তু সম্মেলনের চার মাসেও কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

    দায়িত্ব পাওয়ার শুরুর দিকে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের যে উচ্ছ্বাস ও কর্মপরিকল্পনা ছিল আস্তে আস্তে তা মিলিয়ে গেছে অনেকটা। দায়িত্ব পাওয়ার পরপর ইউনিয়নে পর্যন্ত সম্মেলন করার পরিকল্পনা ছিল ছাত্রলীগ সভাপতির। দুই বছর পর এসে এখন জেলা ইউনিটগুলোর সম্মেলন করতেই হিমশিম খাচ্ছেন শীর্ষ দুই নেতা। তবে সিলেট ও রাজশাহী বিভাগের বেশ ক’টি উপজেলায় প্রায় ১৫-২০ বছর পর সম্মেলন করে কমিটি করেছে বর্তমান কমিটি। কিন্তু দুই বছরে মাত্র একটি সাধারণ সভা ও দুটি বর্ধিত সভা করেছে বর্তমান কমিটি। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক নেতা সমালোচনা করেছেন ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতার। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির অনেক সিনিয়র ছাত্রনেতার সঙ্গে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়ের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ সাধারণ সভায় হট্টগোলের বিষয়টি আলোড়ন তুলেছে দেশজুড়ে। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার কয়েক নেতা অভিযোগ তুলেছেন, তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলার অনেক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত তাদের না জানিয়েই নেয়া হয়। সম্প্রতি হওয়া কয়েকটি জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন বিষয়ে আলাপকালে তারা এমন অভিযোগ জানান। তবে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন বলেন, এসব ভ্রান্ত অভিযোগ। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই সারাদেশে সম্মেলন হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তুলেন, তারা না জানলে সম্মেলনে অতিথি হয়ে অংশ নেন কিভাবে?

    ছাত্রলীগে মেয়াদের পর দায়িত্বে থাকা নতুন কিছু নয়; ২৯ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করার পরও গত দুটি কমিটি মেয়াদের বেশি ছিল। আর এর আগে লিয়াকত সিকদার-নজরুল ইসলাম বাবু, বাহাদুর ব্যাপারী-অজয় কর খোকন, একেএম এনামুল হক শামীম- ইসহাক আলী খান পান্না মেয়াদের বেশি সময় ছিলেন। ২০০৬ সালে সম্মেলনে মাহমুদ হাসান রিপন ও মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন দায়িত্ব নিয়ে দায়িত্ব ছাড়েন ২০১১ সালে। বদিউজ্জামান সোহগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলমও মেয়াদের দুই বছর দায়িত্ব ছাড়েন। তবে রিপন-রোটন কমিটি বর্ধিত মেয়াদের পেছনে ১/১১ সময়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সোহাগ-নাজমুল ঢাল বানিয়েছিলেন ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে। আর বর্তমান কমিটি ২০১৯ সালের নির্বাচনের জন্য মাঠে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

    ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নানা সীমাবদ্ধতার কথা বললেও, অন্য নেতারা বলছেন- সদিচ্ছা থাকলে এ কমিটি সঠিক সময়ে সম্মেলন দিয়ে গঠনতান্ত্রিক ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারত। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আদিত্য নন্দী বলেন, ইতিহাস সৃষ্টি করতে হলে মাঝেমধ্যে প্রচলিত রীতির নামে যে অপরীতি রয়েছে, তা ভেঙে এগোতে হয়। লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রলীগ সে রকম ইতিহাস সৃষ্টির পথে পা বাড়িয়েছে। যথাসময়ে তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন ঘোষণার মাধ্যমে। আমরা যারা দায়িত্বশীল জায়গায় রয়েছি, তারা যেন তাদের সেই ইতিহাস সৃষ্টির পথে বাঁধা হয়ে না দাঁড়াই। বরং তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেরা ইতিহাস সৃষ্টির দুর্গম পথে পা বাড়াই।

    জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে সারাদেশে ছাত্রলীগে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে আমরা সোচ্চার ছিলাম। ছাত্রলীগ একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন। আমরা সবার সমালোচনা শুনি, এবং সে সমালোচনা কার্যকর করা দরকার হলে তা কার্যকরও করি। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমান ছাত্রলীগ বেশি জনসচেতন ও বেশি জনসম্পৃক্ত।

    ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন বলেন, দায়িত্ব পালনের দুই বছর হয়েছে আমাদের। আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি, ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠন পরিচালনার। আমরা ছাত্রলীগ দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হয়ে কাজ করি। তার কণ্টকাকীর্ণ চলার পথকে মসৃণ করার দায়িত্বও আমাদের। সূত্র: মানবকণ্ঠ

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755