• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    জঙ্গিদের তৎপরতা জন্য অর্থ আসছে কোথা থেকে?

    অনলাইন ডেস্ক | ৩০ এপ্রিল ২০১৭ | ৮:০০ পূর্বাহ্ণ

    জঙ্গিদের তৎপরতা জন্য অর্থ আসছে কোথা থেকে?

    সম্প্রতি নব্য জেএমবির বিভিন্ন আস্তানায় অভিযান শেষে মিলছে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, শক্তিশালী বোমা, বোমা তৈরির উপকরণ ও ছোট-বড় আগ্নেয়াস্ত্র। ঘর ভাড়া করে দেয়া হচ্ছে জঙ্গিদের আত্মঘাতী হওয়ার প্রশিক্ষণ। জঙ্গিদের এসব কার্যক্রম চালাতে প্রয়োজন বিপুল অংকের অর্থের। একের পর এক জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর তাই প্রশ্ন উঠেছে কারা এদের অর্থ দিচ্ছে?


    সূত্রমতে, জঙ্গিদের এই কর্মকাণ্ডে যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন তা নাকি আসছে দেশি-বিদেশি ‘দাতাদের’ কাছ থেকে। পাশাপাশি তারা তহবিল গঠনে ছিনতাই, ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি, স্বর্ণ চোরাচালানসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তবে এতো বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বোমা ও বিস্ফোরক দ্রব্য জব্দের পর বিস্ময়ের ঘোর কেটে সবার প্রশ্ন একটাই- জঙ্গিদের অর্থের উৎস কোথায়?

    ajkerograbani.com

    আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের পর সীতাকুন্ডের জঙ্গি আস্তানা ছায়ানীড় থেকে জব্দ করা হয় পাঁচ ড্রাম উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এবং এক ড্রাম অ্যাসিড। জব্দ করা প্রতি ড্রাম বিস্ফোরকের দাম কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত। শুধু কি তাই? এ আস্তানা থেকে আরো জব্দ করা হয়, ৩-৫ কেজি ওজনের ৩৯টি শক্তিশালী বোমাও।

    এছাড়া গত দুই বছরে শুধু চট্টগ্রাম থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে এমকে-১১, একে-৪৭, একে-২২ এর মতো শতাধিক মারণাস্ত্র ও গ্রেনেড। বোমা তৈরির বিস্ফোরক জব্দ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টন। এসব অস্ত্র ও বিস্ফোরকের দাম অন্তত ৬০ কোটি টাকা।

    বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জঙ্গিদের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে অর্থ। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত অর্থায়ন বন্ধ করা গেলে জঙ্গি তৎপরতা অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়বে। কিন্তু জঙ্গি অর্থায়ন ঠেকাতে আগে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা প্রয়োজন এই অর্থায়নে জড়িত কারা। যদিও সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী বিভিন্ন সময় বলছেন, জঙ্গি অর্থায়নে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই জড়িত। তবে সেই অর্থায়নকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এখনও আনা হয়নি।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিও, মানি এক্সচেঞ্জার এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জঙ্গিদের অর্থায়নের জড়িত। আবার বিদেশ থেকে বিভিন্ন উপায়ে জঙ্গিদের কাছে অর্থ আসছে। বর্তমানে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ লেনদেনে কড়াকড়ি থাকায় অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমেই টাকা আসছে জঙ্গিদের হাতে।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. সিকান্দার খান বলেন, দেশীয় অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীরাই জঙ্গিদের হাতে অস্ত্র-বিস্ফোরক পৌঁছে দিচ্ছে। বিদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে সেই অর্থ পরিশোধ হচ্ছে। আর এ দেশের এজেন্টরা টাকা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জঙ্গিদের কাছে মালামাল সরবরাহ করছে। এ জন্য জঙ্গিদের অর্থায়ন বন্ধে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    বাংলাদেশে বর্তমানে জঙ্গিদের যে তৎপরতা চলছে, সেগুলোর অর্থায়নের সাথে বিদেশী সংস্থার যোগসাজশ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। ঢাকায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান আজ এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেছেন।

    মনিরুল ইসলাম বলেন, “কখনো কখনো দেখেছি জেএমবির কিছু কিছু সদস্য জাল মুদ্রা ব্যবসার সাথে জড়িত, সেই জাল মুদ্রাটি অন্য একটি বিশেষ দেশ থেকে আসে, ইন্ডিয়ান ফেইক কারেন্সি।”

    “তো সেই ক্ষেত্রে কোন কোন বিদেশি সংস্থার সম্পৃক্ততার বিষয়টি এসেছে এবং কখনো কখনো কোনো কোনো দেশের দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তা প্রত্যাহার করেও নেওয়া হয়েছে, তাকে ফেরত পাঠানোও হয়েছে। তো সেই ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও তো কোন বিদেশী সংস্থার জড়িত থাকার কথা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাবে না,” বলেন তিনি।

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের জঙ্গিবিরোধী অভিযান যেমনটি বেড়েছে তেমনি বেড়েছে পুলিশের ভাষায় সাফল্যের হারও।

    গত বছর জুলাই মাসে ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ নতুন করে সহিংস জঙ্গিবাদের যে উত্থান দেখেছে, সেই ঘটনার পর কিন্তু জঙ্গিদের দ্বারা খুব বেশী ক্ষয়ক্ষতি হবার নজির দেখা যায়নি, যতটা জঙ্গিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুলিশের দ্বারা।

    এমনকি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় চাঁপাইনবাবগঞ্জে শেষ হওয়া পুলিশের একটি অভিযানে চারজন অভিযুক্ত জঙ্গি নিহত হয়েছে।

    কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে পুলিশের ভাষায় ‘নব্য জেএমবি’ নামে যে গ্রুপটি বাংলাদেশে সক্রিয় রয়েছে, তারা বেশ আঁটসাঁট বেঁধেই মাঠে নেমেছে। কিন্তু এ জন্য অর্থ আসছে কোথা থেকে?

    মি. ইসলাম বলছেন, “এখন পর্যন্ত অর্থের সকল উৎসকে আমরা চিহ্নিত করতে পারিনি।” সম্প্রতি বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সন্ত্রাসবাদে বিদেশী অর্থ সংস্থানের উৎসগুলো চিহ্নিত করবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে বলে জানা যাচ্ছে।

    তবে জঙ্গি বিষয়ে গবেষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক নুর খান লিটন বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতায় প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিদেশী সংস্থা জড়িত এমন কথা বলার সময় এখনো আসেনি। “আমাদের সামনে এরকম বড় ধরণের তথ্য বা প্রমাণ নেই। তবে যেটা এসেছে, সেটা হল স্ব-উদ্যোগে কোন কোন বিদেশী এ ধরণের ঘটনায় অর্থ সাহায্য করেছেন।”

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই জঙ্গিরা কিভাবে চলে?

    পুলিশ বলছে, মূলত দেখা যাচ্ছে অভিযুক্ত জঙ্গিরাই হিজরত অর্থাৎ সংগঠনে যোগদানের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়ার আগে তাদের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি জঙ্গি সংগঠনের জন্য দান করে দিচ্ছেন। কিন্তু নূর খান লিটনের বক্তব্য, বাংলাদেশে যে কায়দায় জঙ্গিরা তাদের তৎপরতা চালাচ্ছে, তাতে তাদের খুব বেশী অর্থের প্রয়োজন হয় বলে তিনি মনে করেন না।

    মি. খান বলছেন, “এ ধরণের তৎপরতা চালাতে যে অর্থ প্রয়োজন তা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেই মেটানো সম্ভব এবং এখনও পর্যন্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমন নজিরই দেখা গেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, জঙ্গিদের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং থাকা খাওয়ার যে ব্যয় তা তাদের সদস্যরাই যোগান দিচ্ছে। হাতে গোনা কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে তাদের অর্থায়ন হচ্ছে বাইরে থেকে।”

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757