• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    জলজটের সঙ্গে যানজট, ভোগান্তিতে নগরবাসী

    অনলাইন ডেস্ক | ২৬ জুলাই ২০১৭ | ৩:১৫ অপরাহ্ণ

    জলজটের সঙ্গে যানজট, ভোগান্তিতে নগরবাসী

    শেষ রাত থেকে টানা বর্ষণে রাজধানীর রাজপথে কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমর ছাড়িয়েছে; জলজটের সঙ্গে যানজটে নগরজুড়ে ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ।


    লঘুচাপের প্রভাবে ঢাকাসহ সারা দেশেই গত রোববার থেকে ভারি বর্ষণ চলছে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    ajkerograbani.com

    টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনের গতি কমে সৃষ্টি হচ্ছে জট। বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়ন কাজের জন্য বেহাল রাস্তায় ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।

    এর মধ্যে গণপরিবহন কম থাকায় চরম আকার ধারণ করেছে মানুষের দুর্ভোগ। সকালে বৃষ্টির মধ্যে প্রায় কেউই সময়মত কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।

    মহাখালীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে অনীক সকালে পান্থপথের বাসা থেকে অফিসে পৌঁছেছেন সোয়া দুই ঘণ্টায়।

    তিনি জানান, ভারি বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানবাহন অন্য দিনের তুলনায় কম। ফলে গাড়ি পেতেই সবার সমস্যা হচ্ছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবন্ধতার কারণে যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়।

    “ফার্মগেইট বাসস্ট্যান্ড থেকে বিজয় সরণীর মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার যেতেই আমার লেগেছে ৫৫ মিনিট। মনিপুরী পাড়ার এক নম্বর গেইট থেকে বিজয় সরণি মোড় পেরিয়ে পুরো রাস্তায় পানি জমে আছে।”

    এনজিও কর্মী মোস্তাফিজুর রহমানের দক্ষিণ বনশ্রী থেকে গুলশান এক নম্বরে যেতে সময় লেগেছে প্রায় দুই ঘণ্টা। প্রগতী সরণিতে পানি জমে থাকায় ওই সড়কে দীর্ঘ যানজটের কথা জানিয়েছেন তিনি।

    বিমানবন্দর সড়কে বনানীগামী রাস্তা যানজটে একপ্রকার অচল হয়ে থাকতে দেখা যায় বেলা ১০টার পর। শেওড়া বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানামার জন্য বাসগুলো এলোমেলোভাবে থামানোয় খিলক্ষেত থেকে শেওড়া পর্যন্ত যানজট রয়েছে।

    উন্নয়ন কাজ চলায় যমুনা ফিউচার পার্কের পর থেকে প্রগাতী সরণির প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তায় যানজট থাকায় তার চাপ পড়েছে সড়কের অন্যান্য অংশেও। খিলক্ষেত ফ্লাইওভার থেকেই থেমে থাকা যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

    মেরুল বাড্ডা থেকে পল্টন মোড়ে আসতে অন্য সময় ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা লাগলেও বুধবার দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাগছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

    রাস্তায় বাসের সংখ্যা এমনিতেই কম, তার মধ্যে অটোরিকশা চালকরাও সুযোগ বুঝে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    রামপুরা ব্রিজের পর থেকে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত প্রায় পুরো সড়কে বড় বড় গর্তে পানি জমে থাকায় যান চলাচল হয়ে উঠেছে বিপদজনক। মূল সড়কের বেশিরভাগ অংশে পানি জমে থাকায় যানবাহনগুলোকে থেমে থেমে চলতে হচ্ছে।

    হিমেল হক নামে রামপুরার এক বাসিন্দা বলেন, “বিপদ হয়েছে অফিসযাত্রীদের। রাস্তায় গাড়ি থমকে আছে। তার ওপর রাস্তা জুড়ে উন্নয়নের বিড়ম্বনা। কাদা পানি মাড়িয়ে সড়কে চলতে হচ্ছে।”

    ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের জন্য মালিবাগের পুরো এলাকাতেই নাজুক পরিস্থিতি। এর মধ্যে কোথাও কোথাও হাঁটু পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। শান্তিনগরের অবস্থাও একই রকম।

    গুলিস্তানের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, মেরুল বাড্ডা থেকে পল্টনে যাওয়ার জন্য সকাল ৮টা থেকে পৌনে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও কোনো বাসে উঠতে পারেননি।

    অটোরিকশায় ৪০০ টাকা ভাড়া চাওয়ায় শেষ পর্যন্ত অনেক বলে কয়ে এক রিকশায় চড়ে দুই ঘণ্টায় পল্টনে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুল আলম।

    তিনি বলেন, “এমনিতেই রাস্তার যে অবস্থা, এর মধ্যে বৃষ্টি হলে তো ঢাকা শহর সমুদ্র হয়ে যায়। এ নিয়ে কারো মাথা ব্যথা আছে বলে আমার মনে হয় না।”

    নয়া পল্টন আর কারওয়ান বাজারের মত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়কে পানি জমায় যানজট ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের সব এলাকায়।

    প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের সামনের সড়কে, অর্থাৎ ওসমানী স্মৃতি মিলনায়নের পাশের রাস্তায়ও পানি জমে আছে। সচিবালয়ের ভেতরে জমে যাওয়া পা‌নি সরাতে ডাকা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের।

    ডেফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অনিন্দিতা সাহা সোমা জানান, মিরপুর সড়কে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর মোড় প্রায় কোমর পানি। শুক্রাবাদ থেকে রাপা প্লাজা পর্যন্ত পুরো এলাকাতেই পানি জমে আছে। ক্লাসে যাওয়ার জন্য বের হয়েও এই পরিস্থিতির কারণে তাকে বাসায় ফিরে যেতে হয়েছে।

    ইস্কাটন, পান্থপথ, রাজাবাজার ও রায়ের বাজারে ভেতরের প্রায় সব গলিতে জমে আছে পানি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বাসা থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও পানি ঢুকেছে বাড়ির নিচতলাতেও।

    সাতরাস্তা এলাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহবুবা সুলতানা জানান, ইন্দিরা রোডের বাসা থেকে অফিস পর্যন্ত যাওয়ার পথে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখেছেন তিনি।

    “বাসার গলি থেকে শুরু করে পূর্ব রাজাবাজার, ফার্মগেইট, তেজগাঁও এলাকার বিভিন্ন সড়কে পানি। তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড এলাকার এক গলিতে আর বিজি প্রেসের সামনে হাঁটু পর্যন্ত পানি পার হয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে।”

    পশ্চিম রাজাবাজার এলাকার এক বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, “চারপাশের সব সড়কেই পানি। অনেকগুলো বাড়িতেও পানি ঢুকেছে। পুরো মৌসুমে এবার এভাবে পানি জমছে। এখন আমাদের বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করতে হবে। তার আগে তো পানি নামবে না।”

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755