• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    জাম থেকেই বিদ্যুৎ তৈরি করা হবে

    অনলাইন ডেস্ক | ১৭ এপ্রিল ২০১৭ | ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

    জাম থেকেই  বিদ্যুৎ তৈরি করা হবে

    এবার জাম থেকেই বিদ্যুৎ তৈরি করা হবে। একটি ৫ গ্রামের প্রমাণ সাইজের জাম থেকে ২ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। তাই একটি জামগাছের গড় আয়ু ৮০ বছর এবং জীবনকালে গড় উৎপাদন ৮ হাজার কেজি ধরলে এর থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে তা দিয়ে ৪ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। এমনটাই দাবি করছেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি, রুরকির একদল গবেষক।


    অধ্যাপক সৌমিত্র শতপথীর নেতৃত্বাধীন এই গবেষকদল জামের মধ্যে থাকা অ্যানথ্রোসায়ানিন রঞ্জককে ব্যবহার করে ‘ডাই সেনসাইটজড সোলার সেল ’ নামে এক অপ্রচলিত সৌরশক্তির ডিভাইস বানিয়েছেন। যার পেটেন্টের জন্যও আবেদনও করা হয়েছে। তাদের এই গবেষণা আন্তর্জাতিক গবেষণাপত্র, জার্নাল অফ ফটোভোল্টাইকস রিসার্চস -এ সম্প্রতি প্রকাশিতও হয়েছে।


    জাম থেকে কীভাবে তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ? সোলার সেল আদতে এক ডিভাইস যা সরাসরি সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে পরিবর্তিত করে। ডাই সেনসাইটজড সোলার সেল (সংক্ষেপে DSSC) বা গ্রাটজেল সেল গাছের সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া থেকে উদ্বুদ্ধ হওয়া এই ধরনের এক বিকল্প সোলার সেল টেকনোলজিতে কাজ করে। এখানে টাইটেনিয়াম -ডাই -অক্সাইড নামক একটি সেমি -কন্ডাক্টরের আস্তরণ থাকে। এই সেমি -কন্ডাটরের আস্তরণে নিমজ্জিত থাকে রুথেনিয়াম কমপ্লেক্স নামক রঞ্জক কণা যা সৌরালোকের ফোটন কণা শোষণ করে। যার থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। এইখানেই মজার কাণ্ডটা ঘটিয়েছেন ওই গবেষকরা।
    রুথেনিয়ামঘটিত রঞ্জক কণা খুবই উদ্বায়ী, ক্ষয়কারক এবং খরচবহুল৷ এই রুথেনিয়ামের জায়গায় জাম নিঃসৃত অ্যানথ্রোসায়ানিন নামক রঞ্জক ব্যবহার করেছেন তারা৷ গাছ থেকে পাড়া জামকে ইথানলের সাহায্যে প্রসেস করে তারা বের করেছেন অ্যানথ্রোসায়নিন রঞ্জক যা সৌরালোক শোষণ করতে খুবই উপযোগী৷ যার থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে অত্যন্ত কম খরচে৷ ‘অল্প খরচায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই প্রযুক্তি যথেষ্ট ফলপ্রদ,’ বলছেন গবেষকদলের প্রধান অধ্যাপক শতপথী।

    অবশ্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আরও অনেক গবেষণা জরুরি বলে মনে করেন এই প্রবাসী বাঙালি গবেষক৷ নগরোন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে৷ উপরন্ত্ত কার্বন সমৃদ্ধ এই সব জ্বালানির ক্রমাগত দহন বাতাসে কার্বন -ডাই -অক্সাইডের পরিমাণ বাড়িয়ে জন্ম দিচ্ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর মতো সংকটের৷ বিকল্প শক্তি সন্ধানে উঠে এসেছে সৌরশক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়ু এবং পরমাণুশক্তি৷ এদের মধ্যে কার্বন -মুক্ত সবুজ শক্তি হিসেবে সৌরশক্তির গুরুত্ব অপরিসীম৷ বিশেষত, পাহাড়ি এলাকা বা প্রত্যন্ত দুর্গম গ্রামে যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ কঠিন এবং ব্যয়সাপেক্ষ, সেখানে এই ধরনের বিদ্যুৎ অন্যতম বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হতেই পারে৷ পাশাপাশি জাম থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন হলে তা বিদুৎ সংকট কাটাতে অনেকাংশে সাহায্য করবে বলেই আশাবাদী রুরকির ওই গবেষক দল।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বিয়ে করাই তার নেশা!

    ২১ জুলাই ২০১৭

    কে এই নারী, তার বাবা কে?

    ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673