• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ‘জ্বীনের বাদশা থেকে ফিরলে সহযোগীতা করা হবে’

    কামরুজ্জামান শাহীন, ভোলা: | ০৩ মে ২০১৭ | ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

    ‘জ্বীনের বাদশা থেকে ফিরলে সহযোগীতা করা হবে’

    প্রতারক জ্বীনের বাদশা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাইলে তাদের সব ধরনের সহযোগীতা করা হবে। একই সাথে অপরাধের পথ ছেড়ে দেয়া মাদক ব্যবসায়ায়ী ও সেবীদেরকে অভিনন্দন জানানো হবে। পুলিশ জনগনের বন্ধু, সেবামূলক কাজ করার মনোভাব রয়েছে আমাদের।
    মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভোলার পুলিশ সুপার মো: মোকতার হোসেন এ কথা বলেন। জেলায় চাঞ্জল্যকর জ্বীনের বাদশা জুয়েল মাতাব্বরের প্রতারনা টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
    তিনি আরো বলেন, ইতমধ্যে জেলার তজুমদ্দিনে ৭/৮ জন মাদক ব্যবসায়ী মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে পুলিশ তাদের একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অভিনন্দন জানাবে। পুলিশের অভিযানের মুখে অনেক জ্বীনের বাদশার মাজা ভেঙ্গে গেছে, অনেকেই আবার গা ঢাকা দিয়েছে।
    স্মপ্রতি ঘটে যাওয়ায় প্রতারক জ্বীনের বাদশা জুয়েলের পরিবার ও প্রতারনা স্বীকার গৃহবধু নাজিয়া ইসলাম পারুলকে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সামনে হাজির করার পর পুলিশ সুপার এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান। সেখানে জানানো হয় জ্বীনের বাদশা জুয়েলের প্রতারনা ঘটনা।
    ভোলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া সাত লাখ টাকা ফেরত দিয় জ্বীনের বাদশা জুয়েলের পরিবার। পরে পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভিকটিমের হাতে টাকা তুলে দেন। জেলায় এই প্রথম প্রতারনার টাকা ফেরত দেয়া ঘটনা। এ ঘটনায় জেলা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে ভিকটিম ও ভুক্তভোগীরা।
    পুলিশ সুপার মো: মোকতার হোসেন বলেন, রাজধানীর নর্দ্দা গুলশান এলাকার নজরুল ইসলামের স্ত্রী নাজিয়া ইসলাম পারুল একজন গৃহিনী। গত বছরের ৫ জানুয়ারী সু-কৌশলে ফোন করে প্রতারনা ফাঁদ পাতে প্রতারক চক্র। পরে বিভিন্ন কৌশলে তার কাছ থেকে সর্বমোট ৭৫ লাখ টাকার হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় প্রতারনার স্বীকার পারুল পুলিশ সুপারের পরামর্শে চলতি বছরের ৮ মার্চ বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার চকডোষ গ্রামের আ: হক মাতাব্বরের ছেলে জুয়েল মাতাব্বরকে প্রধান আসামী করে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু তার আগেই অপর একটি প্রতারনার মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামী জুয়েল গ্রেফতার হন। পরে পুলিশ জ্বীনের বাদশা জুয়েলকে সোন এরেস্ট (দৃশ্যত গ্রেফতার) দেখায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল তার অপরাধ ও প্রতারনা কথা স্বীকার করে। এক পর্যায়ে জুয়েল অপরাধে অনুতপ্ত হয়ে ভিকটিমকে প্রতারনা সাত লাখ টাকা ফেরত দেয়।
    পুলিশ সুপার আরো জানান, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও জ্বীন বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতমধ্যে বহু আসামী গ্রেফতার হয়েছে। প্রতারনার স্বীকার পারুলের দায়ের করা মামলায় ৩০ জনের মধ্যে পুলিশ ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে এবং বাকিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
    প্রতারনার স্বীকার নাজিয়া ইসলাম পারুল জানান, তিনি টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখে প্রতারকদের কাছে ফোন দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই প্রতারক চক্রের ফাদে পড়েন তিনি। বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথম দফায় ১৭ হাজার, পরে ২ লাখ, ৫১ হাজার, ৬লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে পুলিশ সুপারের পরামর্শে মামলা দায়ের করি।
    তিনি বলেন, আমার মত কেউ যেন আর এ ধরনের প্রতারনা স্বীকার না হয়, আর যারা এসব প্রতারনা করছে তাদের কঠোর শাস্তি দাবী করছি।
    সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুদ্দিন শাহিন, সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শেখ সাব্বির হোসেন, সহকারি পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) মো: রফিকুল ইসলাম, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক মো: রাসেল এবং জিনের বাদশা জুয়েল পরিবারের সদস্যরা।
    উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত জ্বীনের বাদশা জুয়েল এখনও জেল হাজতে রয়েছেন। তিনি জ্বীন সেজে প্রতারনা কাজ ছেড়ে দেয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশকে।


    Facebook Comments Box


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757