• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ঝিনাইদহে নারী দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে দুই পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত

    আসিফ হাসান কাজল, বিশেষ প্রতিনিধি- | ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ | ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

    ঝিনাইদহে নারী দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে দুই পুলিশ সাময়িক বরখাস্ত

    ঝিনাইদহের সরকারী নূরুন্নাহার কলেজের অভ্যন্তরে নারীসহ কলেজ কর্মচারীরকে ফাঁসানোর অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদেরকে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। এরা দুইজন হলেন, ঝিনাইদহ সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক মো. রাজু আহম্মেদ ও কনস্টেবল মুসা তারেক।


    গত ২৬ জানুয়ারি পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান তাদের বিরুদ্ধে এই আদেশ প্রদান করলেও মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস।


    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুরের দিকে ঝিনাইদহ সরকারি নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের মাস্টার রোলের কর্মচারী (এমএলএসএস) মো. আলমগীর হোসেনকে ব্ল্যাকমেইল করতে দুজন অপরিচিত নারী পাঠানো হয়। তারা প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেয়ার কথা বলে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।
    এর পরেই, পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক সেখানে এসে হাজির হন সদর থানার এএসআই মো. রাজু আহম্মেদ, কনস্টেবল মুসা তারেক ও তাদের সহযোগী সদর থানার সিভিল টিমের মাইক্রোবাস চালক তুষার আহম্মেদ।

    তারা গিয়েই কলেজের নিচতলার ১০৫ নম্বর রুমের পাশে এমএলএসএস মো. আলমগীর হোসেনকে মারপিট করতে থাকেন। জোর করে পরনের কাপড় খুলে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে আসা ওই দুই নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন তারা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এরপর হাতকড়া পড়িয়ে থানায় নিয়ে যাবেন বলে হুমকি ধামকি দেন। এরপর আলমগীরের চিৎকারে কলেজ (ক্যাম্পাসে) ছুটে আসেন কলেজ হোস্টেলের এক নারী কর্মচারীসহ এলাকাবাসী। সবার সামনে আলমগীরকে কান ধরে উঠবস করানো হয়। এসময় স্থানীয় জনতা ঘটনাটি বুঁঝে উত্তেজিত হয়ে পড়ায় একপর্যায়ে এএসআই মো. রাজু আহম্মেদ ও কনস্টেবল মুসা তারেক মোটরসাইকেলে চড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এসময় ঐ দুই নারীকেও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি!

    ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কনক কুমার দাস জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান ওই দিনই তাকে ঘটনা তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তদন্তে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসে বলে জানান তিনি।
    তিনি আরো বলেন, ২৬ জানুয়ারি শৃঙ্খলাবহির্ভূত এবং পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সদর থানার এএসআই মো. রাজু আহম্মেদ ও কনস্টেবল মুসা তারেককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার আদেশ দেন পুলিশ সুপার। তাদেরকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। তদন্ত শেষ হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    এই ব্যাপারে এএসআই রাজু আহম্মেদ এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ দেখায়।

    এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673