• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    রিটায়ারমেন্টের টাকা না পেয়ে বৃদ্ধের ভিক্ষাবৃত্তি

    এম, এ, রউফ খান রিপন | ১৬ জুলাই ২০১৭ | ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ

    রিটায়ারমেন্টের টাকা না পেয়ে বৃদ্ধের ভিক্ষাবৃত্তি

    প্রিয় পাঠক আমি এম, এ, রউফ খান রিপন আজকের অগ্রবাণী পত্রিকার রিপোর্টার, মোঃ তুহিন সময়ের খবর, প্রফেসর মনিরুজ্জামান মানবাধিকার কর্মী, মনির মাহমুদ পিডিবি কর্মকর্তা, মনিরুল ইসলাম রুবেল ফিন্যান্স অফিসার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সৈয়দ সফিক পিডিবি কর্মচারী, সহ বেশ কিছু বন্ধু মিলে খালিশপুর পিপলস গোল চ্বত্তরে সেলিম ভাইয়ের চায়ের দোকানে ১৩ই জুলাই তারিখে রাত ৯টার সময় আড্ডা দিচ্ছিলাম। উপস্থিত সকলের হঠাৎ ই চোখে পড়ে একজন ৬০ উর্ধ বয়স্ক লোকের দিকে তিনি গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে ভিক্ষা করছেন। আমরা তাকে প্রশ্ন করলাম চাচা মুখ ডেকে কেন ভিক্ষা করছেন ? তার উত্তরে তিনি যা বললেন তাতে উপস্থিত সকলে অশ্রু সিক্ত হলাম।


    আকবর আলি পিতাঃ মৃত গগন মোল্ল‌্যা স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম- দর্শনা থানা- ডাসার জেলা- মাদারীপুর। তিনি পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৭০ সালে এস, এস, সি পাশ করেন। ১৯৭২ সালে খুলনা দৌলতপুর ডে-নাইট কলেজে এইচ, এস, সি ভর্তি হন। ৭০ সালেই আকবর আলির পিতা ইন্তেকাল করেন। তাই ইচ্ছা স্বত্তে ও আকবর আলির পড়ালেখা আর এগোতে পারেনি। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় সকলের ভরণপোষণের দায়িত্ব এসে পড়ে আকবর আলীর উপর। আর তাই তিনি কিশোর বয়সেই জীবিকার তাগিদে রাষ্ট্রয়াত্ব পাট কল কর্পোরেশন বিজেএমসি নিয়ন্ত্রিত ক্রিসেন্ট জুট মিলে ১৯৭০ সালে বদলী শ্রমিকের গেট পাস করে চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি একই মিলে প্রায় ১৩ বছর পর ১৯৮৩ সালে চাকরিতে স্থায়ী নিয়োগ পান।
    তার টোকেন নং -২৮৮, সিপ্ট – এ, ডিপার্টমেন্টে – বড় তাঁত, মিল নং-৩ । এরপর নানা ঘাত প্রতিঘাতের মধ‌্য দিয়ে তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে একই মিলে বদলী ১৩ বছর, স্থায়ী ৩২ বছর মোট ৪৫ বছর অত্যন্ত সততার সহিত ইং ২০১৫ সালে মে মাসের ১৮ তারিখে বয়স জনিত কারণে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। আশা ছিল জীবনের শেষ সময়টুকু তার প্রিয় জন্মস্থান মাদারীপুরে কাটাবেন।

    ajkerograbani.com

    ব্যক্তিগত জীবনে আকবর আলী ১ ছেলে ও ২ কন‌্যার জনক। একমাত্র ছেলে বিবাহ করে চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা বাড়িতে থাকে। ইচ্ছা থাকা স্বত্তে ও ছেলে আকবর আলি কে আর্থিক সাহায্য করতে পারে না। কারণ ছেলেরা যা উপার্জন তাতে তার নিজের সংসারে নুন আনতে
    পান্তা ফুরায়। আকবর আলির দুই মেয়ে বড় মেয়ে মাদারিপুর ডাসার শেখ হাসিনা উইমেন্স কলেজের ডিগ্রীর ছাত্রী। ছোট মেয়ে ডাসারে একটি স্কুলের নবম শ্রেনির ছাত্রী।

    এবার আসি মূল ট্রাজিডিতে, কেন আজ আকবর আলি ভিক্ষা করছে ? কেন ? কেন ? নিজের পাওনা রিটায়ারমেন্টের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, অন্যান্য ভাতাদি মিলিয়ে ৯ থেকে ১০ লক্ষ টাকা উত্তলনে ব‌্যার্থ হয়ে আজ তিনি পেটের তাগিদে ভিক্ষার মত পেশা বেছে নিয়েছেন। ভেবেছিলেন জীবনের শেষ সম্বল ( অবসর কালীন টাকা ) হাতে পেয়ে কিছু টাকা দিয়ে গ্রামের বসত বাড়ি মেরামত করবেন। কিছু টাকা দিয়ে গবাদি খামার, কিছু টাকার সঞ্চয়পত্র কিনবেন, বাকি কিছু টাকা দুই মেয়ের বিয়ের জন‌্য রাখবেন।কিন্তু তার সেই স্বপ্ন বাস্তবে শুধুই মরিচিকা। মিলের সিবিএ নেতা, মিলের ম‌্যানেজমেন্ট, রাজনৈতিক নেতা সহ বিভিন্ন মাধ‌্যমে যোগাযোগ করে ব‌্যার্থ হয়ে আজ আকবর আলি রাস্তার ভিক্ষুক। নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক কিছু ব‌্যাক্তি বা গোষ্টি আকবর আলি কাছে ২০% কমিশনের চুক্তিতে তার পেনশনের টাকা উঠিয়ে দিবে বলে কন্টাক্ট করার চেষ্টা করেন।
    কিন্তু আকবর আলি কোথায় পাবে কমিশনের ২০% টাকা ?
    তাছাড়া জীবনের এই সম্বল থেকে দুই লক্ষ টাকা হারাতে ও চান না তিনি। তাই আকবর আলি ভাবলেন পাটের এখন সুদিন মিল গুলোতে ও পর্যাপ্ত ফান্ড দিচ্ছে বর্তমান সরকার পেনশনের টাকা হয়তো এমনিতেই পেয়ে যাবেন। কিন্তু আকবর আলির আসার গুড়ে বালি। দিন যায়, মাস যায়, বছর পেরিয়ে যায় আকবর আলি মিল থেকে টাকা পায় না। তাই তিনি শারীরিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও রিক্সা চালানোর মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশা বেছে নেয়। না খেয়ে থাকার চেয়ে রিক্সা চালিয়ে ভালোই চলছিল। ইঠাৎ এক দুর্ঘটনায় তিনি মারাত্মক আহত হয়ে রিকশা চালানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু পেট তো শুনে না ধর্মের কাহিনী,
    পরিবারের মৌলিক চাহিদা তাকেই পূরণ করতে হবে। তা না হলে আকবর আলির প্রিয় কন্যাদেরকে ভিন্ন পেশার বাসিন্দা হতে হবে। কথাগুলো বলে বৃদ্ধ আকবর আলি অঝোরে কাঁদলেন আর আমাদেরও কাঁদালেন। এখন আকবর আলি মেয়েদের ইজ্জত আর পেটের তাগিদে ভিক্ষার মত পেশা বেছে নিয়েছেন। রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে হেঁটে ভিক্ষা করে আর আল্লাহ ফেরেশতা, দেবদূত খোঁজে যে কিনা তার ন্যায্য পাওনা বিজেএমসি তথা ক্রিসেন্ট মিল থেকে উঠিয়ে দিবে !

    এ বিষয়ে বিজেএমসি জোনাল অফিস চরেরহাট খুলনা জনাব গাজী শাহাদাত হোসেন জিএম আঞ্চলিক সমন্বয় কর্মকর্তা ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রজেক্ট হেড আবুল কালাম হাজারীর সাথে টেলিফোনে কথা বলার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755