• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    টেকসই উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেয় গণতন্ত্র ও সুশাসন

    ডক্টর শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ | ১৭ জুন ২০১৭ | ৪:৩২ অপরাহ্ণ

    টেকসই উন্নয়নের নিশ্চয়তা দেয় গণতন্ত্র ও সুশাসন

    বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখন একটি বিশ্ব মডেল। রূপকথার ফিনিক্স পাখির উপমা তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের এ সাফল্যের জন্য। ভস্মের মধ্য থেকে উড়াল দেয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে রূপকথার ফিনিক্স পাখি। বাংলাদেশের বাস্তবতা ছিল অভিন্ন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের শীর্ষ দরিদ্র দেশের একটি। মুক্তিযুদ্ধে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় পদ্মা, মেঘনা, যমুনা ও বুড়িগঙ্গা পাড়ের এ দেশটি। দেশের এক কোটি মানুষ ঘরবাড়ি সহায়-সম্পত্তি ছেড়ে প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। দেশের মধ্যে অন্তত দুই কোটি মানুষও নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। ভিটেমাটি ছেড়ে যারা পালাতে বাধ্য হয়েছেন তাদের সহায়-সম্পত্তি লুটপাটের শিকার হয়। মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ হারায় ৩০ লাখ মানুষ। হাজার হাজার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। চাষাবাদে ব্যবহৃত বলদের বেশির ভাগ দখলদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের ভূরিভোজের জন্য ব্যবহৃত হয়।


    স্বাধীনতার পর শূন্য হাতে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। এক কোটি শরণার্থীকে পুনর্বাসন, সাত কোটি মানুষের খাদ্য সংস্থান, বিশাল সংখ্যক মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জাতির সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। রাস্তাঘাট, স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেয়। অথচ রাজকোষ ছিল আক্ষরিক অর্থেই শূন্য। সে অবস্থা থেকে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আজ বিশ্বের যে ৫-৬টি দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। এ সাফল্য আশা জাগানিয়া হলেও তা কতটা টেকসই তা সংশয়ের ঊর্ধ্বে নয়। অগ্রগতির এ ধারাকে টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। আর সময়ের পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে গণতন্ত্র ও সুশাসনের মাধ্যমেই উন্নয়ন টেকসই হয়। অবাঞ্ছিত ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

    ajkerograbani.com

    টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা হলো ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত একগুচ্ছ লক্ষ্যমাত্রা। জাতিসংঘ লক্ষ্যগুলো প্রণয়ন করেছে এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে লক্ষ্যগুলোকে প্রচার করেছে। লক্ষ্যমাত্রাগুলো হচ্ছে, দারিদ্র্য বিমোচন অর্থাৎ সর্বত্র সব ধরনের দারিদ্র্য নির্মূল করা। ক্ষুধা মুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নত পুষ্টির লক্ষ্য অর্জন ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা চালু। সুস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা ও সব বয়সের সবার কল্যাণে কাজ করা। মানসম্মত শিক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং সবার জন্য আজীবন শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা। লিঙ্গ সমতা, লিঙ্গ সমতা অর্জন এবং সব নারী ও মেয়ের ক্ষমতায়ন করা। সুপেয় জল ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। সবার জন্য পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সহজপ্রাপ্যতা ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। নবায়নযোগ্য ও ব্যয়সাধ্য জ্বালানি, সবার জন্য ব্যয়সাধ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত করা। ভালো চাকরি ও অর্থনীতি, সবার জন্য দীর্ঘমেয়াদি, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল ও উপযুক্ত কাজের সুবিধা নিশ্চিত করা। উদ্ভাবন ও উন্নত অবকাঠামো, দীর্ঘস্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়ন করা এবং উদ্ভাবন উৎসাহিত করা। বৈষম্য হ্রাস, দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় বৈষম্য হ্রাস করা। টেকসই নগর ও সম্প্রদায়, নগর ও মানব বসতিগুলোকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই করে তোলা। সম্পদের দায়িত্বপূর্ণ ব্যবহার, টেকসই ভোগ ও উৎপাদন রীতি নিশ্চিত করা। জলবায়ু বিষয়ে পদক্ষেপ, জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। টেকসই মহাসাগর, টেকসই উন্নয়নের জন্য মহাসাগর, সাগর ও সামুদ্রিক সম্পদের সংরক্ষণ ও সেগুলোর টেকসই ব্যবহার করা। ভূমির টেকসই ব্যবহার, পৃথিবীর ইকোসিস্টেমের সুরক্ষা, পুনর্বহাল ও টেকসই ব্যবহার করা, টেকসইভাবে বন ব্যবস্থাপনা, মরুকরণ রোধ, ভূমিক্ষয় রোধ ও বন্ধ করা এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি রোধ করা। শান্তি ও ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়নের জন্য শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ তৈরি করা, সবার জন্য ন্যায়বিচারের সুযোগ প্রদান করা এবং সর্বস্তরে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র ও সুশাসনের পথযাত্রা বিঘ্নিত হয়েছে অসাংবিধানিক শাসনের কালো ছায়ায়। দেশে আজ ধর্মীয় উগ্রবাদ এবং দুর্নীতির যে বিষবৃক্ষ বেড়ে উঠছে তা সামরিক শাসকদেরই অবদান। এ বিপদ ঠেকানোর জন্যও গণতন্ত্র ও সুশাসনের পথকে বেছে নিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গড়ে তুলতে হবে আস্থার পরিবেশ। এটি আজ সময়ের দাবি এবং তা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই।

    লেখক: অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ও সভাপতি, সাউথ এশিয়ান ল’ ইয়ার্স ফোরাম এবং প্রধান সম্পাদক দৈনিক আজকের অগ্রবাণী।
    e-mail: advahmed@outlook.com

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757