• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    টেলিটকের কাস্টমার কেয়ারে বায়োমেট্রিক তথ্য জালিয়াতি করে সিম বিক্রি

    অনলাইন ডেস্ক | ০৬ নভেম্বর ২০১৭ | ৮:২৭ অপরাহ্ণ

    টেলিটকের কাস্টমার কেয়ারে বায়োমেট্রিক তথ্য জালিয়াতি করে সিম বিক্রি

    বায়োমেট্রিক তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে সিম বিক্রির অভিযোগে রংপুরের টেলিটক কাস্টমার কেয়ারের সুপারভাইজার আহমেদ জাহিদ আনোয়ারকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেশের উত্তরাঞ্চল ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এই কর্মকর্তা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে নিবন্ধিত এসব সিম পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো। এসব সিম কোনও কাগজপত্র ছাড়াই খুচরা ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন হাটে-বাজারে। রংপুর স্টেশন রোড থেকে জাহিদকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য জানা গেছে। এই দুই জনকে রাজবাড়ীর বিকাল জালিয়াতির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব ফরহান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


    রংপুর স্টেশন রোড থেকে জাহিদের সহযোগী রংপুর সিটি করপোরেশন কম্পিউটার সুপারভাইজার মো. মাহমুদুল হাসান মামুনকেও (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে তথ্য কপি পেস্ট করা টেলিটকের অপরাজিতা ও বর্ণমালা প্যাকেজের ১ হাজার ১৫০ নিবন্ধিত সিম উদ্ধার করেছে সিআইডি।


    সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীব ফরহান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ পেয়ে আসছিলাম বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণার। এরপর এই চক্রটিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।’ প্রতারণার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তি যখন আঙুলের ছাপ ও তার সব তথ্য দিয়ে একটি সিম কেনেন, তার সব তথ্য ওই অপারেটরের সার্ভারে থাকে। গ্রাহকের অজান্তে সেই তথ্য কপি করে, এমনকি আঙুলের ছাপও কপি করে অনলাইনে আরও ফরম পূরণ করে বাড়তি সিম নিবন্ধন করতো জাহিদ। সেগুলো সে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতো। একজন ব্যক্তি যেহেতু সর্বোচ্চ ১৫টি সিম কিনতে পারেন। তারা সেই সুযোগটি নিতো।’

    রাজীব ফরহান বলেন, ‘জাহিদের সহযোগী হলো মামুন। সে রংপুর সিটি করপোরেশনে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত। সে জাহিদকে সহযোগিতা করতো। আমরা রবিবার বিকালে তাদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক করি। এ সময় তারা একটি চালান রাজধানীতে পাঠানো প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা কুরিয়ার সার্ভিসে সিম পাঠাতো। এরপর বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করতো।’

    প্রাথমিক তদন্তে সিআইডিকে জাহিদ জানিয়েছে, ‘সে দুই/তিন মাস ধরে এই কাজ করছে। তবে সিআইডির কাছে তথ্য রয়েছে, জাহিদ গত একবছর ধরে এই জালিয়াতির কাজ করে আসছে। উত্তরাঞ্চলের চার-পাঁচটি জেলায় তারা এই সিম ছড়িয়ে দিয়েছে। এসব সিম কোনও কাগজ ছাড়াই বিভিন্ন দোকান থেকে কেনা যায়। এমনকি রাজধানীতেও নিয়মিত এই সিম চালান করে তারা।’

    গত জুলাইতে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি এলাকার এক গ্রাহকের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয় একটি জালিয়াতি চক্র। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলা তদন্ত করতে নামে সিআইডি। তদন্ত করে দেখতে পায়, যার নামে সিম নিবন্ধিত, তিনি সেই সিম কখনও ব্যবহার করেননি। অর্থাৎ একজনের নামে সিম নিবন্ধিত হয়েছে সেই সিম ব্যবহার করে অন্য কোনও জেলা বা বিভাগের গ্রাহক। তখন বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত শুরু করে সিআইডি। এরপর এই জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পায় সিআইডি।

    অতিরিক্ত এসপি রাজীব ফরহান বলেন, ‘তাদের ওই মামলায় আটক দেখানো হবে। তাদের দুই জনকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা সব অপারেটরের সিম এভাবে জালিয়াতি করছে। অন্য অপারেটরের কর্মকর্তা-কর্মচারীও জড়িত রয়েছে। ভেতরের লোক ছাড়া এ ধরনের জালিয়াতি সম্ভব নয়। আমরা রবিরও এমন জালিয়াতির তথ্য পেয়েছি। তবে চক্রটিকে এখনও ধরতে করতে পারিনি। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। আমরা এই দুই জনকে নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে যাচ্ছি। তারা কী পরিমাণ সিম বাজারে ছেড়েছে, তাও জানার চেষ্টা করছি।’

    এ ধরনের ঘটনায় সিআইডির একজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ‘এ ধরনের সিম মোবাইল ফিন্যান্সিংসহ চাহিদার ভিত্তিতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে গ্রেফতারকৃতরা জানায়।

    আটক দুই জনকে মঙ্গলবার আদালতে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669