বৃহস্পতিবার ২৯শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ডা. দত্ত পরিচয়ে ভারতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করতেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মোসলেহউদ্দিন

  |   মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট  

ডা. দত্ত পরিচয়ে ভারতে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করতেন বঙ্গবন্ধুর খুনি মোসলেহউদ্দিন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে খুন করার অভিযোগে অভিযুক্ত খুনি মোসলেহউদ্দিনের ভারতে গ্রেফতার হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সঠিক কোনো তথ্য এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এমনকি ভারতের গোয়েন্দা বিভাগ কিংবা পশ্চিমবঙ্গের পুলিশকর্তারাও বিষয়টি জানেন না বলে জানা গেছে। তবে দেশটির গণমাধ্যম সূত্রে খবর এবং স্থানীয়ভিত্তিক কিছু সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার একটি বাজার থেকে বাংলাদেশের এই মোস্ট ওয়ান্টেড মোসলেহউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা পুলিশ। কবে ও কখন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিষয়ে সুনিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে জানা গেছে, মোসলেহউদ্দিন নিজের নাম পাল্টে ডা. দত্ত নামে দীর্ঘ সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজেকে ডাক্তার সমীর দত্ত নামে পরিচয় দিতেন তিনি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঠকুরনগর এলাকায় তার যাতায়াত ছিল বলে জানা যায়। যদিও এ ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছে দু’দেশের সরকার।
বেশ কিছু সূত্রের খবর, মোসলেহউদ্দিন ডা. দত্ত ছদ্মনাম নিয়ে ঠাকুরনগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করতেন। মনে করা হচ্ছে, কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধুর অন্য এক খুনি মাজেদ ধরা পড়ে। তারপর তাকে জেরা করে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা জানতে পারেন, পশ্চিমবঙ্গে নাম ভাঙিয়ে ছিলেন মাজেদ। কলকাতায় তার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও পরিবার রয়েছে। মাজেদের ফাঁসি কার্যকরের আগে মাজেদকে জেরা করেই সম্ভবত কলকাতায় মোসলেহউদ্দিনের হদিস পান বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। ফাঁসির আগে মাজেদ জেরায় কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কন্টাক্ট কবুল করে যায় বলে মনে করা হচ্ছে। যে সূত্র ধরেই পশ্চিমবঙ্গে মোসলেহউদ্দিনের গোপন ঠিকানার হদিস পায় বাংলাদেশ সরকার। এরপরই বাংলাদেশের গোয়েন্দারা এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের যৌথ অভিযানে মোসলেহউদ্দিনকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে।
ঠাকুরনগর স্টেশনের পাশে যেখানে ডা. দত্ত নামে হোমিওপ্যাথি চেম্বার খুলেছিলেন মোসলেহউদ্দিন সেখানে জেলা ডিআইবির কর্তারা পরিদর্শন করছেন। তারা এলাকায় মোসলেহউদ্দিন সম্পর্কে নানা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি কোথায়, কোন বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সে বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে এলাকার বাসিন্দারা প্রত্যেকেই জানান, ডা. দত্ত যে আসলে বঙ্গবন্ধুর খুনি তা কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাননি। এ ছাড়া ডা. দত্ত আদপে মোসলেহউদ্দিন কি না তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট ধোঁয়াশা। তবে জানা যায়, ওই নামে একজন দীর্ঘদিন ধরেই এ এলাকায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা করতেন। এর বাইরে আর কেউই মুখ খুলতে চাননি। তবে ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশ, মোসলেহউদ্দিন ঠাকুরনগর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি নাকি বাংলাদেশে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আসেন বলেও জানা গেছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে মোসলেহউদ্দিন গ্রেফতার নিয়ে চুপচাপ প্রশাসনিক কর্তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপদূতাবাসের তরফে বিষয়টি তারা জানেন না বলেই জানানো হয়। তবে দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা অবশ্য জানান, আপনারা যেটা ভালো বুঝছেন সেটা করতে পারেন। ফলে বঙ্গবন্ধুর খুনি মোসলেহউদ্দিন গ্রেফতার নিয়ে নানা গুঞ্জনে ভাসছে পশ্চিমবঙ্গ।
তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ ব্যাপারে সোমবার দুপুর ১টায় সাংবাদিকদের তিনি জানান, আমিও বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত হতে পারিনি। বিষয়টি যাচাই করা দেখা হচ্ছে।

Facebook Comments Box


Posted ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১