• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ড. কর্নেল অলি আহমদ, বয়স ৮০ হলেও আপনি এখনো তরুণ

    সালাহ উদ্দীন রাজ্জাক | ১২ মার্চ ২০১৮ | ১:০৭ অপরাহ্ণ

    ড. কর্নেল অলি আহমদ, বয়স ৮০ হলেও আপনি এখনো তরুণ

    ১৩ মার্চ আমার পিতা সমতুল্য সাবেক তিনবারের মন্ত্রী ও ৬ বারের এমপি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম এর ৮০তম জন্মদিন। বয়স ৮০ হলেও এখন তিনি চির তরুণ। তাকে দেখলে মনে হবে হয়তো তার বয়স ৪০ এর ঘরে। এখনও তিনি যে পরিমাণ কাজ করেন তা আমার মতো ৩০ বছরের মানুষের পক্ষে মাঝে মাঝে অসম্ভব হয়ে উঠে।
    ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এর সঙ্গে আগে আমি প্রায়ই মহাখালী ডিওএইচএস এর পার্কে হাঁটতাম। আমি ১০০০ মিটার হাটার পরে স্যার বলতো তুমি রেস্ট নাও আমি আরো ৬০০ মিটার হাঁটবো। স্যার হয়তো বুঝতো আমি হাঁটার ধর্য হারিয়ে ফেলেছি। স্যার আমাকে প্রায়ই বলেন দিনে একটানা ৪৫ মিনিট হাঁটবা শরীর ভালো থাকবে। কে শোনে কার কথা। আমি কষ্ট হবে দেখে এখন আর স্যারের সঙ্গে হাঁটতে যাইনা। বিষয়টি লজ্জার।
    যাই হোক আসল কথায় আসি। ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে কর্নেল অলি আহমদ ফ্যাক্টর। ব্যক্তি অলির ওজন দলের চেয়ে অনেক বেশি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর অলি আহমদ যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে সারা দেশে যে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন যার কারণে দেশবাসী তার প্রতি কৃতজ্ঞ। ২০০৬ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে দল থেকে বের হয়ে এলডিপি নামে নতুন দল গঠন করেন অলি আহমদ। ২০০৮ সালে এই নতুন দল থেকে নির্বাচন করেও তিনি জয়লাভ করেন।
    কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদ বীর বিক্রম বাংলাদেশের একজন প্রথম সারির মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী। ১৯৭১ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে অংশ নেন। চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার তিনি অন্যতম স্বাক্ষী। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সাহসিকতার জন্য বাংলাদেশ সরকার সর্বপ্রথম তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করে।
    ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ কেন জনপ্রিয়?
    ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ একজন ব্যক্তি যার জীবনে ব্যর্থতা নেই। আছে শুধু সফলতা। কোন চাহিদা নেই, এমপি মন্ত্রী হওয়ার খায়েশও নেই।
    ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ যে সেক্টরে হাত দিয়েছেন সেটাই স্বর্ণে রুপান্তরিত হয়েছে। জীবনে কোন দুর্নীতি নেই। তার হাত দিয়ে সম্পূর্ণ যমুনা সেতু তৈরী হয়েছে। কিন্তু তার নামে কোন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেনি। প্রথমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সামরিক সচিব ও পরে তার মন্ত্রী সভার মন্ত্রী অলি আহমেদ জীবনের ২৫ বছরের উপরে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। এক সময় ছিলেন বিএনপির অন্যতম নীতি নির্ধারক। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এখনো অনেকের চেয়ে ড. কর্নেল অলি আহমদকে বেশি গুরুত্ব দেন। তার কথা শুনেন। এখানে বলে রাখা ভালো ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে যখন বিএনপির ২৮ জন মন্ত্রী ধরাসয়ী হয়েছেন তখনও ড. কর্নেল অলি আহমদ ২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরে গিয়ে ছাতা মার্কা নিয়ে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে এমপি হয়েছেন। মুখ দিয়ে অনেক কথাই বলা যায়। কিন্তু নৌকা-ধানের শীষের বাইরে গিয়ে এমপি হতে হিম্মত লাগে। যা ড. কর্নেল অলির আছে। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এখনও ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ শেষ কথা। হয়তো যতদিন জীবিত থাকবেন এরকম জনপ্রিয়তা নিয়েই জীবিত থাকবেন।
    পরিশেষে বলছি, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেকেই এমপি মন্ত্রী হবেন। কিন্তু ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের মতো জনপ্রিয় রাজনীতিক হয়তো শতাব্দীতে একজনই আসবেন। স্যার আপনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। ভালো থাকবেন, আমাদেরকেও ভালো রাখবেন। আপনার সঙ্গে আমার মান-অভিমান অনেকটা বাবা-ছেলের মতো। হয়তো আমি ভুল কবরো শাসন করার দায়িত্ব আপনার। আমি আমৃত্যু আপনার ছাতা তলেই থাকতে চাই।


    লেখক: সম্পাদক ও প্রকাশক আজকের অগ্রবাণী ।


    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673