মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২১

ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি; দৌড়ে এগিয়ে আমান-নবী ও কাইয়ুম-নীরব

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | প্রিন্ট  

ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি; দৌড়ে এগিয়ে আমান-নবী ও কাইয়ুম-নীরব

মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখা কমিটি ভেঙে নতুন আহ্বায়ক কমিটি করার চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। বর্তমান কমিটির নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত সক্রিয় নেতাদের নিয়ে ছোট পরিসরে এ কমিটি হবে। এ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সংখ্যা হতে পারে ৪১ বা ৫১। আহ্বায়কের সঙ্গে কোনো সদস্য সচিব না করে কমিটিতে ৭ বা ১১ সদস্যের যুগ্ম আহ্বায়ক করা হতে পারে। অন্যরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। গত বেশ কিছুদিন ধরে দলের স্থায়ী কমিটির এক নেতা এ কমিটি গঠন নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। চিকিৎসার জন্য সম্প্রতি সিঙ্গাপুর যাওয়ার আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কমিটি গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। ঢাকা মহানগরসহ মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটিই পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। করোনাকালে সাংগঠনিক কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত ছিল। এখন আবার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যথাসময়ে ঢাকা মহানগরে দুই শাখার কমিটি হবে।’
সম্প্রতি দেশের ১২টি মহানগরের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়টি তদারকি করছেন। এ নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথাও বলছেন। দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণ শাখায় আহ্বায়কের আলোচনায় শীর্ষে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান। এ ছাড়া দক্ষিণ শাখার বর্তমান সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছেন মহানগরের সহ-সভাপতি নবীউল্লাহ নবীও। কারণ গত দুইযুগে রাজপথের কর্মী হিসেবে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন নবীউল্লাহ নবী। এমনকি একাদশ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পান তিনি। এছাড়া যেকোন আন্দোলন ও দাবি আদায়ে রাজপথেও বরাবর উপস্থিতি ছিল নবীর।
ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নেতৃত্বে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বর্তমান কমিটির সভাপতি এম এ কাইয়ুম ও যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের নাম আলোচনায় আছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল আগ্রহ প্রকাশ করলে তাকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হতে পারে। তবে তিনি মহানগর কমিটিতে থাকতে চান না বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন। এ ছাড়া উত্তর শাখার সিনিয়র সহসভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু ও মোয়াজ্জেম হোসেনের নামও বলছেন কেউ কেউ।
এদিকে আহবায়ক কমিটি গঠন হবে এরকম খবর চাউর হলে নড়েচড়ে উঠেছে বিএনপির দুইজন শীর্ষ নেতা। মূলত তারা স্থায়ী কমিটির সদস্য। এ দুইজনের বিরুদ্ধে বরাবরই নানা অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ এটা বলে থাকেন তারা সরকারের পক্ষে কাজ করছেন। এমন অভিযোগ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও বেশ কয়েকবার গেছে। কেউ কেউ এই দুইজনকে বলছেন, দলের ডাবল সিন্ডিকেট। অর্থাৎ তারা মা খালেদা জিয়া ও ছেলে তারেক জিয়ার মধ্যে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। এরাও এখন নিজেদের লোক মহানগর কমিটিতে ঢোকানোর জন্য তৎপরতা চালাচ্ছেন। সবমিলিয়ে এই দুই শীর্ষ নেতা এখন তারেক রহমানের সন্দেহভাজনে রয়েছেন।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এই দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে পকেট কমিটির নেতা হিসেবে। গত কয়েকদিন ধরে তাদের বাসা বাড়িতে লোকজন আসা যাওয়া শুরু হয়েছে। এরা শুধু মহানগর নয় যে কোনো নির্বাচন এলেই নিজস্ব লোক বাছাই করে প্রার্থী দৌড়ে ছেড়ে দেয়। এরপর নেমে পড়ে মনোনয়ন বাণিজ্যে। এর সর্বশেষ উদাহরণ ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচন। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে লড়েছিলেন নবীউল্লাহ নবী। এমনকি একাদশ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পান তিনি। অথচ তাকে না দিয়ে ঢাকা-৪ এ নির্বাচন করা সালাহউদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়েছিল সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে । মূলত: তারেক রহমানকে বাইপাস করে দলের অন্যান্য শীর্ষনেতাদের বুঝিয়ে এই দুই শীর্ষ নেতা এমনটা করেছেন। দলীয় অফিসে সবাই এখন এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল। আর এ সিদ্ধান্তে অনেকটা ক্ষেপে ঢাকা-১৮ উপ-নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন তারেক রহমান। তিনি কফিলউদ্দিনকে মনোনয়ন না দিয়ে বাছাই করেন জাহাঙ্গীর হোসেনকে।
এদিকে, মহানগর কমিটিতে জায়গা পাওয়া নিয়ে নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে অন্যতম জনপ্রিয় নেতা আমানুল্লাহ আমানের নাম। এরপরপরই দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন সেই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড খ্যাত দুই শীর্ষ নেতা। তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ছড়িয়ে দিচ্ছেন এমনটাই অভিযোগ করছেন দলের কর্মীরা। এতে করে নেতা ও কর্মিরা অনেকটা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার বলছেন মহানগর দক্ষিণে যুবদল নেতা রফিকুল আলম মজনু আসতে পারেন। সূত্রে জানা গেছে, এমন কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ তিনি ফেনী-১ আসনে গত নির্বাচনে অংশ নেন। তারপর থেকে তাকে ফেনি জেলার দায়িত্ব দিতে তারেক রহমান মনস্থির করেন। মাস খানেক আগে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের বিষয়টি আলোচনায় এলে সেখানেও তাকে নেতৃত্ব দেয়ার বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু ঢাকা মহানগরে আনার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। একাদশ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার আসন ফেনি-১ এ নির্বাচন করার মতো কোনো নেতাই পাওয়া যায়নি। অনেকটা বাধ্য হয়েই মনোনয়ন দেয়া হয় রফিকুল আলম মজনুকে। তাকে হয়তো ফেনি জেলার দায়িত্বেই দেখা যেতে পারে। প্রয়োজনে ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিবকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এখন অনেকেই প্রশ্ন করছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে এখন কেন মহানগর কমিটিতে আনা হচ্ছে না? মূল কারণ তিনি নিজেই এখন এ ধরণের কোন কমিটিতে জড়াতে চাচ্ছেন না। বলতে গেলে তিনি আরও পরবর্তীতে এসবে যোগ দিতে পারেন। এমূহুর্তে নয়।
জানা যায়, ঢাকাসহ অন্য সব মহানগরের কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে চান তারেক রহমান। যাকে কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওয়ার্ড ও থানা কমিটি গঠনের পর কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে বিদায় নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পদক প্রার্থী হতে পারবেন না। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকা মহানগর বিএনপিকে উত্তর ও দক্ষিণ শাখাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। মহানগর উত্তরে এম এ কাইয়ুমকে সভাপতি ও আহসান উল্লাহ হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৬ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এ কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত কোন আন্দোলনে সফল তো দূরের কথা জোরালে ভাবে আন্দোলনও করতে পারেনি। মাঠ পর্যায়ে এদের রাজনীতি ছিলো অনেকটা এলোমেলো। তাই অন্য সব মহানগরের কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে চান তারেক রহমান।
জানা গেছে, মহানগর উত্তরে এবারও এম এ কাইয়ুমকে রাখা হতে পারে। যদি একান্তই তিনি না থাকেন তাহলে তার মনোনীত কোন ব্যক্তি উত্তরে দায়িত্ব পাচ্ছেন এটা নিশ্চিত। ইতিমধ্যে লন্ডন পর্যন্ত সে কথা জানানো হয়েছে।
মহানগরের একাধিক নেতা বলেন, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আন্দোলনকে সামনে রেখে আগামীতে কমিটি গঠন করা উচিত। সেক্ষেত্রে ঢাকার অধিবাসীসহ তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করা উচিত। ওপর থেকে কোনো চাপিয়ে দেওয়া কমিটি যেন দেওয়া না হয়। কোনো বিতর্কিত বা আন্দোলন সংগ্রাম থেকে পালিয়ে থাকা কাউকে যেন শীর্ষ নেতৃত্ব দেওয়া না হয় সে ব্যাপারে তারা তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা করেন।


Posted ৩:১১ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১