• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ঢাকা সিটির ১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন, আসছেন যারা

    অনলাইন ডেস্ক | ২৬ জুলাই ২০১৭ | ১:১১ পূর্বাহ্ণ

    ঢাকা সিটির ১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন, আসছেন যারা

    আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকার নির্বাচনী আসনগুলোতে পাল্টে যেতে পারে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তালিকা। বিগত নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের যোগ্যতা ও দুর্বলতাকে বিবেচনা করে এসব প্রার্থী বদল হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া অনেক নেতার মৃত্যু ও নিষ্ক্রিয়তার কারণেও জনপ্রিয় নতুন প্রার্থীদেরকে দেখা যাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।


    জানা গেছে, রাজধানীসহ ঢাকা জেলার ২০টি আসনের অন্তত দশটি আসনে এ প্রার্থীতা পরিবর্তন করা হবে। সমগ্র ঢাকা জেলার ৪৯টি থানাকে ২০টি আসনে ভাগ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে আসন নং ১৭৪ থেকে ১৯৩ পর্যন্ত আসনগুলো ঢাকা জেলার নির্বাচনী এলাকা।

    ajkerograbani.com

    এর মধ্যে সম্ভাব্য পরিবর্তনের তালিকায় রয়েছে ঢাকা-৪ (শ্যামপুর), ঢাকা-৮ (মতিঝিল), ঢাকা-৯ (সবুজবাগ), ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি), ঢাকা-১১ (বাড্ডা), ঢাকা-১২ (তেজগাঁও), ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর), ঢাকা-১৫ (মিরপুর), ঢাকা-১৬ (পল্লবী) ও ঢাকা-১৮ (উত্তরা)।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঢাকা-১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান এই আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন। তবে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশরাফও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

    ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ-কামরাঙ্গীচর) বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান এবারও এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন বলে তার অনুসারীরা জানান।

    ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন দৌঁড়ে আছেন বিএনপির স্থাযী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও তার মেয়ে বিএনপির প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অপর্না রায়।

    ঢাকা-৪ (শ্যামপুর) আসনে গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মুন্সীগঞ্জের সাবেক এমপি আবদুল হাই। আগামী নির্বাচনে তিনি আবারও মুন্সীগঞ্জ থেকেই মনোনয়ন পেতে পারেন। এভাবে কাজও করেছেন তিনি। অন্যদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ এর ছেলে তানভির আহমেদ রবিন এই এলাকায় সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিজের অবস্থানকেও মজবুত করেছেন।

    এদিকে ঢাকা-৫-(ডেমরা-যাত্রাবাড়ী) আসনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে। তা সম্ভব না হলে সাবেক এমপি সালাউদ্দিন আহমেদ এ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়ে লড়বেন।

    ঢাকা ৬- (সুত্রাপুর-কোতয়ালী) বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। কিন্তু মামলা ও অসুস্থতার কারণে তিনি দেশে ফিরতে না পারলে তার ছেলে ইশরাক হোসেন মনোনয়ন চাইবেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

    ঢাকা-৭ (লালবাগ) আসনে সাবেক এমপি কারাবন্দী নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর অকাল শুন্যতায় সহধর্মীনি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি নাসিমা আক্তার কল্পনা মনোনয়ন চাইবেন। এর বাইরে বিএনপির সহ যুব বিষয়ক সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি মোশারফ হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাসেল মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

    ঢাকা-৮ (মতিঝিল) থেকে বরাবরই অংশ নিয়ে আসছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। কারাগারে থাকার কারণে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাবিবুন্নবী খান সোহেলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ আসনটি মির্জা অব্বাসের থাকায় আগামী নির্বাচনে তিনি এখান থেকে মনোনয়ন আশা করছেন। ফলে হাবিবুন্নবী খান সোহেল নিজেও আর এতে তেমন আগ্রহী নন। এলাকায়ও যাচ্ছেন না নির্বাচনের পর থেকেই।

    ঢাকা-৯ (সবুজবাগ) আসন থেকে গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা। এ আসনে আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরীর বিপরীতে ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবি খান সোহেল অথবা শিরীন সুলতানাকেই দেখা যাবে। তবে মির্জা আব্বাস তার সহধর্মিনী ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের জন্য মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

    ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি) আসনে প্রাথী হয়েছিলেন সাবেক এমপি ও সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমদ। তার অবর্তমানে আগামী নির্বাচনে ধানমন্ডির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে এলাকার জনপ্রিয় নেতা ও ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শেখ রবিউল আলম কাজ করছেন। বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কারণে তাকে এখন প্রত্যেকদিনই আদালত পাড়া দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করতে হয়। নেতাকর্মীবান্ধব এ নেতা আগামীতে এ এলাকায় জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে তৃণমূলের বিশ্বাস। অন্যদিকে দলের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীমও রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায়। কিন্তু নিজ এলাকার শ্রমিক দল নেতা হত্যাকান্ডের সাথে তার নাম জড়িয়ে পড়ায় এবং মামলার কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে পিছুটান দিতে হতে পারে। এছাড়া এ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদার বড় বোন বিন্দুর প্রার্থীতা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে।

    ঢাকা-১১ (বাড্ডা) থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এমএ কাইয়ুম। ওয়ান-ইলেভেনের পর প্রার্থী সংকটের কারণে তড়িঘড়ি করে তাকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। আগামী নির্বাচনেও তিনি এ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

    ঢাকা-১২ (তেজগাঁও) আসনে ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন আহমেদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এ আসনের সাবেক এমপি বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা আলহাজ মোসাদ্দেক আলী ফালু। কিন্তু রাজনীতি থেকে তিনি অনেকটা নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে আগামীতে এ আসন থেকে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব মনোনয়ন প্রত্যাশী।

    ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর) আসনে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও চেয়াপার্সনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবদুস সালাম মনোনয়ন প্রত্যাশী।

    এ ছাড়াও ঢাকা-১৫ (কাফরুল) আসনে উইং কমান্ডার (অব.) হামিদুল্লাহ খানের মৃত্যুতে এ আসনটির প্রার্থীতা শূন্য রয়েছে। তবে এ আসনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান একক প্রার্থী হিসেবে সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন। দলের হাইকমান্ডও তাকে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ওয়ান ইলেভেন পর থেকে সকল আন্দোলন আর রাজপথে অমানবিক নির্যাতনের শিকার এই নেতা এলাকার সাধারন মানুষের একটি সহানুভূতি পেয়ে আসছেন। এর পাশপাশি প্রায় তিন শতাধিক মামলায় জর্জরিত জনপ্রিয় এ নেতা এলাকায় দলের একটি শক্ত সাংগঠনিক অবস্থানও গড়ে তুলেছেন। আর তার অনুসারীরা ইতিমধ্যে এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

    ঢাকা-১৬ (পল্লবী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। আগামী নির্বাচনে স্থানীয় ইজমের কারনে এ প্রার্থীতাও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারন সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার আহসান উল্লাহ হাসান, কেন্দ্রীয় বিএনপির ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী তালিকায়।

    এ ছাড়াও ঢাকা-১৮ (উত্তরা) আসনটিতে বিগত নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল। স্থানীয় ইজমের কারণে এবার আর তিনি এ আসনে দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন না। অন্যদিকে তিনিও তার নিজ এলাকা খুলনা জেলা থেকে নির্বাচন করার চূড়ান্ত প্রস্ততি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিএনপির মনোনয়নে চমক দেখা যেতে পারে। সামনে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর।

    ঢাকা-১৪ (মিরপুর) আসনে এসএ খালেক, ঢাকা ১৯ আসনে ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা ২০ আসনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম আতাউর রহমান খানের ছেলে এলডিপি থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খানসহ ওয়ান ইলেভেনে দলের দুঃসময়ে ধামরাই বিএনপির কাণ্ডারি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন রয়েছেন।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755