সোমবার, জুন ২২, ২০২০

তামাকে কর বাড়িয়ে ১১ হাজার কোটি অতিরিক্ত আয়ের পরামর্শ

ডেস্ক   |   সোমবার, ২২ জুন ২০২০ | প্রিন্ট  

তামাকে কর বাড়িয়ে ১১ হাজার কোটি অতিরিক্ত আয়ের পরামর্শ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং তামাকবিরোধীদের দাবি অনুযায়ী বাজেটে তামাক কর ও মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করলে তামাকপণ্যের ব্যবহার হ্রাসের পাশাপাশি এ খাত থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করা সম্ভব। এই অর্থ করোনা মোকাবিলা সংক্রান্ত থোক বরাদ্দ এবং প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে।
সোমবার প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা’র উদ্যোগে ২০টি তামাকবিরোধী সংগঠন আয়োজিত অনলাইন বাজেট প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়। প্রস্তাবিত ২০২০-২১ বাজেটে কর বাড়ানোর ওই প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, যা প্রাথমিকভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। তবে তা গ্রহণ করার সুযোগ রয়েছে। কারণ, এখনো বাজেট পাস হয়নি, প্রস্তাব পেশ হয়েছে।
বাজেট প্রতিক্রিয়ায় অর্থনীতিবিদসহ তামাকবিরোধীরা বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মাথাপিছু আয়বৃদ্ধির তুলনায় সিগারেটের নামমাত্র মূল্যবৃদ্ধির ফলে সিগারেটের প্রকৃতমূল্য হ্রাস পাবে এবং ব্যবহার বাড়বে। অন্যদিকে, টানা চতুর্থ বছরের মতো সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক প্রায় অপরিবর্তিত রাখায় লাভবান হবে তামাক কোম্পানিগুলো।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সিগারেটের মূল্যস্তর অপরিবর্তিত রাখায় ভোক্তার স্তর পরিবর্তনের সুযোগ অব্যাহত থাকবে এবং কোম্পানি করফাঁকির সুযোগ পাবে। বিড়ি এবং গুলের অতিসামান্য মূল্যবৃদ্ধি দরিদ্র মানুষের মধ্যে এসব পণ্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করবে না। বিড়ির সম্পূরক শুল্কও টানা চার বছর অপরিবর্তিত রাখায় বিড়ি ব্যবসা লাভজনক হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে সম্পূরক শুল্কের একটি অংশ সুনির্দিষ্ট কর আকারে আরোপ এবং সকল তামাকপণ্যের ওপর ৩ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপের দাবি আমলে না নেয়ায় সরকার ব্যাপক পরিমাণে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে। সর্বোপরি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ তামাককে করোনা সংক্রমণ সহায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণে জোর তাগিদ দিয়ে আসলেও প্রস্তাবিত বাজেটে এর কোন প্রতিফলন নেই। ফলে দেশের প্রায় ৪ কোটি তামাক ব্যবহারকারীর মধ্যে মারাত্মক করোনা সংক্রমণ ঝুঁকিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।
তামাক কর বিষয়ক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, আমরা বার বার বলছি তামাকের ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য তামাকপণ্যের কর ও মূল্য বাড়াতে হবে। কিন্তু সেটার বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। আমাদের উন্নয়ন দর্শন এখন বাজার অর্থনীতি নির্ভর হয়ে গেছে সুতরাং জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। তবে আমরা তামাকপণ্যের দাম বৃদ্ধির কথা বলেই যাব।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাজেট অর্থায়নে ব্যাংকিং খাতের উপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য মোটেও ভালো নয়। সরকারের হাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বাড়তি রাজস্ব আহরণের একটি সুযোগ রয়েছে। আমরা দেখলাম, তামাকপণ্য থেকে অতিরিক্ত ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব, যা বাজেট অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু যারা এটা বাস্তবায়ন করবেন সেই নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এবারের বাজেট ঘোষণার সময় বলা হয়েছে এটি জীবন বাঁচানোর বাজেট। কিন্তু প্রায় ৪ কোটি তামাক ব্যবহারকারীর জীবন রক্ষার কোনো উদ্যোগ এই বাজেটে নেই।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, তামাকপণ্যের কর ও দাম বাড়ানোর সবচেয়ে বড় সুফল হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে তামাক ব্যবহার শুরু করা থেকে নিরুৎসাহিত করা। আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, দরিদ্র মানুষের তামাক ব্যবহারের স্বাস্থ্যক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার সামর্থ্য অনেক কম। সুতরাং দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদেরকেও তামাকপণ্য ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হলে এটা তাদের জন্য উপকারই হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর রিসার্চ ডিরেক্টর ড. মাহফুজ কবীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন ।
তামাকবিরোধী সংগঠন বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, বিসিসিপি, এসিডি, ইপসা, এইড ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট, বিএনটিটিপি, বিটা, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, নাটাব, প্রত্যাশা, টিসিআরসি, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, উফাত, তাবিনাজ, ভয়েস, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা এবং প্রজ্ঞা এই বাজেট প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এটিএন বাংলার নিউজ এডিটর নাদিরা কিরণ।


Posted ৯:৫৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২২ জুন ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]