• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    দুই নবজাতকের পরিচয় নিয়ে হট্টগোল

    | ২৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৮:০৫ অপরাহ্ণ

    দুই নবজাতকের পরিচয় নিয়ে হট্টগোল

    একাধিকবার আল্ট্রাসনোগ্রাফির পর দিপ্তী দাসকে জানানো হয় তিনি সন্তানসম্ভবা। গর্ভে ছেলে সন্তান। আগে একটি মেয়ে সন্তান। তাই ছেলে সন্তানের আশায় বুক বেঁধেছিলেন তিনি। কিন্তু সিজারিয়ান অপারেশনের পর তার কোলে মেয়ে সন্তান দেওয়ায় তিনি অবাক হন। দিপ্তী কোনোভাবেই বিষয়টি মানতে পারছেন না।

    দিপ্তীর স্বজনরা মনে করছেন, পাশাপাশি আরেকটি সিজারিয়ান অপারেশন হওয়ায় ভুলে অন্য এক মায়ের মেয়ে শিশু দিপ্তীকে দেওয়া হয়েছে।


    অন্যদিকে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু দিতে গিয়ে কোনো ধরণের ভুল হয়নি। এ ‘মধুর সমস্যা’ সমাধানের চেষ্টা চলছে।

    আলোচনা হচ্ছে, ভুলটি তাহলে কার? আল্ট্রাসনোগ্রাফ যিনি করেছেন তিনি কি ভুলে মেয়ের বদলে ছেলে সন্তানের কথা বলেছেন দিপ্তীকে? নাকি পাশাপাশি সিজারিয়ান অপারেশন হওয়ায় ভুলে একজনের শিশু আরেকজনের কাছে চলে গেছে? এমন সব কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে হাসপাতাল জুড়ে।

    আজ রবিবার বেলা ২টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় এ নিয়েই যত আলোচনা। নীচতলার প্রসূতি ওয়ার্ডে ঢুকে দুটি শয্যা ঘিরে জটলা চোখে পড়ে। দুই মা ও তাদের সন্তানদের ঘিরে এ জটলা। তামান্না নামের এক মায়ের পাশে ছেলে নবজাতক ও দিপ্তীর পাশে মেয়ে। নবজাতকরা বেশ হাসিখুশি হলেও তাদের মায়েরা অনেকটাই অসুস্থ।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিন শিশুর জন্ম হয়। সদর উপজেলার মোহনপুর এলাকার শারমীন আক্তার, সুহিলপুরের তামান্না আক্তার ও পৌর এলাকার পাইকপাড়ার দিপ্তী রানী দাস ওই তিন সন্তানের জন্ম দেন। সিজারের শারমীন ও তামান্নার কোলে ছেলে শিশু এবং দিপ্তীর কোলে মেয়ে শিশু দেওয়া হয়। জটিলতা সৃষ্টি হয় তামান্না ও দিপ্তীর সন্তান নিয়ে। ছেলে সন্তানটি দিপ্তীর বলে দাবি করা হয়।

    দিপ্তীর মা শোভা রানী বিশ্বাস মেয়ে শিশুটিকে কোলে দেওয়ার সময় আপত্তি করেন। তিনি জানান, সদর হাসপাতালে তিনবার আল্ট্রাসনোগ্রাফ করা হলে প্রতিবারই তার মেয়ের গর্ভে ছেলে সন্তান আছে বলে জানানো হয়। যে কারণে এখন মেয়ে সন্তান কোলে দেওয়ায় তিনি বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তামান্নাকে দেওয়া ছেলে সন্তানটির তার নাতি বলে দাবি করেন।

    তবে তামান্নার স্বজন মো. বকুল মিয়া জানান, তার নাতিনের কোলে যে ছেলে সন্তান দেওয়া হয়েছে সেটিই সঠিক। দিপ্তী ও তার স্বজনরা কি কারণে এমন করছে তা বোধগম্য হচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে বাচ্চা দিতে গিয়ে কোনো ধরণের ভুল হয়নি। তামান্নার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করানো হলে তখন গর্ভে ছেলে সন্তানের কথাই বলা হয়।

    শারমীন নামে এক মায়ের আত্মীয় লুনা বেগম জানান, আমাদের ‘রোগী’ তখন অপারেশন থিয়েটারে। এ সময় দিপ্তীর সন্তান হলে এক স্বজনের কোলে দেওয়ার পর তিনি প্রথমেই জানতে চান ছেলে না মেয়ে। শিশুটিকে কোলে করে নিয়ে আসা নার্স মেয়ে বলার পরপরই তিনি চিকিৎকার দিয়ে ওঠেন।

    এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন জানান, এ নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কোনো ধরণের সুযোগ নেই। একটা সিজারের আধা ঘণ্টা পর আরেকটা সিজার হয়। ডাক্তারও ছিলেন আলাদা। তারপরও যদি এ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকে তাহলে মেয়ে শিশুর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

    এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিভিল সার্জন, সিজার করানো তিন চিকিৎসক, আল্ট্রাসনোগ্রাফ করানো চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু সন্তান দিতে গিয়ে কোনো ধরণের ভুল হয়নি বলেই আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আল্ট্রাসনোগ্রাফ করা চিকিৎসকও জানিয়েছেন দিপ্তীর রিপোর্টে ছেলে কিংবা মেয়ে নিয়ে কোনো ধরণের মন্তব্য করেননি।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী