• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    এক–এগারো প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন

    দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল

    অনলাইন ডেস্ক | ২১ এপ্রিল ২০১৭ | ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ

    দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল

    সেনাসমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন দাবি করেছেন, তাঁদের শাসনামলে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যেসব মামলা হয়েছিল, সেগুলোর একটি ছাড়া বাকিগুলোর কাগজপত্র আগে থেকেই তৈরি ছিল। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সব কাগজপত্র ছিল। এই মামলা করার ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনের কোনো বিষয় ছিল না। কারণ, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ছিল পুরোপুরি স্বাধীন।


    মইনুল হোসেন এ কথা বললেও ওই সময়ে দুদক স্বাধীন ছিল না। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি-অনিয়ম দূর করার অভিযানের জন্য গঠন করা হয় ‘গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’। এর প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তাঁর নেতৃত্বে বছরখানেক দেশব্যাপী অভিযান চালানো হয়।


    গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে এবং এর আগে বুধবার বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মইনুল হোসেন গোয়েন্দা সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, সে সময়ের সেনা কর্মকর্তারা রাজনীতিকদের একটি শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন।

    সাবেক এই উপদেষ্টার বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘মইনুল হোসেন “মাইনাস টু ফর্মুলা” কার্যকর করতে চেয়েছিলেন। তাঁর কাছ থেকে মানুষ কোনো সবক শুনতে চায় না। তাঁর দুর্নীতি-অপকর্মের বিচার হওয়া উচিত। তিনি যে দেশে থেকে এখনো কথা বলছেন, এটাই আশ্চর্যের।’

    অন্যদিকে মইনুল হোসেনের বক্তব্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    ২০০৭-০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিভিন্ন অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছয়টি এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চারটি মামলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার নামে করা মামলাগুলো প্রত্যাহার হয় বা বাদী মামলা তুলে নেন। তবে খালেদা জিয়ার নামে করা মামলাগুলো চলমান।

    বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামলাগুলোর বিষয়ে মইনুল হোসেন বলেন, ‘একটা জিনিস আমি এখন বলতেছি আপনাকে, সেটা আপনি ভেরিফাই (যাচাই) করেন সাংবাদিক হিসেবে, দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে যেসব মামলা দায়ের করা হয়েছে, এ মামলাগুলোর কাগজপত্র আগে থেকেই তৈরি ছিল। নাইনটি নাইন পার্সেন্ট। একটা হয়তো হইতে পারে…একমাত্র ওই যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাস্টের একটা ব্যাপার নিয়ে। ওইটা মনে হয় তারা নতুন করেছে…সেটা ভিন্ন কথা।’

    মামলার কাগজপত্র কারা তৈরি করে রেখেছিল, জানতে চাইলে মইনুল হোসেন গতকাল বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সব কাগজপত্র, ফাইল থাকে, ছিল। তবে কোন গোয়েন্দা সংস্থা কাগজপত্র তৈরি করে রেখেছিল, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। সাবেক এই উপদেষ্টা দাবি করেন, তাঁকে জানানো হয়েছিল, নতুন করে কিছু করা হচ্ছে না। সব মামলার কাগজপত্র তৈরি করা আছে। শুধু শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি মামলা, যেটি ব্যবসায়ী নূর আলী করেছিলেন, সেটি নতুন ছিল। এ ছাড়া সব মামলা রেকর্ডভিত্তিক ছিল।

    মইনুল হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, ‘তাঁদের (সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের) একটা বক্তব্য ছিল যে ব্যারিস্টার সাহেব আমরা তো বেশি দিন থাকব না, কিন্তু একটা শিক্ষা দেওয়া উচিত যে নো বডি ইজ অ্যাবাভ ল (কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়)। সে প্রাইম মিনিস্টার হোক, আর প্রেসিডেন্ট হোক। সে হিসেবে তাঁদের একটা অ্যাটিচিউড কাজ করছে। এটা আমি অস্বীকার করব না।’

    আর গতকাল প্রথম আলোকে মইনুল হোসেন বলেন, ‘উপদেষ্টা হিসেবে আমরা চাইনি দুদকের কাজে হস্তক্ষেপ হোক। তবে রাজনীতিবিদদের যাতে জামিন হয়, চিকিৎসা হয়, তাঁরা হাসপাতালে যেতে পারেন, সেসব বিষয়ে আমরা সহায়তা করেছি।’

    আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অভিযোগ করে আসছে, এক-এগারোর ওই সরকার দেশের প্রধান দুই দলের নেত্রীকে রাজনীতি থেকে সরাতে চেয়েছিল, যা ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ হিসেবে পরিচিতি পায়। মইনুল হোসেনও এই ‘ফর্মুলা’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একজন ছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

    এ বিষয়ে মইনুল হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু আমি সে সময় রাজনীতি নিয়ে কথা বলতাম… তারা (রাজনীতিকেরা) মনে করেছে যেহেতু দুর্নীতির মামলা হচ্ছে, সেটা ব্যারিস্টার সাহেব করতেছে। আই ওয়াজ সিরিয়াসলি মিসআন্ডারস্টুড (আমাকে সাংঘাতিক রকম ভুল বোঝা হয়েছিল)। আমাকে টার্গেট করা হয়েছিল।’

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673