মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২০

দুদক পরিচালক বাবার জানাজায় যেতে না পেরে, ফেসবুকে যা লিখলেন ছেলে

  |   মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০ | প্রিন্ট  

দুদক পরিচালক বাবার জানাজায় যেতে না পেরে, ফেসবুকে যা লিখলেন ছেলে

করোনাভাইরাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে আজ সোমবার সকালে মা’রা গেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক জালাল সাইফুর রহমান। বাবার মৃ’ত্যুর পর ছেলে সামিন রহমান ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি জানান, সেলফ আইসোলেশনে থাকার কারণে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পারেননি সামিন।
দুদক পরিচালক পরিচালকের ছেলের স্ট্যাটাসটি এখানে তুলে ধরা হলো :
আমার বাবা আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কার্ডিয়াক এরেস্টের কারণে মৃ’ত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন)। উনি গত ৩০ মার্চ করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আ’ক্রা’ন্ত হয়ে উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
তবে দুঃখের বিষয় এই যে, উনার মৃ’ত্যুর সংবাদ নিয়ে লেখা প্রতিবেদনেও অনেক ভুল-ভ্রান্তি চোখে পড়ে। সে ভুল-ভ্রান্তিগুলো আমি একটু তুলে ধরতে চাই :
১। আমি উনার একমাত্র সন্তান ছিলাম, আমার কোনো ভাইবোন নেই। ২। আমি এবং আমার আম্মু দুজনই পরিপূর্ণ রূপে সুস্থ আছি।
৩। আমরা গত সাত দিন ধরে দুজনই সেলফ আইসোলেশনে আছি, কোন হাসপাতালে না। আমাদের দুজনকে আরও সাত দিন সেলফ আইসোলেশনে থাকতে হবে। (সেলফ আইসোলেশন বলতে ঘরের মধ্যে নিজেকে আলাদা করে রাখা, কার সাথে দেখা সাক্ষাৎ কিংবা মেলামেশা না করা)।
সেলফ আইসোলেশনের কারণে না বাবার জানাজার অংশ হতে পেরেছি, না উনাকে কবর দেওয়ার অংশ হতে পেরেছি। এর চেয়ে কঠিন কিছু আর নেই। উনাকে আজ ৪টার দিকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। উনি একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ ছিলেন। উনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
আমার বাবা জীবিকার তাগিদে সরকারি আদেশ না আসা পর্যন্ত ২২ মার্চ পর্যন্ত অফিস করেছিলেন। তারপর থেকে তিনি বাসাতেই ছিলেন। কিন্তু তবুও রক্ষা পাননি। তাই এখনো যারা ঘরে থাকার বিধিনিষেধ মানছেন না, তাদের সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না, বর্তমানে এই মুহূর্তে আমার এবং আমার পরিবারের ওপর দিয়ে যা যাচ্ছে, সেটা আমার শত্রুকেও মোকাবিলা করতে হোক।
১৫ জেলায় ছড়িয়েছে করোনা
নভেল করোনাভাইরাস দেশের ১৫ জেলায় ছড়িয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাইবান্ধা জেলাতে একই এলাকায় কম দূরত্বে একাধিক আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া গেছে।
সোমবার নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখন পর্যন্ত ১২৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আমার কাছে ১২১ জনের তথ্য আছে। এদিন তিনি দেশের ১৫টি জেলার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশের ১৫টি জেলায় কেইস পেয়েছি। ক্লাস্টার আমরা বলব, যেখানে একাধিক ব্যক্তি আছেন এবং এক জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ আছেন, সে জায়গাটা। এ ধরনের ব্যবস্থা (ক্লাস্টার) হতে পারে ঢাকা মহানগরী, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাইবান্ধায়।


Posted ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]