• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    দুর্ঘটনায় মৃত্যু যুবকের, অঙ্গ চার জনের শরীরে

    | ০৪ মার্চ ২০২১ | ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ

    দুর্ঘটনায় মৃত্যু যুবকের, অঙ্গ চার জনের শরীরে

    সড়ক দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন এক যুবক। উন্নত চিকিৎসা পেতে গ্রাম থেকে শহরের বেসরকারি হাসপাতালে তাকে নিয়ে এসেছিলেন বাবা। কিন্তু এক দিন পরেই ছেলের ব্রেন ডেথ ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা। একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়লেও পরক্ষণেই ওই ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নেন অঙ্গদানের। চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তিনি জানিয়ে দেন, ‘আমার ছেলে তো চলেই গেল। ওর অঙ্গ পেয়ে অন্য ছেলেমেয়েরা বাঁচুক। ওদের মধ্যেই আমার ছেলে বেঁচে থাকবে।’ এর পরেই ওই যুবকের হৃৎপিণ্ড, লিভার, কিডনি দানের প্রক্রিয়া শুরু হয়।


    পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ের নাসরা গ্রামের বাসিন্দা শুকদেব দাস অধিকারীর একমাত্র ছেলে বাসুদেব দাস অধিকারী (২২)। পড়াশোনা শেষ করে বাবার সঙ্গেই চাষের কাজ করতেন। তার আত্নীয়রা জানান, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পাশের এলাকাতেই জলসা দেখতে গিয়েছিলেন বাসুদেব। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখান থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফেরার পথে বাড়ি থেকে কিছু দূরে দুর্ঘটনা ঘটে। মাথায় আঘাত লাগে যুবকের। রাতেই সবং গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন সকালে মেদিনীপুরে নিয়ে মাথার সিটি স্ক্যান করা হয়। আরও ভাল চিকিৎসার জন্য কলকাতার অ্যাপোলোয় নিয়ে যাওয়া হয়।

    ajkerograbani.com

    ২৮ ফেব্রুয়ারি বাইপাসের কাছে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন বাসুদেব। ১ মার্চ চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, তার ব্রেন ডেথ। চাচাতো ভাই নন্দ বলেন, ‘ভাইয়ের ব্রেন ডেথ হয়েছে শুনেই বুঝতে পারি ও আর বাঁচবে না। তখন ভাবি, ওর শরীরে যে অঙ্গগুলি সতেজ রয়েছে, সেগুলো যদি অন্যদের কাজে লাগে। বিষয়টি চাচাকে বলাতে তিনিও সম্মতি দেন।’ পরিবারের থেকে সম্মতি মেলার পরেই ওই হাসপাতালের পক্ষে বিষয়টি জানানো হয় ‘রিজিয়োনাল অর্গান অ্যান্ড টিসু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন’ এ (রোটো)।

    রোটোর যুগ্ম কর্মকর্তা, চিকিৎসক অর্পিতা রায়চৌধুরী বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে গ্রামের মানুষ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। যে অনুভূতি ও স্বতঃস্ফূর্ততা তাদের মধ্যে দেখা গেছে, তা সবার থাকে না। তাই ওই যুবকের পরিবারের সিদ্ধান্ত শিক্ষণীয় ও প্রশংসার।’ তিনি আরও বলেন, ‘শহরের শিক্ষিত মানুষকেও অঙ্গদানের বিষয়ে অনেক বোঝাতে হয়। অনুরোধ করা হলেও, অনেকেই তা রাখেন না।’

    রোটোর পক্ষে জানা গেছে, বাসুদেবের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছে হাওড়ার নারায়ণা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি ১৩ বছরের এক বালকের শরীরে। হৃৎপিণ্ডের ভাল্‌ভে জন্মগত ত্রুটি ছিল তার। বাসুদেবের একটি কিডনি পেয়েছেন এসএসকেএমের এক তরুণী। অন্য কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে অ্যাপোলোয় ভর্তি পার্ক স্ট্রিটের বাসিন্দা ২৩ বছরের এক যুবকের শরীরে। ওই হাসপাতালেই নদিয়ার বাসিন্দা ৫৫ বছরের বৃদ্ধকে দেওয়া হয়েছে লিভার।

    এ দিন সকালে বাসুদেবের শরীর থেকে ওই অঙ্গগুলি বের করার প্রক্রিয়া শুরু করেন চিকিৎসকেরা। বাইপাসের ওই হাসপাতাল থেকে এসএসকেএম এবং হাওড়ার বেসরকারি হাসপাতালে অঙ্গ পৌঁছতে পুরো রাস্তা গ্রিন করিডর করা হয়। বিকেল চারটার সময়ে অঙ্গ নিয়ে রওনা দিয়ে ৪টা ১৬ মিনিটে হাওড়ায় পৌঁছে যায় হৃৎপিণ্ড। ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, গত ১৭ আগস্ট সেখানেই এক বালকের হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। এ দিন দ্বিতীয় বার হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন হল কোনও বালকের শরীরে। যা পূর্ব ভারতে দ্বিতীয় পেডিয়াট্রিক হার্ট প্রতিস্থাপন।

    সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757