• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    দুর্দিনে আশ্রয় দেয়া বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান বিএনপির আইন সম্পাদক কামাল

    ডেস্ক | ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৯:১৬ অপরাহ্ণ

    দুর্দিনে আশ্রয় দেয়া বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান বিএনপির আইন সম্পাদক কামাল

    বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে প্রতারণার মামলায় রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশের এসআই আওলাদ হোসেন আসামিকে আদালতে হাজির করে ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।


    রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রুত বিশ্বাস ৫ দিনের মধ্যে যে কোনো একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন।

    এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় কায়সার কামালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন- মামলার বাদী ব্যারিস্টার আতিকুর রহমানের সঙ্গে কায়সার কামালের পরিচয় রাজনীতির সুবাদে। খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে মামলায় আটকের কয়েকদিন আগে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে আসামি বাদীর বাসায় আশ্রয় চান। বাদী সরল বিশ্বাসে আশ্রয় দেন। সুযোগের অপব্যবহার করে এবং বাদীর স্ত্রীর সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার ফাঁদ ফেলে আসামি বাদীর স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

    গত সপ্তাহের বাদী দেখতে পান, কলাবাগান থানাধীন সার্কুলার রোডে বাদীর স্ত্রী আসামির (কায়সার কামাল) গাড়ি থেকে নামছে। এ বিষয়ে বাদীর শ্বশুর শ্বাশুড়িসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আসামিকে বোঝানোর পরেও তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

    গত ৪ ডিসেম্বর বিকেল ৫টার দিকে বাদী আসামির গাড়ি ফলো করতে করতে কলাবাগান থানাধীন শেলটেক টাওয়ারের সামনে আসেন। বাদী দেখতে পান, তার স্ত্রী আসামির গাড়িতে উঠছে। এরপর বাদী আসামির গাড়ির দরজা টান দিয়ে মোহন নামের একজনসহ জনগণের সহযোগিতায় আসামিকে ধরেন। আসামি প্রতারণার মাধ্যমে বাদীর মান ক্ষুণ্ণ করেছেন।

    আসামির এইরূপ কর্মে বাদীর স্ত্রী, সন্তানসহ সংসার ধংসের মুখে পড়েছে। দুর্দিনের আশ্রয়দাতাকে চরমভাবে প্রতারণার শিকার করেছে, যা অনৈতিক ও প্রতারণার সামিল। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামির নাম-ঠিকানা যাচাইকরণের লক্ষ্যে, অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন ।

    রাষ্ট্রপক্ষে হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন। তিনি বলেন, ‘যাদের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে, অথচ তারাই যদি এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ করেন। আসামি যে কাজ করেছেন মূর্খ মানুষেরও মানায় না। দায়িত্বশীল ব্যক্তি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন। পুলিশ তার তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছেন। রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’

    আসামিপক্ষে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার কাজল, গোলাম মোস্তফা খান, বোরহান উদ্দিন, মকবুল হোসেনসহ বেশকিছু আইনজীবী রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন।

    আসামির আইনজীবীরা আদলতেকে বলেন, ‘পুলিশ রিমান্ড আবেদন করেছে নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করার জন্য। কায়সার কামাল ঢাকা আইনজীবী সমিতি, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য। এখানে রিমান্ডের কোনো যৌক্তিকতা নেই। আসামি ও বাদী আমাদের বন্ধু। সবাই আইনজীবী, ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটা হয়েছে। তাদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। সন্দেহের কারণে মামলা হয়েছে।

    তারা বলেন, পারিবারিকভাবে দুই দিনের মধ্যে মামলাটা আমরা শেষ করে ফেলব। মামলাটি জামিনযোগ্য ধারার। জামিন পাওয়ার অধিকার তার আছে। তাছাড়া আসামি অসুস্থ। যে কোনো শর্তে আমরা আসামির জামিনের প্রার্থনা করছি।’

    উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জেলগেটে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়- ‘আতিকুর রহমানের অনুমতি ছাড়া তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ, গাড়িতে নিয়ে ঘোরা তথা সম্পর্ক বজায় রেখেছেন কায়সার কামাল। এ সম্পর্কের ফলে তিনি নিজে এবং নিজের সংসার জীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’ এঘটনায় তিনি রাজধানী কলাবাগান থানায় ৪২০ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী