• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    কাকরাইলে মা-ছেলে খুন

    দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুঁজছে পুলিশ তৃতীয় স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ

    অনলাইন ডেস্ক | ০৩ নভেম্বর ২০১৭ | ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

    দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুঁজছে পুলিশ তৃতীয় স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ

    রাজধানীর কাকরাইলে চাঞ্চল্যকর মা-ছেলে খুনের পর ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তবে পারিবারিক বিরোধকে সামনে রেখে এই জোড়া খুনের তদন্ত চলছে।


    ষাটোর্ধ্ব গৃহকর্তা ও ব্যবসায়ী আবদুল করিমের তিন স্ত্রীর মধ্যে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড হল কি না পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।


    এরই মধ্যে পুলিশ গৃহকর্তা ও তার তৃতীয় স্ত্রী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মুক্তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গৃহকর্তার তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুঁজছে পুলিশ।

    একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বাসার কাজের মেয়ে রাশিদা বেগম (৪৫) এবং দারোয়ান নোমানকে (৫২)। থানা পুলিশ এবং ডিবি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

    নিহত ৪৫ বছর বয়সী শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী খোকন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেছেন।

    এদিকে বৃহস্পতিবার মা-ছেলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিত্সক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, মা শামসুন্নাহার ও ২৮ বছর বয়সী ছেলে সাজ্জাদুল করিম শাওন দুইজনই ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন।

    দুইজনের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে মায়ের চেয়ে ছেলের শরীরে জখমের সংখ্যা বেশি। আটকদের বৃহস্পতিবার সকালে নেয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালেয় (ডিবি)।

    পুলিশের রমনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-কমিশনার নাবিদ কামাল শৈবাল জানান, নিহত শাওন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ‘ও’ লেভেল পাস করেছেন।

    তিনি ‘এ’ লেভেলে পড়তেন। মশিউর করিম মিশু ওরফে মুন্না (২৮) এবং আশিকুর করিম অনিক (২৭) নামে শামসুন্নাহারের আরও দুই ছেলে রয়েছে।

    মুন্না লন্ডনে ও অনিক কানাডায় পড়াশোনা করেন। রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আজিমুল হক একই ধরনের তথ্য জানিয়ে বলেন, এখনও উলে্লখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।

    ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রাজিব আল মাসুদ বলেন, জোড়া খুুনের ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে শিগগিরই রহস্য বের হবে।

    বুধবার সন্ধ্যায় কাকরাইলের তমা সেন্টার গলির কাছে বহুতল ভবনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। বাড়ির পাঁচতলার ফ্ল্যাট থেকে মায়ের ও চারতলার সিঁড়ি থেকে ছেলে শাওনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

    পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবদুল করিমের একাধিক বিয়ে নিয়ে সংসারে বিরোধ চলছিল। কাকরাইলে করিমের একাধিক ছয়তলা বাড়ি আছে। ‘করিম টাওয়ার’ নামে একটি আলিশান ভবনও রয়েছে তার।

    এছাড়া পলওয়েল মার্কেটে দোকান ছাড়াও পুরান ঢাকায় তার আছে কাঁচামালের আড়ত। গ্রোসারি ব্যবসার পাশাপাশি করিম চলচ্চিত্র ব্যবসায় জড়িত।

    চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি প্রযোজনাও করেন। ‘বন্ধু তুমি/শত্রু তুমি’ ছবির প্রযোজনা করেছেন করিম। করিম কখনও তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে কাকরাইলে আবার কখনও তৃতীয় স্ত্রী মুক্তার সঙ্গে পল্টনে থাকতেন।

    প্রায় ২২ বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন করিম। বিয়ের দুই বছরের মধ্যেই দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেন করিম। ওই সংসারে আকাশ (২০) নামে এক ছেলে রয়েছে। আকাশ কলেজে পড়েন। চার বছর আগে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে অভিনেত্রী মুক্তাকে বিয়ে করেন করিম। করিমের গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ সদরের মুক্তারপুরে।

    একাধিক সূত্র জানায়, বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে করিমের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর কর্তৃত্ব ফলাত করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার। এটি মেনে নিতে পারছিল না তৃতীয় স্ত্রী মুক্তা।

    এ নিয়ে কাকরাইলের বাসায় প্রায়ই ঝগড়াঝাটি হতো। সম্প্রতি মুক্তা তার ভাইদের নিয়ে কাকরাইলের বাসায় এসে শামসুন্নাহারকে হুমকি দিয়ে যান। এ সময় শামসুন্নাহারকে মারধরও করা হয়।

    পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে করিম জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি অফিসে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তিনি বাসায় আসেন।

    বাসায় কাজের লোক রাশিদা বেগম পুলিশকে জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় তিনি রান্নাঘরে ছিলেন। হঠাৎ কে বা কারা রান্নাঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকে দেয়।

    এ সময় তিনি ঘর থেকে চিৎকার শুনতে পান। পরে ওই ভবনের দারোয়ান নোমান এসে রান্নাঘরের দরজা খুলে দিলে বাইরে বের হয়ে একটি রুমে শামসুন্নাহারের লাশ এবং সিঁড়িতে শাওনের লাশ দেখতে পান।

    দারোয়ান নোমান পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি বাসার নিচেই ছিলন। হঠাৎ ৩০-৩৫ বছর বয়সী একজন লোক সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বলেন, ‘ওপরে যান, সেখানে মারামারি হচ্ছে।’ এরপর তিনি ওপরে যান।

    গৃহকর্তা করিমের ভাই মোক্তার হোসেন বলেন, ‘আমি গ্রামে থাকি। ঘটনা শোনার পর ঢাকায় আসি। করিম যে তৃতীয় বিয়ে করেছেন তা আমার জানা ছিল না।

    অত্যন্ত গোপনে ওই বিয়ে হয়েছিল। মুক্তা ডিবির হাতে আটকের পর বিষয়টি জানতে পারি।’ মোক্তার হোসেন বলেন, ‘দ্বিতীয় বিয়ের খবরটি সবার জানা ছিল।

    ওই স্ত্রীর সঙ্গে অনেক আগে ডিভোর্স হয়ে গেছে। তার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ নেই। তবে ওই ঘরের সন্তান আকাশ প্রায়ই আমাকে ফোন করেন।

    যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। আকাশের পড়ালেখার খরচ করিমই বহন করেন।’

    ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ জানান, শামসুন্নাহারের বুকের ওপর ছুরির আঘাতটি ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    ছেলের বুকের উভয় পাশের ছুরির আঘাতই ফুসফুস ভেদ করেছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    লাশ দুটি এখন বারডেমের হিমঘরে রাখা হবে। নিহত শামসুন্নাহারের বড় দুই ছেলে ফেরার পর লাশ দাফন করা হবে।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673