• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ‘ধর্ষণ’ ও মা-মেয়েকে ন্যাড়া করার ঘটনায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ০৪ আগস্ট ২০১৭ | ৬:১৭ অপরাহ্ণ

    ‘ধর্ষণ’ ও মা-মেয়েকে ন্যাড়া করার ঘটনায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে

    বগুড়ায় কিশোরীকে ‘ধর্ষণ’ ও মা-মেয়েকে ন্যাড়া করার ঘটনায় ডাক্তারি পরীক্ষার পর ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


    এ ঘটনায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়া গেছে; সেটা পজিটিভ। মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ধর্ষণ করা হয়েছে।”

    ajkerograbani.com

    বগুড়ার জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এ কে এম সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়।

    এর আগে গত মঙ্গলবার ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার সেই ছাত্রী দুটি আদালতে জবানবন্দি দেয়। মেয়েকে ধর্ষণের পর মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক তুফান সরকার ও তাঁর সহযোগীরা এসএসসি পাস ওই ছাত্রীকে ভালো কলেজে ভর্তি করার কথা বলে গত ১৭ জুলাই শহরের নামাজগড় এলাকায় তাঁদের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। ধর্ষণের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গত শুক্রবার বিকেলে তুফান সরকারের স্ত্রী আশা ও তাঁর বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তার রুমকিসহ কয়েকজন মিলে ওই ছাত্রী ও তাঁর মাকে বেধড়ক পিটিয়ে নাপিত দিয়ে দুজনের মাথা ন্যাড়া করে দেয় । মা ও মেয়েকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    হাসপাতালে মেয়ের মা বলেছেন, ‘আমরা সমাধানের জন্য কমিশনারের (কাউন্সিলর) কাছে গেছি। কমিশনার উল্টা মা আর মেয়ের চুল কেটে, এসএস পাইপ দিয়ে আমাদের মা-মেয়েকে মারছে। অনেক নির্যাতন করছে। পাঁচ মিনিট পরপর টর্চারিং, পাঁচ মিনিট পরপর আমাদের মাইর। কমিশনার (কাউন্সিলর), কমিশনারের মা ও তাঁর বোন আশা এই তিনজনার চরম বিচার চাই, চরম শাস্তি হোক।’

    পুলিশ মূল আসামি তুফান, তাঁর সহযোগী রূপম, আলী আজম ও আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আতিকুর। এছাড়া বাকিদেরও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পুলিশ তুফান সরকারের শ্বশুর জাহিদুল ও নাপিত জীবনকে বগুড়া শহর থেকে গ্রেপ্তার করে। সন্ধ্যার পর বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ দল পাবনা শহরের হেমায়েতপুরে অভিযান চালিয়ে কাউন্সিলর মার্জিয়া আকতার রুমকি ও তাঁর মা রুমিকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া ঢাকায় ডিবি পুলিশের একটি দল সাভার থেকে তুফানের স্ত্রী আশা, গাড়িচালক জিতু ও সহযোগী মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে।
    এ ঘটনায় ২৩ জুন বিকালে তুফানসহ ১০ জনকে আসামি মামলা করেন ওই কিশোরীর মা। মামলার পর ঘটনাটি গণমাধ্যমে এলে দেশ জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়; এরপর তুফানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে জাতীয় শ্রমিক লীগ।

    গ্রেপ্তারদের মধ্যে প্রধান আসামি তুফানকে ইতোমধ্যে প্রথম দফায় তিনদিন এবং দ্বিতীয় দফায় দুইদিন মিলিয়ে দুই দফায় মোট পাঁচদিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

    তুফানসহ মামলার দুই আসামিকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে শিমুল নামে একজন এখনও পলাতক রয়েছেন।

    বাকি আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তারের পর কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকিকে চারদিন এবং তুফানের স্ত্রী আশাকে দুই দফায় মোট তিনদিন, শ্বশুর জামিলূর রহমান রুনুকে দুইদিন, শাশুড়ি রুমি খাতুনকে দুই দফায় তিনদিন, সহযোগী যুবক মুন্নাকে দুই দিন করে দুই দফায় মোট চারদিন এবং তুফানের গাড়িচালক জিতু ও নরসুন্দর জীবন রবিদাসকে দুইদিন করে রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
    রুপম ও দিপু নামের আরও দুই আসামিকে তিনদিন করে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া গ্রেপ্তারের পর আতিক নামে আরেক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেনি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর নাপিত জীবন কুমার রবিদাস ও আসামি দিপু বুধবার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আজাদ বলেন, তুফানের ধর্ষণের কথা আতিক স্বীকার করেছে। তিনি বলেছেন, ধর্ষিত কিশোরী যেন গর্ভবতী না হয় সেজন্য তুফানের কথামত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি এনে দিয়েছেন। আর নাপিত জীবন রবিদাস জবানবন্দিতে কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকির নির্দেশে ওই কিশোরী ও তার মায়ের মাথা মুণ্ডন করে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।

    আজাদ বলেন, প্রথমে মুন্না ডাকতে এলে না গেলেও পরে আতিক এসে তাকে নিয়ে যাওয়ার পর কাউন্সিলর মারজিয়া হাসানের নির্দেশে মা-মেয়ের মাথা মুণ্ডনের কথা জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন জীবন রবিদাস। মাথার চুল কেটে দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে ভাষ্য এই নরসুন্দরের।

    আসামিদের মধ্যে তুফান এবং রুমকিকে শুক্রবার আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের পাঁচদিনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755