• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    মন্তব্য প্রতিবেদন

    ধর্ষণ: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক

    মশি শ্রাবন | ০৬ অক্টোবর ২০২০ | ১২:০৮ অপরাহ্ণ

    ধর্ষণ: দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক

    করোনাকালেও দেশে নারী নির্যাতন থেমে নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীরা প্রতিনিয়ত খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী সিলেটের এমসি কলেজে নববধূকে ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটেনি। এরই মধ্যে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনাটি সামনে এসে গেল। আমাদের এই সমাজে বাস করা কিছু মানুষ যে কতটা বিকৃত মানসিকতার হতে পারে তা প্রমাণিত হয়েছে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে।


    ৩১ দিন আগে বেগমগঞ্জের নুর ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বখাটে দেলোয়ার হোসেন, বাদল, কালাম ও রহিমের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাতে ঘরে ঢুকে ভিকটিমের ওপর পৈশাচিকতা চালায় এবং ভিডিওচিত্র ধারণ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকের এ ঘটনায় ওই নারী রবিবার বেগমগঞ্জ থানায় দুটি মামলা করেন। দুই মামলাতেই নয়জনকে আসামি করা হয়।
    মামলার এজাহারে ওই নারী অভিযোগ করেছেন, স্বামীকে বেঁধে রেখে আসামিরা তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ধারণকৃত ভিডিওচিত্র ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে গত এক মাস তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল। ইতিমধ্যে প্রধান আসামি বাদলসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে হতাশা রয়েছে। ভিকটিম ধর্ষকদের স্বজন ও সমাজের ভয়ে মুখ খুলে বলতে চায় না। বিচার চাইতে গেলে লাঞ্ছনার শিকার হয়। আসামিদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক আক্রমণ ইত্যাদি চলে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আমরা মনে করি, নারী নির্যাতন রোধে আইন প্রয়োগের প্রতি ধাপে দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের অধীনে সাজা নিশ্চিত করতে হবে।


    সমাজে নানারকম যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারীর নগ্নছবি কিংবা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ নতুন একটা প্রবণতা হিসেবে হাজির হয়েছে। এক্ষেত্রে একটি অপরাধের সূত্র ধরে অপরাধীরা আরও কয়েকটি অপরাধ করার সুযোগ নিচ্ছে।

    ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করার জন্য কঠোর আইন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ। ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের খবর যত পাওয়া যায়, এসব অপরাধের দায়ে অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তার চেয়ে অনেক কম। অপরাধ করে পার পাওয়া যায় এ ধরনের বিশ্বাস থেকে অপরাধীরা অপরাধকর্মে লিপ্ত হয়। এটা শুধু পেশাদার অপরাধীদের ক্ষেত্রে নয়, যেকোনো সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। তাই ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংস অপরাধের রাশ টেনে ধরার জন্য প্রথম কর্তব্য এসব অপরাধের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে গতি সঞ্চার করা। অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। একটার পর একটা ধর্ষণ এবং নিপীড়নের খবরের সমান্তরালে যদি শাস্তির খবরও নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ধর্ষণপ্রবণতা এবং সহিংসতা হ্রাস পাবে। সে জন্য উল্লিখিত প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের উদ্যোগ নেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

    একইসঙ্গে, ধর্ষক বা যৌন নিপীড়কের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ উঠছে তা বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। কোনোভাবেই ধর্ষক ও নিপীড়কদের রাজনৈতিকভাবে পৃষ্ঠপোষণ করা যাবে না। শুধু অপরাধ সংঘটনের পরে নয়, অপরাধ ঘটানোর আগেও সরকার ও রাজনৈতিক দলকে সচেতন থাকতে হবে- যাতে নিপীড়করা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম ঘটাতে না পারে। তারা যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বলয়কে ব্যবহার করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। একটা দেশে সামগ্রিকভাবে সুষ্ঠ সামাজিক সংস্কৃতির বিকাশ না ঘটলে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ রোধ করা কোনোভাবেই সহজ হবে না। সবার মিলিত চেষ্টায় যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য হোক।

    লেখক: প্রকাশক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক দৈনিক মাতৃভূমি।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673