• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ধুমপানে আর্থ-সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটছে

    ফারুক আহম্মেদ (জাপানী ফারুক) | ০৭ আগস্ট ২০১৭ | ৬:৩৫ অপরাহ্ণ

    ধুমপানে আর্থ-সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটছে

    তামাক ব্যবহারের কারণে দেশে প্রতি বছর ৫৭ হাজার মানুষের মৃত্যু ও ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ পঙ্গু হয়ে যায়। ধুমপান বিষপানের চাইতেও মারাত্মক। কারণ বিষপানে জীবনের মৃত্যু ঘটে কিন্তু ধুমপানে মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মরে। এতে আর্থ-সামাজিক ও মানসিক বিপর্যয় ঘটে। এর ফলে ব্যক্তি ও সমাজ সুনিশ্চিত অকল্যাণের দিকে ধাবিত হয়। ধুমপান অন্যান্য নেশার মত এক ধরনের নেশা। মানুষ কোন খারাপ ব্যাপারে একবার অভ্যস্ত হয়ে পড়লে তা আর সহজে ত্যাগ করতে পারেনা। তাই ধুমপায়ীরা মাদকাসক্ত বা অন্যান্য নেশাখোরদের মত ক্রমাগত ধুমপান করে যায়। ধুমপায়ীদের মুখে দু’মুঠো অন্ন না জুটলেও তারা এক টুকরা সিগারেটের জন্য পাগলপারা হয়ে যায়। এ নেশা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে অশুভ ফল বয়ে আনে। ধুমপায়ী ও পরো ধুমপানের কারণে উভয়েরই স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, হƒদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, ব্রংকাইটিস, য²া, কণ্ঠনালী ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হাঁপানিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
    অথচ ২০০৫ সালে ধুমপানবিরোধী আইনটি প্রনয়নের পর যত্রতত্র জরিমানার দৃশ্য দেখা গেলেও সেটা এখন আর দৃশ্যমান নয়। তবে এই আইনের প্রভাবে মানুষ এখন প্রকাশ্যে ধুমপান করতে অস্বস্তি ও লজ্জাবোধ করে। এটা জনসচেতনতারই প্রমান। পাবলিক প্লেসে প্রকাশ্যে ধূমপানের শাস্তি ৩০০ টাকা করার বিধান রেখে ২০০৫ সালের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও সংশোধন বিল-২০১৩ সংসদে উপস্থাপন করা হয়। এফটিসি চুক্তিতে ধুমপানে উৎসাহীত হয় এমন কোন পদক্ষেপ না নিতে বলা হলেও আমাদের আইনের দূর্বলতায় সিগারেট কোম্পানীগুলো বিভিন্ন কৌশলে বিনামূল্যে ধুমপানের সুযোগ দিয়ে কিশোর যুবকদের ধুমপানে উৎসাহিত করছে।
    রাস্তার পাশে চাকা লাগানো টং-ঘরের মত সিগারেটের দোকানগুলোর প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন যেন আমাদের গা-সহা হয়ে গেছে। আমাদের দেশে পান-জর্দার মত ক্ষতিকর তামাকও প্রকাশ্যে বিক্রি ও সেবন হচ্ছে। আমাদের প্রতিবেশী নেপাল, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকায় সিগারেটের মোড়কে ভীতিকর ছবি ব্যবহার করা হলেও ভয় প্রদর্শনের এরকম বিধান আমাদের নেই। দূর্ভাগ্য আমাদের, সিগারেট উৎপাদনকারী বহুজাতিক কোম্পানীগুলো আমাদের আইনকে দূর্বল করার জন্য গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করে আসছে। তাই বর্তমানের সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেসের সংজ্ঞা দেয়া হলেও ধুমপানের জন্য নেই নির্দিষ্ট কোন এরিয়া। ধুমপায়ীরা তো অনেকটা নেশাগ্রস্থের মতই। তাহলে আইনে তাদেরকে ধুমপান বা তামাক সেবনের জন্য স্পষ্ট কোন নির্দিষ্ট জায়গার বিধান করে দিতে হবে।
    আমাদের বর্তমানের সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেস বলতে বুঝানো হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়াত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি অফিস, প্রন্থাগার, লিফট, হাসপাতাল ও ক্লিনিক ভবন, সমুদ্রবন্ধর ভবন, নৌ বন্ধর ভবন, রেলওয়ে স্টেশন ভবন, দাঁড়ানোর লাইন, খেলার মাঠ, বাস টার্মিনাল ভবন, প্রক্ষাগৃহ, আচ্ছাদিত প্রদর্শনী কেন্দ্র, থিয়েটার হল, বিপনী ভবন, রেস্টুরেন্ট, পাবলিক টয়লেট, শিশুপার্ক, জাতীয় পর্যায়ে অনু¯ি¤ত মেলা এবং স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক ঘোষিত অন্য যে কোনো পাবলিক প্লেস। পাবলিক প্লেসের সংজ্ঞায় নতুন করে বেসরকারি অফিস অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে যা ২০০৫ এর আইনে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পাবলিক প্লেসে ধূমপানের শাস্তি ছিল ৫০ টাকা। বর্তমান আইনে সেটা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে একই ব্যক্তি দ্বিতীয় বার বা বারবার একই অপরাধ করলে পর্যায় ক্রমিকভাবে দ্বিগুণ হারে অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন। এছাড়া, পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনের মালিক, তত্ত¡াবধায়ক, নিয়ন্ত্রণকারী বা ব্যবস্থাপক আইন লংঘন করলে তাকে অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা গুণতে হবে। বিলে গুল, জর্দ্দা, খৈনী, সাদাপাতাসহ চোষণ ও চিবানোর মাধ্যমে গ্রহণ করা তামাকজাত দ্রব্যকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
    আসলে বিশ্বে এখন আর ধুমপান নিয়ন্ত্রনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটা নিষিদ্ধের পর্যায়ে চলে এসেছে। নিউজিল্যান্ড ২০২৫ সালের মধ্যে সেদেশে ধুমপান সম্পূর্ন নিষিদ্ধ করার আইন প্রনয়ন করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন দেশের মানুষের জীবন রক্ষার্থে ধুমপানের বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাশ করেন। ২০১০ সালে ভারতের প্রথম ধুমপানবর্জিত রাজ্যের স্বীকৃতি পায় সিকিম। তামাক চাষ, বিক্রয়, বিতরন সম্পূর্নভাবে নিষিদ্ধ আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানে। অটোম্যান সাম্রাজ্যের ঐতিহ্যের প্রতীক হুক্কা এখন তুরস্কে নিষিদ্ধ হলেও আমাদের অভিজাত এলাকায় ক্রমবর্ধমান সীসা আর হুক্কা সেবনের নানারকমের পারলার, লাউজ্ঞ আর ক্যাফের জৌলুষ দিন দিন কিন্তু ঠিকই বেড়েই চলেছে।
    গবেষকদের মতে শরীরের ক্ষতিকর সিগারেটের চেয়ে অনেক গুন বেশী ক্ষতি করে জর্দ্দা, গুল ও আলাপাতা। সিগারেটের ধোঁয়ায় শরীরে নিকোটিনের সৃষ্টি হয়। যা মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু জর্দ্দা, গুল ও আলাপাতা সরাসরি তামাক খাওয়ায় আরও বেশী ক্ষতিকর। সমাজের একটা বিরাট অংশ পানের সাথে জর্দ্দা দেদারসে খাচ্ছেন। সামাজিকভাবে সিগারেট খাওয়ার বিষয়টি বয়বৃদ্ধদের কাছে দৃষ্টকটু। কিন্তু একই লোকের সামনে পানের সাথে জর্দ্দা খেলে কোন সমস্যা নেই। গুল বা আলাপাতা খেলেও কোন দৃষ্টিকটু দেখায় না। দৃষ্টিকটু না হলে কি হবে, সবচেয়ে ক্ষতিকর জর্দ্দা, গুল ও আলাপাতা খাওয়া। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এসব ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার থেকে নিজে নিজেই বিরত না হলে, কেউ বলে বা আইনের মাধ্যমে শাস্তি বা জরিমানা করলেই নিয়ন্ত্রণ হবে না।


    লেখক : সহ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ কমিটি, সাধারণ সম্পাদক জাতীয় শ্রমিক লীগ আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটি ও সহ সভাপতি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ।

    ajkerograbani.com

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755