• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    নতুন বছরের প্রত্যাশা: আনিসুর রহমান

    | ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

    নতুন বছরের প্রত্যাশা: আনিসুর রহমান

    আসছে ২০২০ খ্রিস্টাব্দ। এই বছরটা বাঙালিদের জন্য বা বাংলাদেশীদের জন্য একটু আলাদা, কারণ, ২০২০ সালে বাংলাদরশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষীকি। নিংসন্দেহে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপিত বঙ্গবন্ধু।
    বঙ্গবন্ধু সারাটি জীবন বাঙালির মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন, জেল খেটেছে, হামলা, মালমার স্বীকার হয়েছেন। তিনি ছোট বয়স থেকেই ছিলেন অত্যন্ত উপকারী ও জনদরদী মানুষ। তিনি মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে। ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ প্রর্যন্ত তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে প্রত্যেক পদে পদে নিজেকে উৎসর্গ করেছে এই দেশের মানুষের জন্য।


    কবি বলেন, ’এমন জীবন তুমি করিবে গঠন/ মরিলে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভূবণ।’ শেখ মুজিব সেই জীবন গঠন করতে পেরেছে, যার জন্য তাকে মানুষ স্মরণ করে, হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে শ্রদ্ধা করে।
    কবি বলেছেন, যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা গৌরী বহমান/ ততদিন রবে তুমি শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিব প্রত্যেক বাঙালির বুকে রয়েছেন, হৃদয়ে রয়েছেন। তার সাতই মার্চের ভাষণ মুক্তির মূলমন্ত্র, বাঙালির মুক্তির শ্রেষ্ঠ সদন।


    কিউবার নেতা, ফিদেল কাস্ত্র শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখে বলেছিলো, আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু আমি শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখেছি। এ ধরনের আরো অনেক বিশ্ব নেতারা বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে দারুণ সব কথা বলেছেন। জাতিসংঘের বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দানকারী সংস্থা ইউনেস্ক সাতই মার্চের ভাষণকে মানবতার মুক্তির সদন বলে উল্লেখ করে এটিকে তারা সম্মানিত করেছে।

    ১৪’ই ডিসেম্বর ২০১৯ এ সময় টিভিতে দেখছিলাম একটা টকশো। একজন অতিথি, তিনি আবার অর্থনীতিবিদ! (?) তিনি বলছেন ’’আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি গ্রামে, মফস্বলের ছেলে-মেয়েরা বঙ্গবন্ধুকে চিনে না, তার সম্পর্কে কিছুই জানে না। আর জামাতের গোলাম আজম কিম্বা কাদের মোল্লা সম্পর্কে অনেক জানে।
    আমার সেই অর্থনীতিবিদরে জিজ্ঞাস করতে ইচ্ছা করে, তিনি কোন দেশের গ্রামে গেছিলেন? উগান্ডার? নাকি আফ্রিকার কোনো মরু অঞ্চলে?
    বাংলাদেশের এমন কোন সাবালক-সাবালকী নাই যারা বঙ্গবন্ধুকে চিনে না। বঙ্গবন্ধু একটা বিপ্লব, একটা স্লোগান, একটা বাধ ভাঙা জোয়ার।

    বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদান। যার কারণে আমরা একটি সার্বোভৌমত্ব রাষ্ট্র কায়েম করতে সক্ষম হয়েছি। এবং আমাদের দেশের একটি মানচিত্র হয়েছে, একটি পতাকা আছে। আমরা বিশ্বের দরবারে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে মাথা উচু করে দাড়াতে পারছি। মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য ছিলো, সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পূর্ণ একটি রাষ্ট্র হবে। যেখানে থাকবে কোন শোষণ, অত্যাচার, যেখানে ফসলের সুসম বন্টন হবে। কোন হামলা, মামলা, খুন, ধর্ষণ থাকবে না।

    অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন প্রর্যন্ত গঠিত হয়নি। এখনো, রাস্তায় খুন হয়, ধর্ষণ হয়, হত্যা হয়, রাষ্ট্র দ্বারা মানুষ হত্যা বন্ধ হয়নি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসেনি। রাষ্ট্রের সমালোচনা আমরা সবাই করতে পরি কিন্তু রাষ্ট্রের উন্নতির জন্য কাজ করতে পারি না। প্রোপ্যাগান্ডা ছড়াতে পারি একেকটা বিষয়।

    আমরা দেখলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ তিরিশ বছর পর নির্বাচন হওয়ার পর নির্বাচিত ভিপিকে কীভাবে পদে পদে হামলার স্বীকার হলো, দেখলাম নির্বাচনের পর পর ফেনিতে গণধর্ষণ, দেখলাম ফেনিতে নুসরাত হত্যা, দেখলাম বুয়েটে আবরার হত্যা। শেষে এসে আবারো দেখলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নেতাদের হামলা করা হলো, এবং উল্টো তাদের বিরুদ্ধে একেরপর এক মমলা ঠোকা হলো। সব মিলিয়ে এক অস্থিতিশীলতা ছিলো গোটা উনিশ সালটা।

    বাংলাদেশের বিখ্যাত এবং বহুল পাঠিত একটি দৈনিক পত্রিকায় সাম্প্রতি একটি জরিপ করেছে সেখানে তাদের জরিপ ছিলো, তরুণ্য কী ভাবছেন? এরকম। এখানে তারা একটা নিবন্ধনে প্রকাশ করেছে সেখানে বলা হয়েছে যে, তরুণরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলে খুশি। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কথা হলো, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যদি না থাকে তবে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আসার কথা না। আমার সাদা চোখে দেখা বিষয়টা হলো, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম রাজনীতি বিমুখ। এবং মোটেও সন্তুষ্ট নয়। এই রাজনীতি বিমুখ হওয়ার পেছনে সরকারের দায় রয়েছে, যার কিছুটা আমি আমার ’তরুণরা কেন রাজনীতি বিমুখ’ নিবন্ধনে ব্যাখ্যা করেছিলাম।

    অতীতকে ভুলে নতুনকে স্বাছন্দে গ্রহণ করাই আমাদের উত্তম কাজ হবে। ইতিমধ্যে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ এর জাতীয় সম্মেলন সম্পূর্ণ হলো। নতুন মুখ এলো কমিটিতে, বাদ পড়লেন অনেকে। সবাইকে স্বাগতম।

    আমরা চাই একটা অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠন করতে। যেখানে মানুষে মানুষে সঙ্ঘাত থাকবে না। দিন দুপুরে খুন হবে না মানুষ। আমাদের বোনেরা ধর্ষিতা হবে না। সমস্ত রাজনৈতিক দল তাদের ইচ্ছা মত রাজনীতি করতে পারবে। সকল নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার থাকবে। বাক-স্বাধীনতা থাকবে। সন্ত্রাসী-রাহাজানি ইত্যাদি থাকবে না। ফসলের কৃষক তার ন্যায্য মূল্য পাবে। সাধারণ মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে সক্ষম হবে এর দাম থাকবে। তাহলে আমাদের দেশটা সুখি সুন্দর, চমৎকার একটি দেশে পরিণত হবে।

    নতুন বছরে আমাদের এতোটুকু প্রত্যাশা সরকারের কাছে। সকল মানুষ যেন, নিজ পছন্দের রাজনীতি করবার সুযোগ পায়। মত প্রকাশের সুযোগ পায়। ফসলের কৃষক তার ন্যায্য মূল্য পায়। দিন দুপুরে খুন না হয় মানুষ। আমাদের বোনেরা ধর্ষিতা না হয়। একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠন করাই যেন সরকারের ব্রত হয়।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669