• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    নারায়ণগঞ্জ-৫ : লড়াই হবে ত্রিমুখী

    অনলাইন ডেস্ক | ১৭ আগস্ট ২০১৭ | ২:৫৪ অপরাহ্ণ

    নারায়ণগঞ্জ-৫ : লড়াই হবে ত্রিমুখী

    জোটভুক্ত নির্বাচনের কারণে ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ আসন ছেড়ে দেয়ায় ওই সময় মনঃক্ষুণ্ণ হন আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ নেতাকর্মীরা। একই ধারা অব্যাহত ছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মতো নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনটিও ছেড়ে দেয়া হয় জাতীয় পার্টিকে। কিন্তু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই দলীয় প্রার্থী চান নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।


    রাজধানী ঢাকার খুব কাছের জেলা নারায়ণগঞ্জ। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে জোটভুক্ত রাজনীতির জন্য রাজধানীর কাছের জেলার আসন শরিক দলকে ছেড়ে দেয়া হলে তা রাজনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এটির প্রভাবও পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দর উপজেলা এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সোনারগাঁও উপজেলায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    ajkerograbani.com

    এদিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ব্যস্ত নিজেদের ঘর গোছাতে। কিন্তু নিজেদের মধ্যে কোন্দল মেটানো না গেলে এর প্রভাব আগামী নির্বাচনে পড়বে বলে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

    ২০০৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়েছিল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য একেএম নাসিম ওসমানকে। ওই নির্বাচনে বিএনপি’র অ্যাডভোকেট আবুল কালামকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নাসিম ওসমান। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনেও জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় নাসিম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল ভারতের দেরাদুনে হঠাৎ নাসিম ওসমানের মৃত্যু হলে উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পান তার মেজ ভাই ব্যবসায়ী নেতা একেএম সেলিম ওসমান। ২০১৪ সালের ২৬ জুন অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে সেলিম ওসমান সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক এসএম আকরামকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

    এবার নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দু’জনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের একজন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু এবং অপরজন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। এ দু’জন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বেশ পুরানো মুখ এবং দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ।

    দুই প্রার্থীর মধ্যে অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু ১৯৭৭ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। ছাত্রলীগের মধ্যে দিয়ে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। এরপর শহর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও হয়েছেন তিনি। এখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ বারের বর্তমান সভাপতিও তিনি। নারায়ণগঞ্জ বারে তিনি মোট ৩ বার সাধারণ সম্পাদক এবং ৪ বার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকার জন্য ওই সময় তাকে ২বার কারাগারে যেতে হয়েছিল। প্রবীণ এই নেতা পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য।

    নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে অভিজ্ঞ এ রাজনীতিক বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত আছি। দল এবং দলের নেতাকর্মীদের জন্য চেষ্টা করেছি কিছু করতে। দলীয় প্রধান আমার যোগ্যতা বিবেচনা করে আমাকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে মনোনয়ন দিলে চেষ্টা করবো এলাকার মানুষের জন্য ভাল কিছু করতে। এরই মধ্যে তিনি সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছেন বলে জানান। তবে দল যাকেই মনোনয়ন দেবে চূড়ান্তভাবে তিনি তার পক্ষেই কাজ করবেন।

    অপর সম্ভাব্য প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ১৯৭৫ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেও এখন তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহর ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

    সামরিক সরকারের আমলে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তার নেতৃত্বে প্রথম নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল হয়। স্বৈরাচার সরকারের আমলে তিনি দু’বার কারাবরণ করেন। পরে ৯১ সালে শহর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হন তিনি। ৯৬ সালে শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ৯৭ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনোনীত হন। ২০০০ সালে বিশেষ কাউন্সিলে শহর আওয়ামী লীগের ফের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন খোকন সাহা।

    ২০০৩ সালের ১৯ অক্টোবর কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি তৃতীয়বার এই পদে নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা শহর আওয়ামী লীগকে মহানগর আওয়ামী লীগে উন্নীত করে ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন খোকন সাহাকে।

    নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বলেন, মাতৃতুল্য প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো। তা না হলে যাকেই তিনি মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই কাজ করবো।

    তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নয়, দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। যাতে এর সুফল যিনিই দলের প্রার্থী হন তিনি পান।

    দলের মনোনয়ন প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই বলেন, আমরা দলের সভাপতিকে অনুরোধ করেছি যেন আগামী নির্বাচনে এ আসনটি কোনো শরিক দলকে ছেড়ে দেয়া না হয়।

    নারায়ণগঞ্জের দলীয় নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনে জেলার ৫টি আসনেই দলীয় প্রার্থী চান। তাদের দাবি, নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। তাই শরিক দলকে আসন ছেড়ে দিতে হলে অন্য জেলায় যেনো ছাড়া হয়।

    এছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচনের আরো অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে। এরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির, যুবলীগ নেতা আবু সুফিয়ান এবং আওয়ামী লীগ নেতা আর্জু রহমান ভূইয়া।

    এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি থেকে এ আসনে দু’জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তিনি এ আসন থেকে ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার সঙ্গে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের নাম শোনা যাচ্ছে। সাখাওয়াত হোসেন খান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে পরাজিত হন। তবে এই মুহূর্তে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ঘর গোছাতে ব্যস্ত দলের মহানগরের নেতারা।

    অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ৩ বার এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে এগিয়ে আছেন তিনি। নারায়ণগঞ্জে বিএনপি’র রাজনীতিতে কালামের শক্ত অবস্থান রয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণে আলোচনায় আছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।

    নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেন, মনোনয়ন দেবেন দলীয় চেয়ারপারসন। তবে আমি দল গোছানোর কাজ করছি। সাংগঠনিক কাজগুলো এগিয়ে নিচ্ছি। কারণ দল সংগঠিত হলে প্রার্থী যেই হোক তিনি সুবিধা পাবেন।

    তিনি আরো বলেন, ৯১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত মোট ৬টি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। যার মধ্যে বিএনপি ৫টিতে অংশগ্রহণ করেছিল। ওই ৫টি নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আমিই বিএনপি’র প্রার্থী ছিলাম। ওই ৫টি নির্বাচনের মধ্যে ৩টিতে আমি জয়ী হয়েছিলাম। দল আবার মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নেব।

    অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবো। দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে বিএনপির যে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন চলছে সেখানে কাজ করছি। দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

    সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে একক প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। মূলত ব্যবসায়ী এই নেতা বিকেএমইএ’র বর্তমান সভাপতি। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সাবেক সভাপতি। নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির এক নম্বর সদস্য।

    গেলো ৪ বছরে সেলিম ওসমান নিজের অর্থায়নে এই আসনে বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন স্কুলের নতুন ভবন তৈরি করা। এছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবর স্থানে মোটা অংকের অনুদান দিয়ে আলোচনায় আছেন তিনি। এর বাইরে নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় সেন্ট্রাল খেয়া ঘাট যাত্রীদের জন্য ফ্রি করে দিয়ে তিনি সেবার অনন্য উদাহারণ সৃষ্টি করেছেন।

    আসছে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির এ সংসদ সদস্য বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবো কি নেবো না তা আসছে বছরের ৩০ জুন ঠিক করবো। এর আগে আমি কিছু বলবো না। তবে ওই সময় পর্যন্ত আমি উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রাখবো।

    একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্যান্য দলগুলোও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে তারা এখনেই এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি নন। তারা আরো পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

    সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাফিজুল ইসলাম বলেন, সিপিবি’র সঙ্গে বাসদের একটি জোট রয়েছে। তাই নির্বাচনে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন। সে হিসেবে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে ৩টিতে সিপিবি এবং বাকি দু’টিতে বাসদ প্রার্থী দেবে।
    সেক্ষেত্রে সিপিবি নারায়ণগঞ্জ-৫ থেকে অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষকে, নারায়ণগঞ্জ-২ আসন থেকে হাফিজুল ইসলামকে এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে অ্যাডভোকেট জিয়া হায়দার ডিপথিকে প্রার্থী হিসেবে আগেই ঘোষণা করেছে। আর বাকি দু’টি আসনে বাসদ তাদের প্রার্থী ঠিক করবে। সূত্র: আরটিভি অনলাইন

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    গৃহবধূ থেকে শিল্পপতি

    ২২ এপ্রিল ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755