• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    নারীর প্রতি সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি পরিহার করতে হবে

    অ্যাডভোকেট শেখ সালাহ্উদ্দিন আহমেদ | ০৮ মার্চ ২০২১ | ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

    নারীর প্রতি সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি পরিহার করতে হবে

    আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ। ১৯১০ সালে ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত নারীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ দিনটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘও ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মর্যাদা দেয়। তারপর থেকে প্রায় সব দেশেই দিনটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় মানবসমাজ কতটা এগোলো সে বিশ্লেষণও করা হয় এই দিনে।


    বাংলাদেশের উন্নয়নে নারীর ভূমিকা ও অবদান অনেক বেশি। দেশের সর্বত্র নারীর গুরুত্ব আজ স্বীকৃত। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন অনেকটাই বেড়েছে। সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশের যে বিস্ময়কর উত্থান, তার নেপথ্যে নারীর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক সূচকে যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তাতেও নারীর অবদান রয়েছে।

    ajkerograbani.com

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তো বটেই, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও বাঙালি নারী পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন, শহীদ হয়েছেন। বাংলাদেশের একজন নারী আন্তর্জাতিক দাবায় গ্রান্ড মাস্টার খেতাব পেয়েছেন। এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বাংলাদেশের নারী। রাজনীতি থেকে প্রশাসন সব ক্ষেত্রেই নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বেড়েছে।

    বাংলাদেশে নারী উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের পথ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারীর উন্নয়ন ছাড়া যে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয় এটি অনুধাবন করে প্রতিটি সরকার এক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এর ফলে দেশের রাজনীতিতে নারীরা দ্রুত স্থান করে নিতে সক্ষম হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতিতে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে নারীর ভূমিকা। দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাকশিল্পে কর্মরত ৪০ লাখ শ্রমিকের বেশির ভাগই নারী। তিন দশক ধরে দেশের সরকারপ্রধান এবং বিরোধীদলীয় প্রধানের পদ নারী রাজনীতিকদের দখলে। এ মুহূর্তে দেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার পদে যারা আছেন তাঁরা নারী। গত আড়াই দশকে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, কৃষির মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এ দেশের নারীরা পরিচালনার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।

    তাই বলছি, নারীর প্রতি সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি পরিহার করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা বা ধর্ষণের বিচারে আইনের জটিলতা নিরসন করতে হবে। যাতে করে নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়। নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। যেখানেই নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটবে, সেখানেই ভিকটিমের পক্ষে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে আমি বদ্ধপরিকর।
    নারী অধিকারের কথা বিশ্বব্যাপী উচ্চারণ হলেও নারীরা প্রতিনিয়ত সহিংসতার শিকার এবং নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। নারীরা রাস্তা ঘাটে ইভটিজিং ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রায়শই।
    আমরা চাই, সমাজের সবক্ষেত্রে নারীর সম-অধিকার নিশ্চিত, বৈষম্যের অবসান, সহিংসতা বন্ধে রাষ্ট্রের কার্যকর পদক্ষেপ। এজন্য যার যার অবস্থান থেকে সবাই মিলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
    লেখক: অ্যাডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও সভাপতি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আন্দোলন ও সাউথ এশিয়ান ল ইয়ার্স ফোরাম।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757