বুধবার, জুন ২৪, ২০২০

নারীর শ্লীলতাহানির দায়ে জুতোপেটার শিকার আলফাডাঙ্গার সেই মোরাদ এখন…

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৪ জুন ২০২০ | প্রিন্ট  

নারীর শ্লীলতাহানির দায়ে জুতোপেটার শিকার আলফাডাঙ্গার সেই মোরাদ এখন…

এক নারীর শ্লীলতাহানির দায়ে বছর দুয়েক আগে জুতোপেটা করা হয়েছিল ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার মোরাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে। কখনো সে এনজিও কর্মী, কখনো সে বিদেশে লোক পাঠানোর আদমব্যাপারী আবার কখনো কথিত সাংবাদিক। আসলে স্থানীয়দের কাছে প্রতারক মোরাদ হিসেবেই বেশি পরিচিত তিনি। চাঁদাবাজি, প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি তিনি। এসব অপরাধে কারাবাসও হয়েছে তার। কিন্তু কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে আগের মতোই কুকর্মে লিপ্ত হয়েছে মোরাদ হোসেন।
চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য, বিদেশে লোক পাঠানো এবং চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা আত্মসাতের বিস্তার অভিযোগ নিয়েও হরহামেশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও সন্তর্পণে এসব কুকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
আলফাডাঙ্গার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোরাদ হোসেন এলাকায় একজন দুস্কৃতিকারী হিসেবে পরিচিত। জাল দলিল করে বিধবা নারীর সহায় সম্বল আত্মসাৎ, এনজিওর নামের ভুয়া সমিতি করে অসহায় দরিদ্র মানুষের লাখ লাখ আত্মসাতের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
আলফাডাঙ্গা থানা এবং আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানাতে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি করেছে তার দুর্বৃত্তায়নের শিকার ভুক্তভোগীরা। তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে নড়াইল জেলার লোহাগাড়া উপজেলার আমলি আদালতে মামলা রয়েছে। চাঁদাবাজির অভিযোগে ফরিদপুর জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালতে করা একটি মামলাতেও আসামি সে। এছাড়া ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় করা দুটি মামলায় আসামি সে। দুটি মামলাই বিচারাধীন আছে।
মোরাদের নিজ গ্রাম বুড়াইচের স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, ‘জোচ্চুরি ও ঠকবাজি ছাড়া মোরাদ হোসেনের কোনো প্রকাশ্য পেশা নেই। গ্রামের মানুষ তাকে প্রতারক বলেই জানে। এলাকায় অনেকের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়ে সেই টাকা ফেরত দেয়নি। এছাড়া এনজিও করেও অনেকের টাকা নিয়ে লাপাত্তা ছিল দীর্ঘদিন। এজন্য তাকে জেলেও যেতে হয়েছে।’
একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘মানুষ তাকে খুঁজতেছে। সে এখন প্রকাশ্যে খুব কম আসে। আত্মাগোপন করে থাকে। লোকজন তাকে পেলে পুলিশে দেওয়ার চিন্তা করছে। কারণ সে আলফাডাঙ্গার অনেকের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর নামে টাকা নিয়েছে। কিন্তু বিদেশে পাঠানো তো দূরে থাক, টাকাও ফেরত দেয়নি।’
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী এবং ওপারে নড়াইলের লোহাগড়া অঞ্চলের মাদকবাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মোরাদ হোসেনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ সম্পর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে মোরাদ এই অঞ্চলে গোপনে মাদকের কারবার করে আসছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স অভিযানে গোয়েন্দাদের তালিকায় তার নামও রয়েছে।’
অপর একটি সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও মোরাদ গোপনে গোপনে মাদকের চোরাকারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য তাকে দিনে তাকে খুব একটা দেখা যায় না। রাতের অন্ধকারে যে মুখোশ ও পিপিই পরে ঘর থেকে বের হয়।
বিদেশে লোক পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাৎ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নড়াইলে তহমিনা বেগম নামে এক নারীর স্বামীকে সৌদি আরবে পাঠানোর নাম করে নগদ দুই লাখ নিয়ে পরে অস্বীকার করেছে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী দিনের পর দিন মোরাদের পেছনে ঘুরে যখন কোনো প্রতিকার পাচ্ছিলেন না, তখন তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলা নং- সি.আর-১৮২/২০১৮ (এল)
চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে হামলা:
আলফাডাঙ্গার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার বাসিন্দা ব্যবসায়ী রায়হান মোল্লার কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা করে মোরাদ হোসেন। রায়হান টাকা দিতে অস্বীকার করলে মুরাদ তার বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ রায়হানের ওপর হামলা করে। এতে তিনি শারীরিকভাবে মারাত্মক যখমের স্বীকার হন। ওই সময় রায়হানের সঙ্গে থাকা ব্যবসার ৫০ হাজার টাকাও নিয়ে নেয় মুরাদ। ওই ঘটনায় ফরিদপুরে আদালতেও মামলা করেন ভুক্তভোগী রায়হান মোল্যা। মামলার তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। মামলার বিচার কাজ চলছে। মামলা নং- আলফাডাঙ্গা থানা সি.আর- ৬৮/১৮
মাদক বাণিজ্য:
মাদক বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে মোরাদ হোসেনের। অভিযোগ আছে, কখনো কথিত সাংবাদিক পরিচয়, কখনো এনজিও নেতা পরিচয় আবার কখনো রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, নড়াইলের লোহাগড়া, মোহাম্মদ এলাকায় মাদকের বাণিজ্য পরিচালনা করছে। এসব এলাকার মাদকের বড় বড় ডিলারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক রয়েছে। তার কারণে স্থানীয় কিশোর, যুবকরা মাদকের মরণ ছোবলের শিকার হচ্ছে।
নারী কেলেঙ্কারি:
নারী কেলেঙ্কারির গুরুতর অভিযোগও আছে এই মোরাদের বিরুদ্ধে। বছর দুই আগে মোরাদ হোসেন স্থানীয় একজন নারীকে দিনের পর দিন উক্ত্যক্ত করে আসছিল। ওই নারীকে নানাভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যখন ফায়দা হাসিল করতে পারছিল না, তখন তাকে জোরপূর্বক শীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ওই নারী উদ্ধার হলেও মোরাদ হোসেন তাৎক্ষণিক পালিয়ে যায়। তার কদিন পরে সে আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে এলে তাকে স্থানীয় নারীরা আলফাডাঙ্গা বাজারে শত শত মানুষের সামনে জুতাপেটা করে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরেও এসেছে।


Posted ৬:৩২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৪ জুন ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১