• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    না ফেরার দেশে কাশিয়ানীর হরিচাঁদ ঠাকুরের ‘মতুয়াবাদ’ এর প্রধান উপদেষ্টা বীনাপাণি দেবী

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৬ মার্চ ২০১৯ | ৯:১৫ অপরাহ্ণ

    না ফেরার দেশে কাশিয়ানীর হরিচাঁদ ঠাকুরের ‘মতুয়াবাদ’ এর প্রধান উপদেষ্টা বীনাপাণি দেবী

    প্রয়াত হলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রধান উপদেষ্টা বীণাপাণি দেবী। মঙ্গলবার রাত ৮.৫২ মিনিটে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মুত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।
    যদিও মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছে বীণাপাণি ‘বড়মা’ বলেই পরিচিত। বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্য জনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।
    শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত রবিবারই এই হাসপাতালে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রাখা হয়েছিল ভেন্টিলিশনে। তাঁর চিকিৎসার জন্য গঠন করা হয়েছিল সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। কিন্তু শেষ রক্ষা করা গেল না।
    এদিন সন্ধ্যাবেলায় হঠাৎ করেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। সেই খবর পেয়েই হাসপাতালে ছুটে আসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। পরে তার মৃত্যুর খবর শুনে রাতে দ্বিতীয় দফায় ফের একবার হাসপাতালে ছুটে আসেন মুখ্যমন্ত্রী।
    মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া বীণাপাণির বৌমা (বড় ছেলের স্ত্রী) তৃণমূল সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর, বীণাপানির ছোট ছেলে সান্তনু ঠাকুর সহ পরিবারের সদস্যরা, রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, তৃণমূল নেতা মদন মিত্র সহ মতুয়া মহাসঙ্ঘের সদস্যরা।
    বীণাপাণির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান ‘এটা আমাদের কাছে এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের কাছেই বড় ক্ষতি। তার বৌমা মমতা বালাই সবসময়ই বড়মার কাছে ছিলেন। তার কাছে খুবই বেদনার। আমরা বড়মার অনুসারীদের সমবেদনা জানাই।’
    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে আগামীকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ নিয়ে অন্তিম যাত্রা শুরু হবে। এরপর উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ঠাকুরনগরে বীনাবানী দেবীর বাসস্থানেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষ কৃত্য সম্পন্ন হবে।
    সামাজিক কাজে বিশেষ অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তরফে সম্প্রতি তাকে বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়।


    উল্লেখ্য, মতুয়া হিন্দুধর্মীয় একটি লোকসম্প্রদায়। বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দি নিবাসী হরিচাঁদ ঠাকুর প্রেমভক্তিরূপ সাধন ধারাকে বেগবান করার জন্য যে সহজ সাধনপদ্ধতি প্রবর্তন করেন, তাকেই বলা হয় ‘মতুয়াবাদ’। এই মতবাদের অনুসারীরাই ‘মতুয়া’ নামে পরিচিত।
    বাংলাদেশের ওড়াকান্দিতে মতুয়াদের প্রধান মন্দির অবস্থিত। বাংলাদেশের সর্বত্রই মতুয়ারা বাস করে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ সহ একাধিক রাজ্যেও অনেক মতুয়া বাস করেন। পশ্চিমবঙ্গের ঠাকুরনগরে ঠাকুরবাড়ি ও
    মতুয়া ধাম বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
    পশ্চিমবঙ্গের ভোট রাজনীতিতে মতুয়া সম্প্রদায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যটির ১০ টি লোকসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। তেমনি ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৫৭ টি কেন্দ্রে মতুয়ারা নির্ধারক। তাই মতুয়াদের মন পেতে রাজ্যের বিগত বামফ্রন্ট সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস কিংবা বিরোধী দল বিজেপি-প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজেদের মতো প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছে। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মতুয়া ভোট অক্ষুন্ন রাখতে একাধিকবার ঠাকুরনগরে ছুটে গেছেন মমতা ব্যনার্জি। সম্প্রতি মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য একাধিক প্রকল্প ঘোষনা করেন মমতা।
    বীণাপাণী দেবী ও মমতা ব্যানার্জির মধ্যে মা-মেয়ের সম্পর্কও গড়ে উঠেছিল। চলতি বছরের গত ২ ফেব্রুয়ারী ঠাকুরনগরে মতুয়া মহাসঙ্ঘের একটি অনুষ্ঠানে এসে বড়মা তথা বীণাপাণি দেবীর সাথে সাক্ষাত করে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-ও। লক্ষ্য সেই একটাই-মতুয়া ভোট নিজেদের দিকে টানা।


    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673