• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    নির্বাচনে লড়তে চান বিএনপির যেসব নেত্রীরা

    নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ জুলাই ২০১৮ | ৬:৪৯ অপরাহ্ণ

    নির্বাচনে লড়তে চান বিএনপির যেসব নেত্রীরা

    প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলে অন্তত দুই ডজন আসনে ভোটযুদ্ধে নামবেন দলের নারী নেত্রীরা। সরকারবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি তারা নিজ নিজ সংসদীয় আসনে নানা প্রচারণামূলক কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও যোগ দিচ্ছেন। নারীনেত্রীদের বক্তব্য, বিএনপি আগামীতে নির্বাচনে গেলে তারা সরাসরি আসনে ভোটযুদ্ধে লড়বেন। জনপ্রিয়তার দিক থেকে দলের অনেক পুরুষ প্রার্থীর তুলনায় নিজেরা এগিয়েও বলে জানান নারী প্রার্থীরা। বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া আরও বেশি নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন বলেও প্রত্যাশা তাদের। তাই মনোনয়ন দৌড়ে পিছিয়ে থাকতে নারাজ বিএনপির নারী প্রার্থীরা। নারী প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি, সাবেক ছাত্রনেত্রী ও মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রী।


    নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম জিয়া ছাড়া ১৪টি আসনে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেন নারী নেত্রীরা। এবার অন্তত দুই ডজন আসনে নারী প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে অনেকে বেগম খালেদা জিয়ার সবুজ সংকেতও পেয়েছেন বলে জানা গেছে।


    গত নবম জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি আসনে ভোটযুদ্ধে লড়েন, বিএনপি নেত্রী বেগম সেলিমা রহমান, আফরোজা আব্বাস, সাবেরা আমান, রুমানা মাহমুদ, হাসিনা আহমেদ, নাসিমা আক্তার কল্পনা, শিরিন সুলতানা, হেলেন জেরিন খান, আফরোজা খান রিতা, শাহিদা খানম রিতা, শামা ওবায়েদ, ইলেন ভুট্টো ও ম্যা মা চিং। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর আসনে তার সহধর্মিণী রুমানা মাহমুদ এবং যুগ্ম-মহাসচিব সালাউদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী হাসিনা আহমেদ এমপি নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা এবারও সরাসরি আসনে দলের প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশার কথা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানিয়েছেন।

    তবে এবার নতুন করে সরাসরি আসনে মনোনয়ন চাওয়া অন্যান্য নেত্রীর মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম রাবেয়া চৌধুরী, বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক খালেদা রব্বানী, মহিলা দলের সভাপতি নূরী আরা সাফা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, আসিফা আশরাফি পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, শাম্মী আক্তার ও রেহেনা আক্তার রানু, ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণী ফারহাত কাদের চৌধুরী, মহিলা দলের নেত্রী বিলকিস ইসলাম, কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন ও কনকচাঁপা, সুলতানা আহমেদ, ফরিদা ইয়াসমিন, হোসনে আরা গিয়াস প্রমুখ।

    বরিশাল-৩ আসনে নির্বাচন করবেন সেলিমা রহমান। এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন ও মোশাররফ হোসেন মঙ্গুও দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে দলের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী সেলিমা রহমান। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতিও নিচ্ছি। বিএনপি নির্বাচনে গেলে অবশ্যই দলের প্রার্থী হব। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে দলের মনোনয়ন চাইবেন সংরক্ষিত আসনের এমপি আসিফা আশরাফি পাপিয়া। তিনি বলেন, মেয়েরা এমপি ও মন্ত্রিত্ব চালানোর মতো এখন সব ধরনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আগামী নির্বাচনে অন্তত ১০ ভাগ নারীদের সরাসরি আসনে অংশ নেওয়ার জন্য আরপিওতে বাধ্যবাধকতা করা উচিত।

    জামালপুর-৫ আসন থেকে দলের মনোনয়ন চাইবেন বিএনপি দলীয় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি এমপি। তার মতে, দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, শিল্প সংস্কৃতিতে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মূল কারিগর হচ্ছেন গার্মেন্টের নারী শ্রমিকরা। তারপরও কেন মেয়েরা সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন করবে। পুরুষ এমপিরা অবকাঠামো উন্নয়নে ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ পেলেও সংরক্ষিত আসনের এমপি হওয়ার কারণে আমাদের এলাকায় কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। সংসদেও আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে মনে করা হয়। তাই সরাসরি আসনেই লড়তে চাই।

    চাঁদপুর-৪ আসনে সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিতে চান রাশেদা বেগম হীরা এমপি। তার মতে, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতাসহ সিনিয়র মন্ত্রী নারী, সে দেশে কেন শুধু সংরক্ষিত আসনে আমাদের নির্বাচন করতে হবে। রাজনীতিতেও নারীদের অবদান কোনো অংশে কম নয়। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নসহ নানা কর্মকাণ্ডে নারীরা পিছিয়ে নেই। সুতরাং নারীদের সরাসরি আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

    ফেনী-২ আসন থেকে এবার সরাসরি আসনে মনোনয়ন চাইবেন রেহেনা আক্তার রানু। তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে অনেক পুরুষ এমপি-মন্ত্রী নেতারা আত্দগোপনে থাকলেও নারী কর্মীরা দলের হাল ধরেছেন। রাজনৈতিক অগি্নপরীক্ষায় অনেক পুরুষ নেতার চেয়ে নারী নেত্রীর অবদান বেশি। তাই এখন আর শুধু সংরক্ষিত নয়, নারীদের সরাসরি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ চাই।

    হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে সরাসরি নির্বাচন করতে চান বিএনপি সমর্থিত সংরক্ষিত আসনের এমপি শাম্মী আক্তার। তার মতে, বাংলাদেশের অর্ধেক নারী। তা ছাড়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা নারী। এদেশের পুরুষ এমপি-মন্ত্রী নেতারা দুর্নীতি, টেন্ডারসহ সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। তাই নারীদের সরাসরি আসনে নির্বাচন করা উচিত।

    ঢাকা-৯ আসনের সাবেক এমপি প্রার্থী শিরিন সুলতানা এবারও দলের মনোনয়ন চাইবেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সারা দেশেই পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সরাসরি আসনে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া উচিত।

    সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হবেন নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিণী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তার পক্ষে দলের নেতা-কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। যদিও ইলিয়াস সহধর্মিণী তার স্বামী ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি জানান, স্বামীর অবর্তমানে সিলেটবাসী চাচ্ছে আমি সেখান থেকে নির্বাচন করি। নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হব। এক্ষেত্রে চাকরি কোনো সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‘৭৩ অধ্যাদেশ অনুযায়ী রাজনীতি ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ আছে। তবে প্রার্থী হতে হলে নির্বাচনের আগে চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার নিয়ম আছে। প্রয়োজনে তা-ই করা হবে বলে জানান তিনি।

    বিগত নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসনে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর কাছে হারেন বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ। তবে এবার তিনি আশাবাদী। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ক্ষমতাসীন সরকারের ওপর দেশের মানুষ চরম বিরক্ত। ফরিদপুরের সাধারণ মানুষের ওপর সরকার জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হব। কেন্দ্র থেকে মনোনয়নের সবুজ সংকেত পেয়েছেন জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।

    চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আসনে লড়বেন তার সহধর্মিণী ফারহাত কাদের চৌধুরী। মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বিএনপির এই নেতার অবর্তমানে এলাকাবাসী ফারহাত কাদের চৌধুরীকেই চাচ্ছেন। অবশ্য দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ফারহাত কাদের চৌধুরী জানান, আগামী নির্বাচন আদৌ হবে কিনা জানি না। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেব।

    মাদারীপুর-২ আসনে লড়বেন সাবেক এমপি হেলেন জেরিন খান। তিনি বলেন, ওই এলাকায় হিন্দু ভোটার বেশি। তবে এই সরকারের আমলে কেউই শান্তিতে নেই। আগামীতে হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষই আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বলে আমি আশা করি।

    কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি হোসনে আরা গিয়াস। তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছেন।

    এবার নীলফামারী-৪ আসনে থেকে নির্বাচন করতে চান কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন ও বিলকিস ইসলাম। সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন সরকারও ছাড় দেবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বেবি নাজনীনকে পছন্দ করেন। এলাকাবাসীর উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত হচ্ছেন বেবি নাজনীন। সাধারণ মানুষের মধ্যে শিল্পী হিসেবেও রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা। দলের মনোনয়ন তিনি পেতে পারেন বলেও জানা গেছে।

    ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন আহমেদের মেয়ে জেবা আহমেদ খান ও সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। তবে ওই এলাকায় বিএনপির শক্ত প্রার্থী হচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুবুল হক নান্নু। জেবা আহমেদ খান বলেন, হাইকমান্ডের নির্দেশে আমি মাঠের তৃণমূল নেতাকর্মী-সমর্থকদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। একই বক্তব্য ইলেন ভুট্টোরও।

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫
    ১৬১৭১৮১৯২০২১২২
    ২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
    ৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4673