• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    পণ্যবাহী রেলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রফতানির উদ্যোগ

    | ০৭ জুন ২০২১ | ৮:৫৪ অপরাহ্ণ

    পণ্যবাহী রেলে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রফতানির উদ্যোগ

    প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে রেলে যাবে এদেশ থেকে রফতানিকৃত পণ্যসামগ্রী। গতবছর থেকে রেলপথে ভারত থেকে পণ্য আমদানি শুরু হওয়ার পর বর্তমানে মাসে ১শটিরও বেশি পণ্যবাহী রেল বাংলাদেশে এলেও ওসব ট্রেন খালি অবস্থায়ই ভারতে ফেরত যায়।


    এমন পরিস্থিতিতে ভারত থেকে আসা রেলেই বাংলাদেশী পণ্য রফতানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রেলের ৪টি রুটে নিয়মিত পণ্য আমদানি ও রফতানি করা হবে। ফলে দ্রুত প্রয়োজনীয় পণ্য দেশে আনার পাশাপাশি পরিবহন খরচও কম হবে। শিগগিরই রেলপথে গার্মেন্টস পণ্য, ফেব্রিক্স, কৃষিজাতপণ্য এবং হস্তশিল্প সামগ্রী রফতানি শুরু হতে যাচ্ছে। তাতে ভারতের সঙ্গে বড় অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতি কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

    ajkerograbani.com

    সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ভারতের সঙ্গে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম করা হয়। একক দেশ হিসেবে চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের সম্ভাব্য পরিমাণ প্রায় ৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। বরাবরই ভারতের অনুকূলে বড় অঙ্কের ওই বাণিজ্য। ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালের প্রধান উৎস ভারত। ফলে প্রতিবছর বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছেই। ওই ঘাটতি দূর করতে ভারতে রফতানি বাড়ানোর তাগিদ রয়েছে।

    বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরেই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার চেষ্টা করে আসছে। ওই লক্ষ্যে সরকারী-বেসরকারী খাতের উদ্যোগ থাকলেও কাস্টমস, বন্দর ও অবকাঠামোগতসহ বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য জটিলতার কারণে বাড়ানো যায়নি ভারতে রফতানি। তবে শুল্কমুক্ত সুবিধায় গার্মেন্টস পণ্য রফতানির সুযোগ দেয়ার পর ভারতে রফতানিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশও ভারত থেকে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যসহ সব ধরনের মেশিনারিজ ও ইলেক্ট্রনিক্স পণ্যসামগ্রী আনছে। তবে সড়কপথেই বেশিরভাগ আমদানি হয়। তাছাড়া নৌ ও সমুদ্রপথেও ভারত থেকে পণ্য সামগ্রী আমদানি হয়। তবে বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মতো রেলপথে রফতানি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। ভারতে করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই রেলপথে রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হবে।

    সূত্র জানায়, রেলের ৪টি রুটে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রফতানি করা হবে। রুটগুলো হচ্ছে- গেদে (ভারত)-দর্শনা (বাংলাদেশ), পেট্রাপোল (ভারত)-বেনাপোল (বাংলাদেশ), সিংহাবাদ (ভারত)-রোহানপুর (বাংলাদেশ) এবং রাধিকাপুর (ভারত)-বিরল (বাংলাদেশ)। আবার ওসব কার্যকর রেলপথ ব্যবহার করেই ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি করা হবে। ভারতের বনগাঁয় কালিতলা পার্কিংয়ে হয়রানি, বেশি পরিবহন খরচসহ নানা কারণে ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানিতে ট্রাকের বদলে রেলপথে ঝুঁকছে। করোনার আগে বেনাপোলে কেবল কার্গো রেলের মাধ্যমে ভারত থেকে সপ্তাহে একটি বা দুটি ট্রেন আসতো। আবার কখনো কখনো মাসেও একটি ট্রেন আসেনি। কিন্তু বর্তমানে চিত্র ভিন্ন। প্রতিদিন কার্গো রেল, সাইডোর কার্গো রেল এবং প্যার্সেল ভ্যানের মাধ্যমে ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে। আগে যে পণ্য ট্রাকে আসতো এখন তা রেলে আসছে। ফলে ট্রাক চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য কমেছে এবং ব্যবসায়ীরা কম সময় ও অল্প খরচে পণ্য আনতে পারছে। মূলত ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ায় রেলপথে পথে আমদানি বাড়ছে।
    সূত্র আরো জানায়, ভারতের কলকাতা থেকে ২০ মেট্রিক টন চাল আনতে ট্রাক ভাড়া লাগে ৪০ হাজার রুপী। অথচ একই পরিমাণ চাল রেল ওয়াগনে আনা হলে ভাড়া লাগে ৩০ হাজার রুপী। তাছাড়া রেলে পণ্য চালান আনতে যেখানে সময় লাগবে ৩ থেকে ৪ দিন, সেখানে ট্রাকে আনতে সময় লাগে ১৫ থেকে ১৮ দিন। রেল ওয়াগন, কন্টেনার, কার্গো ও রেল টানেলের মাধ্যমে পণ্য চালানে খরচ কম হয়। তবে কন্টেনার কিংবা টানেলের মাধ্যমে পণ্য আনতে খরচ বেশি পড়ে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের জন্য ভারত থেকে কয়েক লাখ টন চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি করা ওসব চালের একটা বড় অংশই রেলপথে আসছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে রেলপথে ১ লাখ ৩৪৩ টন চাল এসেছে। একই সময়ে রেলপথে ভারত থেকে আমদানি করা ২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪৬ গম এসেছে। তবে রেলপথে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্য এখন পর্যন্ত একপক্ষীয়। বাংলাদেশ কেবল রেলপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করতে পারে, রফতানি করতে পারে না। চাল ও গম ছাড়াও রেলপথের মাধ্যমে পাথর, ভুট্টা, ভোজ্যতেল, ফ্লাই এ্যাশ, পার্সেল, কনটেনার, মোটরযান, ডিজেল, পেঁয়াজ, রসুন, শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য ভারত থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রতি মাসে ১শটিরও বেশি পণ্যবাহী ট্রেন ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে।
    এদিকে ভারত থেকে ভোগ্যপণ্যসহ শিল্পের কাঁচামাল সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়ে থাকে। চাল, পেঁয়াজ, মসলা, তুলা, বিভিন্ন মেশিনারিজ আমদানি করা হয়। পাশাপাশি ভারতের মেডিক্যাল পর্যটনে বাংলাদেশ বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারতে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছে। ভারতীয় ওষুধও এদেশে আসছে। কিন্তু পাটজাতীয় কিছু পণ্য, ইলিশ মাছ ও হ্যান্ডিক্রাফট ছাড়া ভারতে তেমন কিছু রফতানি হয় না। গত কয়েক বছরে সার্ভিস খাতে বাংলাদেশ ভালো করছে। বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা, চিকিৎসা এবং আইটিখাতে বাংলাদেশ বেশ সফল দেশ। সিপা চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের সার্ভিস খাত সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ভারত থেকে এখন বিদ্যুত আমদানি করা হচ্ছে। ক্রমেই বাড়ছে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ায় এখন সহজে সেভেন সিস্টারসখ্যাত সাত রাজ্যে ভারত তার পণ্য পাঠাতে পারছে। তাতে করে উভয়দেশ লাভবান হচ্ছে। তাছাড়া বৃহৎ পরিসরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম জোরদার করতে বাংলাদেশ-ভুটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে বিবিআইন চুক্তি করা হবে। ভুটান ওই চুক্তিতে সম্মত না হলে তিনদেশ মিলেই এ চুক্তিতে সই করা হতে পারে।
    এদিকে এ প্রসঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নানা রকম অশুল্ক বাধার কারণে বড় বাণিজ্য ঘাটতি সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবহন সমস্যা একটি বিষয়। ভারতের উচিত বাংলাদেশকে মুক্ত বাজার অর্থনীতির সুযোগ দেয়া এবং সাফটা চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ঘটাতে সহযোগিতা করা। তাছাড়া বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারতে বাংলাদেশেরও রফতানি বাড়াতে হবে। সেজন্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি। বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে মোট ৮৬২ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়। ওই বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যের মধ্যে বাংলাদেশ ৭৭৫ কোটি ডলারের ঘাটতিতে রয়েছে।
    অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রেলপথে ভারতে পণ্য রফতানির প্রক্রিয়াটি বেশ এগিয়ে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক। করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হয়ে আসলেই এদেশ থেকে রেলপথে ভারতে পণ্য যাবে। তাতে দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেয়াসহ ও পরিবহন খরচ হ্রাস পাবে।

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১
    ১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
    ১৯২০২১২২২৩২৪২৫
    ২৬২৭২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757