• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    পদে আওয়ামী লীগ, চেতনায় জামায়াত!

    প্রভাষ আমিন | ২৬ জুলাই ২০১৭ | ৩:৩১ অপরাহ্ণ

    পদে আওয়ামী লীগ, চেতনায় জামায়াত!

    রিজিয়া রেজা চৌধুরী

    রিজিয়া রেজা চৌধুরী। দক্ষ সংগঠক। ২০০২-২০০৪ সালে চট্টগ্রাম মহানগর ইসলামী ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সক্রিয় নেত্রী ছিলেন। তিনি অবশ্য বাপকা বেটি। তার পিতা মুমিনুল হক চৌধুরীকে চট্টগ্রামের সবাই মুমিন রাজাকার নামেই চেনে। একাত্তরে আলবদর কমান্ডার মুমিনুল হক চৌধুরী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আমির ছিলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মুমিনুল হক চৌধুরী জামায়াতের মনোনয়নে দুইবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, অবশ্য পাস করতে পারেননি। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার ফাঁসির পর চট্টগ্রামে গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করেছিলেন এই মুমিনুল। এই মুমিনের কন্যা রিজিয়া রেজা চৌধুরীই এখন আওয়ামী মহলে তুমুল আলোচনায়। ছাত্রী সংস্থার নেত্রী, জামায়াত নেতার কন্যাকে নিয়ে আলোচনা কেন, তাও আওয়ামী মহলে? কারণ এই দক্ষ সংগঠক আবার তার কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন। এবার তিনি আওয়ামী মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত হয়েছেন। ছাত্রী সংস্থা নেত্রীর এই স্বীকৃতি নিয়েই এখন তুমুল আলোচনা। এবার অবশ্য তিনি পিতা কোটায় নয়, স্বীকৃতি পেয়েছেন স্বামী কোটায়। তার স্বামী ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভীও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন-প্রার্থীবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। স্বামীর হাত ধরে এবার স্ত্রীর অনুপ্রবেশ ঘটলো আওয়ামী লীগে। এখন তার নাম রিজিয়া নদভী। মারহাবা, মারহাবা।
    ৬৮ বছরের পুরনো আওয়ামী লীগ শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বেরই অন্যতম পুরনো ও সংগঠিত রাজনৈতিক দল। এই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শের ভিত্তিতে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব ছাড়ার সময় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ শুধু একটা রাজনৈতিক দল নয়, এটা অনুভূতি’। কিন্তু টানা প্রায় নয় বছর ক্ষমতায় থাকার কারণেই হয়তো আওয়ামী লীগের সেই অনুভূতিতে টান পড়েছে। উদার গণতান্ত্রিক দল আওয়ামী লীগ এখন সত্যিই উদার। জামায়াত-বিএনপি-জঙ্গি-সর্বহারা সবার জন্য এখন আওয়ামী লীগের দরজা খোলা। যুক্তিটা খুব সোজা- কেউ যদি আদর্শ বদল করে, ভুল বুঝে আওয়ামী লীগে আসতে চায়, নিতে সমস্যা কোথায়? এই যুক্তিটা খুব জোলো। কারণ আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ গণসংগঠন। ইউনিয়ন নয় শুধু গ্রাম পর্যায়েও ছড়িয়ে আছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বছরের পর বছর, দশকের পর দশক সংগঠন করেও যেখানে পোড় খাওয়া নেতাকর্মীরা দলে পদ পান না; সেখানে বাইরে থেকে এসেই হুট করে কমিটিতে পদ পেয়ে গেলে পুরনো নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে যায়। আওয়ামী লীগ মহলে একটি কথা খুব প্রচলিত, আওয়ামী লীগ হওয়া যায় না, আওয়ামী লীগ হয়ে জন্মাতে হয়। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই যে আওয়ামী লীগের মূল শক্তি, এটা মুখে সবাই বলেন, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাও অনেকবার তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবদান স্বীকার করেছেন। কিন্তু বাস্তবে তাদের মূল্যায়ন হয় কম। ৭৫’এর পর ২১ বছর সংগঠনকে ধরে রেখেছে এই তৃণমূল, ওয়ান-ইলাভেনে সময় শেখ হাসিনাকে গ্রেফতারের পরও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এই তৃণমূলই। আজ স্মার্ট নব্য আওয়ামী লীগাররা এসে টপাটপ সামনের আসনগুলো দখল করে নিচ্ছে, আর বুকভরা অভিমান নিয়ে তবুও মাটি কামড়ে পড়ে থাকছে আনস্মার্ট পুরোনো আওয়ামী লীগাররা।


    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওবায়দুল কাদের রীতিমত বিবেকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি যে ভাষায় ছাত্রলীগকে বকঝকা করেন, সে ভাষায় অন্য কেউ কথা বললে, ছাত্রলীগের ভয়ে তার দেশে থাকাই দায় হতো। লিখলেও ৫৭ ধারায় তছনছ হয়ে যেতো অনেকের জীবন। নব্য আওয়ামী লীগারদের তিনি কখনও হাইব্রিড, কখনও ‘কাউয়া’, কখনও ‘ফার্মের মুরগি’ বলে তাচ্ছিল্য করেছেন। তাদের থেকে দলের সবাইকে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। কিন্তু এটা তো পাবলিকলি বলার বিষয় নয়। তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক। তার দায়িত্ব এই হাইব্রিড-কাউয়াদের চিহ্নিত করে দল থেকে বের করে দেওয়া এবং নতুন কেউ যাতে দলে ঢুকতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। বাইরের লোকদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। জামায়াতের এখন যে ডুবন্ত দশা, তারা তো নৌকায় চড়ে বাঁচতে চাইবেই। এখন আওয়ামী লীগকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা ডুবন্ত জামায়াতীদের বাঁচার সুযোগ দিতে নিজেদের দরজা ভুলে রাখবে, নাকি পুরনো ও পোড় খাওয়া নেতাকর্মীদের নিয়েই জনগণের কাছেই পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।

    ajkerograbani.com

    ওবায়দুল কাদের বড় ব্ড় কথা বলেন বটে। কিন্তু রিজিয়া নদভী মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়েছেন তার স্বাক্ষরেই। কথা আর কাজে যদি মিল না থাকে তাহলে তার বিবেকসুলভ বড় বড় কথা না বলাই ভালো। যারা আদর্শ বদলে এলেই যে কাউকে দলে নেওয়ার পক্ষে, তারা কি এ কথাটা ভুলে যান যে ক্ষমতা থেকে গেলেই এই দুধের মাছিরা দূরে সরে যাবে। নাকি তারা মনে করছেন, আওয়ামী লীগ সারাজীবন ক্ষমতায় থাকবে। মেদবহুল মানুষ মোটা কিন্তু স্বাস্থ্যবান নয়। তাই সবাই মেদ ঝেড়ে ফেলতে চান। সংগঠনের মেদও স্বাস্থ্যকর নয়। খুঁজে খুঁজে, বেছে বেছে সংগঠনের থেকে মেদ ঝেড়ে ফেলতে পারলেই তা সত্যিকার গতিশীল হবে।

    একটা জিনিস আমার মাথায় ঢোকে না, আওয়ামী লীগের মধ্যে এই সর্বগ্রাসী মানসিকতা এলো কোত্থেকে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে তাদের মধ্যে একধরনের বিভ্রম তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে এখন এমন ভাব, বাংলাদেশের ৩০০ আসনেই যেন আওয়ামী লীগকে জিততে হবে। এটা কখনোই সম্ভব নয়। বুদ্ধিমানরা আগে নিজেদের দূর্গ সংহত করে, শত্রু এলাকায় হানা দিতে যায়। গাজীপুর-সিলেট-রাজশাহী-বরিশালের মতো ঘাঁটিতে যখন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে যায়; তখন সাতকানিয়া-লোহাগারা আসন দখলের জন্য জামায়াত থেকে লোক ধার করে এনে আত্মপ্রসাদ লাভ করার সুযোগ নেই। ৭০’র নির্বাচনেও যে আসনে আওয়ামী লীগ জিততে পারেনি, সে আসন দখল করতে এত মরিয়া হতে হবে কেন? আসন দখল করার চেয়ে, সংগঠনে মনোযোগ দেওয়া অনেক ভালো হতে পারতো। জামায়াত থেকে ধারে আনা প্রার্থী দিয়ে সাময়িক দখল নিলেও তা যে টেকসই হবে না, তা বুঝতে তো রকেট বিজ্ঞানী হতে হয় না। সে এলাকা জামায়াতের ছিল, এখনও জামায়াতেরই আছে। বরং নদভীর জায়গায় আওয়ামী লীগের কাউকে মনোনয়ন দিলে তিনি এতদিনে সেখানে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পারতেন। এটা মাথায় রাখতে হবে অবস্থা যত ভালোই হোক, আওয়ামী লীগ কখনোই ৩০০ আসনে জিতবে না। বরং জামায়াতী নদভী বা ইয়াবা সম্রাট বদির মতো কিছু এমপির কারণে সারাদেশে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এভাবে এক দুটি আসন হয়তো পাওয়া যায়। কিন্তু ক্ষুণ্ন হওয়া ভাবমূর্তি কেড়ে নেয় আরও অনেক আসন। এটা আসলে সবসময়ই সত্য- আমরা সামনে দিয়ে মশা গেলে লাফ দিয়ে ধরি, পেছন দিয়ে হাতি চলে গেলেও টের পাই না। তাৎক্ষণিক দলের আসন বাড়ানো বা কর্মী বাড়ানোর লোভে নদভী বা বদির মতো ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে দলের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়, কর্মীদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়; যা পুষিয়ে নেওয়া সহজ নয়।

    রাজাকার কন্যাকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাই দেওয়া প্রসঙ্গে মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সাফিয়া খাতুন বলেছেন, পিতার অপরাধের দায় কন্যা নেবে কেন? আর সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা ক্রিক বলেছেন, তার আগের পরিচয় নয়, আমরা বিবেচনায় নিয়েছি তার বর্তমান পরিচয়। তিনি এখন আমাদের এমপির স্ত্রী, এটাই বড় পরিচয়। প্রথম কথা হলো, পিতার দায়ে কন্যাকে অপরাধী করতে আমি রাজি হতাম না। যদি তিনি তার পিতার অপরাধ স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতেন। তা তো করেনইনি বরং রিজিয়া দিনের পর দিন তার বাবার পক্ষে সাফাই গেয়ে এসেছেন। বছরের শুরুতে তিনি তাকে চট্টগ্রাম মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছিল। তীব্র সমালোচনার মুখে তা অবশ্য টেকেনি। তখন তীব্র সমালোচনা জবাবে তিনি তার পিতার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। তার পিতার কাদের মোল্লার গায়েবানা জানাযায় ইমামতি করা প্রসঙ্গে এক সমালোচককে তীব্র ভাষায আক্রমণ করে তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘যার রাজনীতি সে করবে, যার আমলনামা নিয়ে সে কবরে যাবে। আব্বা জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। উনি ইমামতি না করে আপনার বাবা করবে নাকি?’ ছাত্রী সংস্থা থেকে মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘আদর্শ কোনও ব্যাপার না। রাজনীতির মূল কথা হলো- জনকল্যাণ, মানুষের সেবা করা।’ এই যার মনোভাব, তাকে কি পিতার অপরাধের দায় থেকে মুক্তি দেওয়ার কোনও সুযোগ আছে? তিনি পদে আওয়ামী লীগ, চেতনায় জামায়াত। মহিলা আওয়ামী লীগের জেলা শাখার নেত্রী হতে চেয়েও পারেননি। এখন তার শোধ নিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হয়ে। এখন তাকে কে আটকায়?

    আর এমপির স্ত্রী হলেই মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী হওয়া যাবে, এই নিয়ম কবে থেকে চালু হলো। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটি উদ্ধৃত করছি ‘৩০০ এমপি’র বউকে দিয়ে মহিলা আওয়ামী লীগ আর পুত্র-কন্যাদের দিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কমিটি করা যায় না? ঘরের চাকর দিয়ে চাকরলীগ, মামা-ভাগ্নে দিয়ে মামালীগ ভাগ্নেলীগ ,খালাতো চাচাতো চাটাতো-লীগ প্রতিষ্ঠা করা যায় না? আলবদর কমান্ডারের কন্যা যখন এমপির বউ বিবেচনায় মহিলা আওয়ামী লীগের পদ অর্জন করে তখন আমার লজ্জা রাজপথে হাট্টিমা-টিম-টিম সুরে খেলা করে!’

    শুধু নুরুল আজম রনী নয়, রিজিয়া নদভীর পদ পাওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ আওয়ামী লীগ মহলে। অনেকেই ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষোভের প্রকাশ করেছেন। অনেকে দলের এই বেপথে যাত্রায় ক্ষোভে-দুঃখে গুমড়ে কাঁদছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘বুঝতে পারলাম না জামাই বউ সবাইকে পদ পদবী পেতে হবে কেন? তাও আবার জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতার কন্যা ইসলামী ছাত্রী সংস্থার নেত্রীকে? ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা কর্মীর কি দেশে আকাল পড়েছে? কই সভানেত্রীর প্রয়াত স্বামী, বোন বা তাদের সন্তানদের তো দলের কোন পদপদবীতে দেখা যায়নি। নাকি তাঁদের যোগ্যতার অভাব আছে? নির্বাচন সামনে। দয়া করে এসব আকাম করে, আবার তা ঢাকতে আকথা-কুকথা বলে নেতাকর্মীদের অনুভুতিতে আঘাত দিয়ে তাদের মাঠবিমুখ করবেন। সামনে কঠিন সময়। ২০০১ এরপর এবং ১/১১’র সময়ের কথা কি মনে পড়ে না? কারা কোথায় ছিল?’

    তবে আমি আওয়ামী লীগ নেকাকর্মীদের আহাজারি দেখে অবাক হচ্ছি। নদভীকে এমপি বানানোর সময়ই তো বিষয়গুলো ফয়সালা হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের লজ্জা তো তখনই ভেঙে গেছে। এখন আর কান্নাকাটি করে লাভ কী? স্বামী এমপি হতে পারলে, স্ত্রী মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হতে পারবেন না? বিএনপি জামায়াতের সাথে জোট করাটা যদি খারাপ হয়, আওয়ামী লীগের জামায়াতীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র হওয়াটা খারাপ হবে না কেন? হেফাজতীদের সাথে আওয়ামী লীগের আপস খারাপ হবে না কেন?

    আওয়ামী লীগের কাছে এখন ক্ষমতাই আসল। আদর্ম-ফাদর্শ কোনও বিষয় না। যে কোনও মূল্যে জিততে হবে। যারা জিতবে, শুধু তারাই দলের মনোনয়ন পাবেন। হোক সে বিএনপি থেকে আসা, জামায়াত থেকে আসা, হোক সে জঙ্গি বা সর্বহারা। তবে ভুলে গেলে চলবে না, পদে আওয়ামী লীগ, চেতনায় জামায়াত এই নব্য আওয়ামী লীগাররা ধীরে ধীরে কেটে দিচ্ছে তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা সংগঠনের শক্ত শেকড়। দলে এত নব্য আওয়ামী লীগার থাকলে নৌকাডোবাতে আর কাউকে লাগবে না। তখন নৌকায় ভরসা রাখার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না।

    লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

    probhash2000@gmail.com

    Facebook Comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২
    ১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
    ২০২১২২২৩২৪২৫২৬
    ২৭২৮২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4755