মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি: চরাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সঙ্কট

ডেস্ক রিপোর্ট   |   মঙ্গলবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ | প্রিন্ট  

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি: চরাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সঙ্কট

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় ৩৫টি গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগবালাই ও বিষাক্ত সাপের উপদ্রব।

বেশকয়েকটি গ্রামে কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে মজুদ করা খাদ্যশষ্য। এতে চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট।


কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, উপজেলার ভাগজোত পয়েন্টে গত তিন দিন ধরে গড়ে ৫-৬ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল সমকালকে বলেন, গ্রামের মধ্যে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অনেক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।


চলতি বছর মধ্য আগস্টে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ার পর তা ওই মাসের শেষ দিকে নেমে যায়।

কিন্তু সেপ্টেম্বর প্রথম সপ্তাহ থেকে পদ্মার পানি আবারও বাড়তে শুরু করলে তলিয়ে যায় বেশকয়েকটি গ্রাম।

সিরাজ মন্ডল সমকালকে জানান, গ্রামের অধিকাংশ নলকূপ অকেজো হয়ে যাওয়ায় সেখানে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। গ্রামের মানুষের মধ্যে বিশেষ করে শিশুরা ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিষাক্ত সাপসহ পোকামাকড়ের আতঙ্ক তো রয়েছেই।

গ্রামের অধিকাংশ মানুষের পেশা কৃষি। জমির ফসল নষ্ট হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা।জমিতে পানি জমে থাকায় নতুন করে ফসল রোপনের পরিবেশও তৈরি হয়নি। কাজ না থাকায় দিনমজুররা অনাহারে অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

একই গ্রামের দিনমজুর খবির উদ্দীন বলেন, ‘জমি জায়গা না থাকায় দিনমজুরি করে সংসার চলে। বন্যায় জমিতে পানি উঠে যাওয়ায় কোনো কাজ নাই। ফলে ছেলেমেয়ে নিয়ে চরম কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। সরকারিভাবে কিছু ত্রাণ দেওয়া হলেও তা দিয়ে তো আর সারা মাস চলে না।’

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বগমারী গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল ইসলাম জানান, বন্যায় মাঠের সব ফসল নষ্ট হয়েছে। বাড়িঘরে পানি উঠায় ঘরে মজুদকৃত খাদ্যশস্যও নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে গ্রামে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মসফিকুর রহমান বলেন, ‘পদ্মার পানি বেড়ে গেলেও এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পানি বৃদ্ধি পেলেও ফের বন্যার আশঙ্কা নেই। দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি কমতে শুরু হতে পারে।’

মসফিকুর রহমান জানান, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে কাজ করা হবে। ফিলিপনগর ইউনিয়নের অনেক জায়গায় এলাকায় জিও ব্যাগ ও বালি ভর্তি বস্তা ফেলা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম লিমন বলেন, ‘বন্যায় মরিচ, কলা, পেপেসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের খাদ্য সামগ্রীর পাশাপাশি নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

দৌলতপুর আসনের সাংসদ আ কা ম সরওয়ার জাহাদ বাদশাহ বলেন, এবারের বন্যায় নদীর তীরবর্তী ৪ ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, অব্যাহত নদীভাঙন রোধে ব্লক দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও বন্যাকবলিত মানুষের জন্য মুজিব কেল্লা নির্মাণের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Posted ৬:৪৪ পিএম | মঙ্গলবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement