• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    পদ্মা সেতু নির্মাণ : ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে বাংলাদেশ

    মোহাম্মদ মফিজুর রহমান | ২৬ নভেম্বর ২০১৭ | ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ

    পদ্মা সেতু নির্মাণ : ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে বাংলাদেশ

    দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সার্বিক যোগাযোগের জন্য পদ্মা সেতু নির্মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়া এই সেতুর সঙ্গে ওই অঞ্চলের মানুষের আবেগ, আকাঙ্ক্ষার গভীর যোগসূত্র রয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সরকারের কাছে তাদের প্রাণের দাবিও। এটা সত্য যে, সরকারও বিভিন্ন সময়ে এই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ‘পদ্মা সেতু’র মতো বৃহত্তম প্রকল্প বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য সত্যিকার অর্থেই চ্যালেঞ্জের। কিন্তু বাংলাদেশ সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে।
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একাগ্রতা ও সদিচ্ছার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা অসঙ্গত নয়। কেননা, নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ‘বিশ্বব্যাংক’ তাদের অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি ফিরিয়ে নিলে শেখ হাসিনাই বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেছিলেন, এখানে কোনো দুর্নীতি নেই। প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়টিও সামনে আনার চেষ্টা করছে বিশ্বব্যাংক, কিন্তু সব ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশেরই জয় হয়েছে, যার চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের অর্থেই নির্মিত হচ্ছে বহু আকাঙ্ক্ষিত এই সেতু।
    পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলায় বাংলাদেশের দেশ প্রেমিক প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্যই পদ্মা সেতু গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটা বাঙালির আত্মমর্যাদার প্রশ্নেও গুরুত্ববহ। নিজের টাকায় পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে। পদ্মা সেতুর মতো বড় একটা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এ ধরনের আরো বড় অবকাঠামো নির্মাণে অনুপ্রেরণা হিসেবেই কাজ করবে।
    সর্বোপরি বলতে চাই, পদ্মা সেতু নির্মাণ যেমন বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম সাফল্য হিসেবে পরিগণিত হবে, তেমনি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি এসব এলাকার কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ জীবনমানেরও পরিবর্তন ঘটবে।
    পদ্মা সেতু হলে দক্ষিণাঞ্চলের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিপ্লব সাধিত হবে। পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের কারণে কেটে যাবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মংলার সকল দৈন্যদশা। দৈর্ঘ্যরে বিচারে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এবং নদীর প্রশস্ততা এবং পানি প্রবাহের তীব্রতার বিচারে বিশ্বের তৃতীয় এই সেতুই হবে ২০১৮ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের মাইলফলক। পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পর পাল্টে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের চেহারা। পদ্মার প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে রচিত হবে উন্নয়নের সেতুবন্ধন। খুলনা এবং বরিশাল বিভাগের ২১ জেলা যুক্ত হবে সরাসরি সড়ক নেটওয়ার্কে। ঢাকার সাথে খুলনার যাত্রাকালীন সময় বাঁচবে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। অন্যান্য জেলার সাথেও সময়ের ব্যবধান কমে আসবে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। মংলা বন্দর চলে আসবে দেশের উন্নয়নের মূলস্রোতে। চট্টগ্রাম বন্দর এবং মংলা বন্দর গ্রথিত হবে একই সুতায়। গ্যাস-বিদ্যুৎ-রেল এই তিনে মিলে খুলনা হয়ে উঠবে প্রকৃতপক্ষেই দক্ষিণাঞ্চলের রাজধানী। এমনি একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নেই পদ্মা সেতু মুখ্যত খুলনার চাবি হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।
    পদ্মা সেতুর সুফলের আওতা বাড়াতে এর ওপর দিয়ে স্থাপন করা হচ্ছে রেললাইন। এর অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকা থেকে পদ্মা বহুমুখী সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায়ই এটি সম্ভব হচ্ছে। পদ্মা সেতু হয়ে রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এ অঞ্চলগুলোয় অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা হবে। এক্ষেত্রে রেলওয়ে নিয়ামক ভূমিকা পালন করবে।
    আমরা অবহিত যে, অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিতব্য সেতুটি দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প হিসেবে গণ্য। এ সেতু বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুধু যুগান্তকারী অগ্রগতিই সাধিত হবে না, অধিকন্তু অর্জিত হবে জাতীয় আস্থা ও সক্ষমতা। এটা সুবিদিত যে, অর্থনৈতিক উন্নতির অন্যতম মূল ভিত্তি হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা। সেইসঙ্গে কার্যকর পরিকল্পনা অনুযায়ী বিনিয়োগ। অর্থাৎ উন্নয়ন পরস্পর সম্পর্কিত কতগুলো বিষয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়।
    পরিশেষে বলছি, জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বে আছেন বিধায়ই স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতু বাস্তবে রূপলাভ করতে যাচ্ছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু চালু হলে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি পদ্মা বহুমুখী সেতু বাংলাদেশের উন্নয়নে আমুল পরিবর্তন আনবে এবং দেশের সড়ক যোগযোগের ক্ষেত্রে রচিত হবে এক নতুন ইতিহাস। নিজেস্ব অর্থায়নে এই সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সাহসী পদক্ষেপ বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে এবং আগামী দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
    লেখক : চার্টার্ড এ্যাকাউন্টেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এফএসএল গ্লোবাল লিমিটেড।


    Facebook Comments


    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    webnewsdesign.com

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
    ৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4669