• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে ইউএনও’র অডিও ফাঁস

    ডেস্ক | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫:৪০ অপরাহ্ণ

    পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে ইউএনও’র অডিও ফাঁস

    জ্ঞাতআয়বহির্ভূত অর্থ আড়াল করতে প্রেমিকার নামে গোপনে ব্যাংক হিসাব খুলেছেন একজন ক্যাডার কর্মকর্তা। যেখানে লেনদেন হয়েছে লাখ লাখ টাকা। অথচ গোপন এ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কথা জানেন না কথিত প্রেমিকা। কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রেমিকার ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়ে স্বাক্ষর জাল করে অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়। অবিশ্বাস্য হলেও চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনার জন্ম দিয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের ৩০তম ব্যাচের এক কর্মকর্তা। সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার এ কর্মকর্তার নাম আসিফ ইমতিয়াজ। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে কর্মরত। ঘটনার সময় চট্টগ্রাম ডিসি অফিসের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার পদে (এলএও) কর্মরত ছিলেন।

    এদিকে প্রেমিকার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে রীতিমতো সাপের সন্ধান পেয়েছে। যা সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়েছে।


    এ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা নিয়ে পরে ভুক্তভোগী নারী(পরকীয়া প্রেমিকা) ও অভিযুক্ত ইউএনওর মধ্যে মুঠোফোনে কয়েক দফা বাকবিতণ্ডা হয়। যার কয়েকটি অডিও রেকর্ডও হাতে আসে। ১৯ মিনিটের একটি অডিও থেকে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কথোপকথন তুলে ধরা হল-

    ভুক্তভোগী নারী(পরকীয়া প্রেমিকা) : ‘তুমি লোন করার কথা বলে ব্যক্তিগত কাগজপত্রপত্র নিয়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে আমার নামে অ্যাকাউন্ট কেন খুলেছ? আমি ব্যাংকের হেড অফিস থেকে সব ডকুমেন্ট উঠিয়েছি। আমার সঙ্গে মিথ্যা কথা বলবে না।’

    আসিফ ইমতিয়াজ : ‘তোমাকে এত কায়দাকানুন কে করতে বলেছে?’

    ভুক্তভোগী নারী(পরকীয়া প্রেমিকা) : ‘তুমি তো আমার কথা শোনোই না। আমি এ জন্যেই বলছি দুদকে কমপ্লেন করব।’

    ইমতিয়াজ : ‘তুমি কেন এরকম করতেছ।’

    ভুক্তভোগী নারী(পরকীয়া প্রেমিকা) : ‘কারণ তুমি আমাকে মাঝ রাস্তায় ছেড়ে দিয়েছ।’ আসিফ ইমতিয়াজ: ‘তুমি কি চাও পরিষ্কারভাবে বল। আমার সাড়ে ৩ বছরের একটা ছেলে আছে। শুধু তুমি আর আমি বসব। কোনো ল’ইয়ার লাগবে না। তোমার কোনো দয়ামায়া নাই?

    ভুক্তভোগী নারী(পরকীয়া প্রেমিকা) : ‘হ্যাঁ আছে। আছে বলেই তো চুপ করে রয়েছি। না হলে তো এতদিনে বারোটা বেজে যেত।

    আসিফ ইমতিয়াজ : ‘তুমি আমার বারোটা বাজাইতে গেছ? তুমি ব্যাংকে গিয়ে কাগজপত্র সব বের করেছ?’

    ভুক্তভোগী নারী(পরকীয়া প্রেমিকা) : ‘তুমিতো আমার কোনো কথাই মানতেছো না। ছেড়ে দিছো রাজপথে।

    আসিফ ইমতিয়াজ : ‘এখন আমি তোমাকে সারা জীবন পালব?’ ভুক্তভোগী নারী : ‘আমি তোমাকে তো সারা জীবন পালতে বলতেছি না।

    আসিফ ইমতিয়াজ : ‘তুমি আমার ক্ষতি করবে কেন? আমি কি তোমার কোনো উপকার করিনি? আমিতো মিউচুয়ালের কথাই বলতেছিলাম। তুমি ব্যাংকে গিয়ে গোপনে অ্যাকাউন্টের কাগজপত্র উঠাচ্ছ। আর আমাকে দোষ দাও। এটা কি? তুমিতো আমার ক্ষতি করার জন্য এসব কাগজপত্র উঠাচ্ছ।’

    ভুক্তভোগী নারী(পরকীয়া প্রেমিকা) : ‘ক্ষতি করতে চাইলে অনেক আগেই দুদকে দিয়া দিতাম। আমি তোমার সঙ্গে থাকতে চাই।’

    ১০ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের আরেকটি অডিওর গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন-

    আসিফ ইমতিয়াজ : আমি ও আমার আইনজীবী অনেকক্ষণ ধরে চিন্তা করছি দু’জনই যাতে বাঁচতে পারি সেটা। আমাদের দু’জনের মধ্যে এত বেশি আদান-প্রদান এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি হবে। তোমার একটা কথায় আমি বিপদে পড়ব।

    ভুক্তভোগী নারী(পরকীয়া প্রেমিকা) : তুই না একটু বললি, আমরা কোর্টে গিয়ে বিয়ে করব।

    আসিফ ইমতিয়াজ : কোর্ট তো বিয়া করায় না। আমরা চিন্তাভাবনা করতেছি আমরা কোর্টে যাব। একটা ওয়ে বের করব।

    উল্লিখিত অভিযোগ এবং ফোনালাপের বিষয়ে জানতে চাইলে তাহিরপুর উপজেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ মঙ্গলবার বলেন, ‘পুরো বিষয়টি বানোয়াট এবং তার বিরুদ্ধে গভীর এক ষড়যন্ত্র।’ ফোনালাপের রেকর্ড শোনার পর তিনি দাবি করেন, ‘এটি তার কণ্ঠ নয়। বরং বোঝা যাচ্ছে মেয়েটি বারবার পুরষ ব্যক্তিকে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। এতেই তার অসৎ উদ্দেশ্য বোঝা যায়।’

    ব্যাংক ম্যানেজার ভুক্তভোগী নারীকে যা বলেছিলেন-

    ভুক্তভোগী নারী : আপনি কি আসিফ ইমতিয়াজ নামে কাউকে চেনেন?

    ব্যাংক ম্যানেজার : আসিফ ইমতিয়াজকে চিনি তো।

    ভুক্তভোগী নারী : আপনি যে অ্যাকাউন্টটা আসিফ ইমতিয়াজের রেফারেন্সে করেছিলেন সেটা কিন্তু আমার অনুমতি ছাড়া করা হয়েছে। তার করাপশনের টাকা ঢোকানোর জন্য এ অ্যাকাউন্টটা করেছে। অ্যাকাউন্ট হোল্ডার ছাড়া কিভাবে অ্যাকাউন্ট হল?

    ব্যাংক ম্যানেজার : আপনি কে?

    ভুক্তভোগী নারী : আমার নামেই অ্যাকাউন্টটা খোলা হয়েছে। কিন্তু আমার মোবাইল নাম্বার সে ইউজ করেনি। অথচ আমার কমপ্লেন দেয়ার পর যখন অ্যাকাউন্টা ক্লোজড করা হয় তখন আমার নাম্বারটা ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ আমার নাম্বারে এসএমএস আসে যে আপনার অ্যাকাউন্টটা ক্লোজড করা হয়েছে। আসিফ ইমতিয়াজ যে এটিএম কার্ড নিয়েছে সেটিই বা কিভাবে নিয়ে গেল?

    ব্যাংক ম্যানেজার : আপনার সঙ্গে উনার কি সম্পর্ক সেটাতো আর আমি জানি না। ব্যাংকে অন গুড ফেইথ একটা কথা আছে। কাস্টমার না এলেও আমরা অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলি। কিছু আছে রুলস, আর কিছু আছে ব্যক্তি।

    ভুক্তভোগী নারী : না, না, এটা কোনো রুলস হতে পারে না। আমি আপনার বিরুদ্ধে প্রধান কার্যালয়ে কমপ্লেন করব।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩ এপ্রিল কদমতলী শাখা ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী ওই নারী। ওই অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় ব্যাংকটির কমপ্লেইন শাখার প্রধান সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তবে তিনি এ বিষয়ে মোবাইলে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

    যোগাযোগ করা হলে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক কদমতলী শাখার ব্যবস্থাপক মো. খোরশেদ আলম সোমবার বলেন, ‘ব্যাংক নীতিমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে পারি না। বিষয়টি তদন্তাধীন।’

    প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের কারণে এ কর্মকর্তা ভারসাম্য হারিয়েছেন। নিজের অফিসিয়াল পরিচিতির মর্যাদা সুরক্ষার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে বিয়েবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কেও জড়িয়েছেন। যাকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ভাড়া ফ্ল্যাট ও আবাসিক হোটেলে সময় কাটিয়েছেন। শেষমেশ ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে প্রতারণা করতে গিয়ে অনেকটা খেই হারিয়ে ফেলেন। ঘটনার তথ্যানুসন্ধানে গণমাধ্যমের হাতে আসা ইউএনও এবং তার প্রেমিকার ফোনালাপের একাধিক কলরেকর্ডের তথ্য তদন্ত কমিটিকেও বিস্মিত করে।

    জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা পদে কর্মরত থাকাবস্থায় স্থানীয় একটি ব্যাংকের কদমতলী শাখায় এ অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেখানে কয়েক মাস ধরে মোটা অংকের টাকা লেনদেনও করেন আসিফ ইমতিয়াজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করায় বিষয়টি নিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে বিরোধ বাধলে ব্যাংকে গোপন লেনদেনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবদুল আহাদ মঙ্গলবার বলেন, ‘তার (আসিফ ইমতিয়াজ) বিরুদ্ধে অভিযোগ তো কয়েকটা। অভিযোগকারী (ভুক্তভোগী নারী) তার অভিযোগের সপক্ষে যতটুকু তথ্যপ্রমাণ দিতে পেরেছেন সেটুকুর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।’ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তা স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে চিঠিও দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের আদেশ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া তারা এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারবে না।’

    তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় জনৈক শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে আসিফ ইমতিয়াজের। তখন তিনি চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এলএ শাখায় ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএও) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিক পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট ও আবাসিক হোটেলে বসবাস শুরু করেন। ততদিনে গোপনে বিয়েবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি ঘনীভূত হয়ে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে না চাইলে বিপত্তি ঘটে। ভুক্তভোগী নারী প্রতিকার চেয়ে ৫ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হারুন অর রশিদকে প্রধান করে ১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়।

    এদিকে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে কমিটি জানতে পারে, আয়বহির্ভূত লাখ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখার জন্য তিনি একজন নারীর নামে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চট্টগ্রামের কদমতলী শাখায় ব্যাংক হিসাব খোলেন। যার নম্বর ২০৪৩৩০০০৩৫৬। দেখা যায়, যে ভুক্তভোগী নারী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তার সম্মতি ছাড়াই ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজ ব্যাংকে হিসাব খুলেছেন। ঘনিষ্ঠতা থাকার সময় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেয়ার কথা বলে ভোটার আইডিসহ প্রয়োজনীয় যেসব ব্যক্তিগত কাগজপত্র নিয়েছিলেন সেগুলো সংযুক্ত করে জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে হিসাবটি খোলা হয়। এতে ব্যাংকটির শাখা ম্যানেজার খোরশেদ আলমের হাত ছিল। ওই সময় জমি অধিগ্রহণের বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত রাখতে ব্যাংকটিতে পৃথক অ্যাকাউন্ট খোলা হয় বলে সূত্র জানায়। ওই সুবাদে ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে তার বিশেষ সখ্যও গড়ে উঠে।

    তদন্তকারী কর্মকর্তা সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ২ জুলাই স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপককে দাফতরিক চিঠি দেন। এতে ভুক্তভোগী নারীর নাম উল্লেখ করে বলা হয়, ‘… তাকে বিয়ের প্রলোভন, অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, হ*ত্যার হুমকি, ব্যাংকে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও সন্তানের অস্বীকৃতি বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। ১ জুলাই এ বিষয়ে শুনানিকালে তিনি জানান, তার কাগজপত্র দিয়ে তাহিরপুরের ইউএনও আসিফ ইমতিয়াজ গোপনে আপনার ব্যাংকে উল্লেখিত হিসাব খুলেছেন। যা তিনি জানেন না।

    এটিএম কার্ড ব্যবহার করে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ইতিমধ্যে বিশ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আসিফ ইমতিয়াজের কাছে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আপনার ব্যাংকে পরিচালিত ওই হিসাবের প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য জানা দরকার।’ ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানতে চান, ‘হিসাবটি কে খুলেছেন এবং কে বন্ধ করেছেন, হিসাবটি কবে থেকে কে লেনদেন করেছেন, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাংক লেনদেনের স্টেটমেন্টসহ লেনদেনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও প্রয়োজন।’

    তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হারুন অর রশীদ বলেন, ‘গোপন ব্যাংক হিসাব পরিচালনার যে অভিযোগ পাওয়া যায় তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য-উপাত্ত চেয়ে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক চট্টগ্রামের কদমতলী শ্যাখা ব্যবস্থাপককে চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো তথ্য ব্যাংক থেকে জানানো হয়নি। তদন্ত রিপোর্টটি জমা দেয়ার কয়েক দিন পর একটি খাম আসে। কিন্তু সেটি আর আমি রিসিভ করিনি।’ অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘তদন্তে কী পেয়েছি সেটি বলা যাবে না। উভয়পক্ষের দেয়া তথ্যপ্রমাণ ও সরাসরি সাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে যা পেয়েছি তা আমার জ্ঞান বিবেচনা মতে বিচার-বিশ্লেষণ করে মতামত দিয়েছি।’

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘আসিফের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয় ২০১৮ সালের মে মাসে। এরপর কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেন তিনি। অথচ আমার সম্মতি ও স্বাক্ষর ছাড়া ব্যাংকের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যক্তিগত সেই কাগজপত্র দিয়ে আমার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে অবৈধ লেনদেন শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘ভয়াবহ এ জালিয়াতির ঘটনা জানতে পেরে আমি হতভম্ব হয়ে পড়ি। কারণ আসিফ ইমতিয়াজ তখন একজন সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু এ ঘটনার পরই তার আসল রূপ প্রকাশ পায়। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এর মধ্যে আমার যা সর্বনাশ হওয়ার তা হয়ে গেছে।’

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘গত নভেম্বরে ঢাকার বনশ্রীর ভাড়া ফ্ল্যাটে থাকাকালে হঠাৎ তার মানিব্যাগে আমার নামে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের এটিএম কার্ড দেখতে পাই। ওই সময় ওই কার্ডের নম্বরটি আমি গোপনে রেখে দেই। পরে আমি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এটিএম কার্ড দিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। এরপর এ বিষয়ে আমি তাকে যখন জিজ্ঞেস করি তখন সে (আসিফ ইমতিয়াজ) আমার কাছে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে আমার নিজের নিরাপত্তার জন্য ৩ এপ্রিল তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। জিডি নং ১৩০।’

    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বিয়ে করাই তার নেশা!

    ২১ জুলাই ২০১৭

    কে এই নারী, তার বাবা কে?

    ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী