• শিরোনাম

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    পাগলী টাও মা হয়েছে,তবে বাবা হয়নি কেউ

    এম আরমান খান জয়,গোপালগঞ্জ | ০৭ জুলাই ২০১৭ | ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

    পাগলী টাও মা হয়েছে,তবে বাবা হয়নি কেউ

    পাগলী টাও মা হয়েছে
    তবে বাবা হয়নি কেউ,
    পাগলী বলে যায়নি ছেড়ে
    প্রসব ব্যথার ঢেউ ৷
    পাগলীর ও যে নারী
    শরীর বয়ে বেড়ায় তার ,
    ছেড়ে যায়নি মাসিক
    নামের ব্যথার অনাচার ৷
    রাস্তায় ঘুরে কাটে দিন
    আর রাস্তায় কাটে রাত ,
    পাগলী বলে স্বামী হয়নি
    পায়নি সংসার স্বাদ ৷
    পাগলী ও কী করেছিল
    যৌন আহবান ?,
    নাকি রাতের বেলা বেইশ্যা
    হয়ে করলো শরীর দান ??
    দশ মাস পাগলী
    ছিল কত বেদনায় ,
    পেট বেড়ে পোয়াতি
    সে কিসের তাড়নায় ?? ৷
    ক্ষুধায় খেল আবজ’না
    কখনো ও বা না খেয়ে ,
    বাচ্চা পেটে ছোটাছুটি
    দেখছো কি কেউ চেয়ে ? ৷
    প্রসব ব্যাথায় কুঁকড়ে ছিল
    দেখেও সব কেউ দেখেনি তাকে,
    হাঁউ মাঁউ করে কেঁদেও
    সে পায়নি সাড়া ডাকে ৷
    সেইতো বঝে প্রসব ব্যাথা
    যে হয়েছে মা,
    পাগলী টাও মা হয়েছে
    বাবা টা কেউ না ৷
    গাছ ফেটে গাছ বের’ল
    কার রোপনের বীচ ?,
    মেয়ে শরীর রাত্রে পেয়ে
    কে ঢেলেছে বিষ ?? ৷
    জন্ম নিলো যে শিশু টি
    কাকে ডাকবে বাপ ?
    যাকে রোজ বলবে সবাই
    এ এই সমাজের পাপ !
    পাগলী তাই ধমকে বলে
    এখান থেকে ফুট ,
    রাতের বেলা পাগলীর শরীর
    করে আসে লুট ৷
    কে জানে তার শরীর টাকে
    আরো কতবার ?,
    চুষে চিবিয়ে খেয়েছে
    কতো জানোয়ার ৷
    পুরুষ গেলো শরীর খেয়ে
    নিয়ে গেলো স্বাদ ,
    কস্টো পেয়ে মরলো শুধু
    বাচ্চা টা আনাথ।
    মধ্যযুগিয় বব্রতায় ভবগোরেরাও সন্তানের জন্ম দেয়। সমাজের একাংশ মানুষ রূপি নরপিচাশদের হাত থেকে রাস্তায় চলা ভবগোরেরাও নিস্তার পায়না। সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষ যেন অমানুষের রূপ নিতে আরম্ভ করেছে। যতদুর খবর পাওয়া গেছে পাগল মায়ের নাম পুতুল,বয়স আনুমানিক ২২ এর কাছাকাছি। বাবার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার সদও উপজেলার সাতপাড় মধ্যপাড়া এলাকার গোলদার বাড়ি। গত কয়েক বছর আগে পুতুল কাজ করতো একই এলাকার প্রফের্সার মানিক গোলদারের বাড়িতে। এভাবেই কিছু মাস ধরে কাজ করেছে পুতুল। গত ৭ বছর পূর্বে পুতুলকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রফের্সার মানিক গোলদার পুতুলের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে আসছিল বলে জানান পুতুলের মা-বাবা। সম্পর্কের এক পর্যায়ে পুতুলের শরীরিক পরিবর্তন দেখে পুতুল কে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন প্রফের্সার মানিক গোলদার । পুতুল যেন কিছুতেই মানতে রাজি ছিল না তাড়িয়ে দেয়ার পরেও বার বার পুতুল ছুটে যেত প্রফের্সার মানিক গোলদারের বাড়ি। পুতুল যখন সেখানে স্থান না পায়নি তার পর থেকেই পাগল হয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায় পুতুল। এরি মাঝে জন্ম দেয় একটি শিশুর। প্রফের্সার মানিক গোলদারের আত্মিয় পরিজন কেউ পুতুলকে আর ঘরে তোলেনি। পাগল নামেই রাস্তার পাশে আর বাজার হাটের বারান্দা হয়ে যায় ঠিকানা। এরই মাঝে পুতুলের সন্তান সুদিপ ৭ বছরের বালক,বাবার স্বীকৃতী চায় সে,কিন্তুু সুদিকে সন্তান বলে মানতে রাজিনা মানুষ রূপি নরপিচাশ প্রফের্সার মানিক গোলদারের। এখন দেখার এই শিশু সন্তানটির ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাড়ায়..।
    স্বাভাবিক ভাবেই বলার অপেক্ষা রাখেনা মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা শিশুটিকে কুরিয়ে পায় নি। যাই হোক মধ্যযুগিয় বর্বরতার শিকার’ই হোক আর যে ভাবেই হোক ভারসাম্যহীন মহিলার কোলে থাকা শিশুটি তো আর ভবগোরে হতে পারেনা। ভাগ্যের পরিহাসে এই শিশুটি আজ পাগল মায়ের কোলে। প্রায়সই এই মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েটি কে দেখা যেত অন্য ৫ জনের মত এলাকার যত্র তত্র ঘোরে বেরাতে। জন্ম নেওয়া সদ্যজাতক শিশুটিকে নিয়ে পাগলী মেয়েটি প্রচন্ড শীতে রাস্তার পাশে, দোকানের বারান্দায় বা গাছ তলায় রাত কাটাতে দেখা গেছে প্রায়। স্বাভাবিক ভাবে মানুষ যখন প্রচন্ড ঠান্ডায় শীত বস্ত্রে শীত নিবারন করতে কষ্ট হয় তখন এই নবজাতক শিশুটি কিভাবে পাগল মায়ের কোলে বিনা শীত বস্ত্রে রাত্রি যাপন করে কেউ সেটা ভেবে দেখেনা। পাগল মায়ের কোলে এই শিশুটিকে দেখতে পেয়ে কেউ কেউ হয়তো পাঁচ দশটাকা শিশুটির হাথে ধরিয়ে দেয়। কিন্তু পাগল মা ও সদ্যজাতক শিশুটির কাছে এই টাকার কি মূল্য ! কে জানে কত মাস ধরে এই শিশুটিকে নিয়ে পাগল মা গ্রাম থেকে শহরের আনাচে কানাচে ঘোরে বেরাচ্ছে, নালা নর্দমার খাবার খেয়ে বেঁচে রয়েছে শিশুটি। সেই নির্মম দৃশ্য দেখার কেউ নেই। তথাকথিত ভাবে দেশের উন্নয়নের বাজনায় যখন মাঠ ঘাঠ গরম। কিন্তু নিস্পাপ এই শিশুটি দিনের পর দিন মাসের পর মাস পাগল মায়ের কোলে পাগল শিশু হয়ে ঘোরে বেরালেও তার উদ্ধার করার কারোর কোন উদ্যোগ নেই। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে এসব ভবগোরেদের দায়িত্ব কে নেবে ? এই ধরনের বেতিক্রমী ঘটনায় দেশের সরকারকে এগিয়ে আসার প্রয়োজনিয়তা কতটা তা হয়তো সরকারের প্রতিনিধিরাই ভাল বলতে পারবেন। কিন্তু মানবিক দিক থেকে বিচার করলে হয়তো শিশুটির ভবিষ্যৎ দেখার দায়িত্ব অবশ্যই দেশের সরকারের রয়েছে। জন্ম দেয়া মা পাগল বলে শিশুটিকেও পাগল বলে সমাজ থেকে ঠেলে দিলে আরো একটি পাগলের জন্ম হবে সমাজে। পাগলের সন্তান পাগল হবে সেটা হয়তো সঠিক ভাবনা নয়। তবে আর যাই হোক পাগল মাও মাতৃ স্নেহ থেকে বঞ্চিত করেনি শিশুটিকে। পাগল মায়ের মমতায় আগলে রেখেছে শিশুটিকে মায়ের কোলে। নালা নর্দমার পঁচা গলা খাবার, যখন যা পেয়েছে শিশুটিকে খাইয়ে বাচিয়ে রেখেছে, সেটাওতো কম কথা নয়।


    Comments

    comments

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    এরাই রুখে দেবে ধর্ষকদের

    ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩
    ১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
    ২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
    ২৮২৯৩০  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী