• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    ‘ডিভোর্সি পাত্রীর জন্য পাত্র প্রয়োজন, ফুলশয্যা হয়নি!’

    অগ্রবাণী ডেস্ক | ১৯ এপ্রিল ২০১৭ | ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

    ‘ডিভোর্সি পাত্রীর জন্য পাত্র প্রয়োজন, ফুলশয্যা হয়নি!’

    ডিভোর্সি মেয়ের বিয়ে দিতে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিলেন বাবা। আর সেখানে উল্লেখ করলেন তার মেয়ের ফুলশয্যা হয়নি। এহেন বিজ্ঞাপন দিয়ে চারিদিকে আলোচনা। অনেকে কন্যার বাবার সমালোচনাও করলেন। তবে মেয়ের বাবার জবাব, ‘‘এর আগে অন্যভাবে বিজ্ঞাপন দিয়ে দেখেছি। কোনও উত্তর আসেনি। এখন তো এসবই প্রধান হয়ে উঠছে। ফুলশয্যা যে হয়নি, বাধ্য হয়ে তাই জানাতেই হল।’’


    কিছুদিন আগে বিজ্ঞাপনটি দেওয়া হয়েছে সংবাদপত্রে। বিজ্ঞাপনদাতা পিতার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেল, মেয়ের বিয়ে হয়েছিল গত বছর। তাঁকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানো হয়নি। ছ’মাসের মধ্যেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

    ajkerograbani.com

    বিবাহ বিচ্ছিন্নার বিয়ে দিতে হলে কেন ফুলশয্যা বা তার নেপথ্যে শারীরিক নৈকট্যের সম্ভাবনার কথা পাত্রপক্ষকে জানাতেই হবে? মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যান সুনন্দা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বাবাও পিতৃতন্ত্রেরই বাহক। অক্ষতযোনি হলে তবেই যে মেয়েকে অন্য ঘরে নেবে, তা অধিকাংশেরই চেতনে রয়েছে।’’
    ডিভোর্সের পর মেয়েদের বিয়ে নিয়ে সমাজের ছুঁতমার্গ অনেকটা কমেছে বলে মনে করছেন সুনন্দা। তবে তাঁর মতে, যা কমেনি, তা হল শরীর নিয়ে কিছু ‘ট্যাবু’।

    মনোবিদদের একাংশের বক্তব্য, প্রেমের বিয়ে হলে বাবা-মায়ের এই চিন্তাটা থাকে না যে মেয়েকে স্বামী একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তে কীভাবে গ্রহণ করবেন। কিন্তু বিজ্ঞাপন দিয়ে আবার বিয়ে দিতে হলে বাবা-মা ভাবেন, যেহেতু আগের স্বামীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক ছিল, তাই নতুন ঘরে সমাদর পাবেন না নববধূ।
    অধ্যাপিকা তথা সমাজকর্মী শাশ্বতী ঘোষ এই মনোভাব প্রসঙ্গে বিধবাবিবাহ প্রচলনের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তিনি বলেন, ‘‘সমস্ত বাল্যবিধবাদের জন্য নয়, কেবল অক্ষতযোনি বিধবাদের জন্যই পুনর্বিবাহ সমাজ তখন মেনে নিয়েছিল।’’

    শাশ্বতীর কথায়, ‘‘পিতৃতন্ত্রের বাহক ওই পিতাও জানেন যে অন্য পুরুষ তাঁর মেয়ের কৌমার্যকেই বেশি গুরুত্ব দেবেন। সাধারণভাবে বিজ্ঞাপনে দেখা যায়— নামমাত্র বিবাহ। এক্ষেত্রে সেটাই আরও বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।’’

    সমাজতত্ত্ববিদ প্রশান্ত রায় বলেন, ‘‘শুধু শারীরিক সম্পর্কের ফলে হাইমেন ছিঁড়ে যায়, এমন ধারণাই তো ভুল। সাইকেল চালানো, জিমন্যাস্টিকস, নাচ— আরও অনেক কারণে তা অক্ষত থাকে না। এক্ষেত্রে পিতৃতন্ত্রের ফাঁদে পড়েই এমন শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে।’’

    কন্যাদের এই অপমানের শেষ হবে কবে? সমাজবিজ্ঞানী বা মনোবিদদের একাংশের মতে, সেই দিনের প্রতীক্ষা দীর্ঘ। আরও বড় লজ্জা এই যে প্রশ্নটা করতে হচ্ছে একবিংশ শতকেও![LS]

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    বিয়ে করাই তার নেশা!

    ২১ জুলাই ২০১৭

    কে এই নারী, তার বাবা কে?

    ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
    ১০১১১২১৩১৪
    ১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
    ২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
    ২৯৩০৩১  
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757