বুধবার, জুলাই ৭, ২০২১

পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিতে বিনিয়োগে চাঙ্গা হবে অর্থনীতি

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বুধবার, ০৭ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিতে বিনিয়োগে চাঙ্গা হবে অর্থনীতি

পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন বা স্বাস্থ্যবিধিতে (ওয়াশ) বড় অংকের বিনিয়োগ করে সবার জন্য সুপেয় পানি, পরিচ্ছন্ন টয়লেট এবং হাইজিন নিশ্চিত করার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙ্গা হতে পারে। বুধবার প্রকাশিত আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়াটারএইড-এর এক নতুন প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যের জন্য পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিনে সরকার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আর্ন্তজাতিক দাতাদের বিনিয়োগ অপরিহার্য, যা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যাবশ্যকীয় এবং ভবিষ্যৎ অতিমারি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন প্রকল্পগুলোতে যুক্তরাজ্য সরকারের দ্বিপক্ষীয় বৈদেশিক তহবিল ৮০ শতাংশের বেশি কর্তনের পর এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো।

‘অত্যাবশ্যকীয়: স্বাস্থ্যকর ও সবুজ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে স্যানিটেশন এবং হাইজিনে বিনিয়োগ করুন’- শিরোনামের এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোতে বিনিয়োগ একটি টেকসই ‘সবুজ’ অর্থনৈতিক প্রণোদনামূলক বিনিয়োগের শর্ত পূরণ করে।


বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রণীত এ প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ও ইথিওপিয়ায় ওয়াশ বিনিয়োগের কিছু কেস ষ্টাডির উল্লেখ করে এর উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য ও সময়-সাশ্রয়ী সুবিধা বিশেষত নারী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সুবিধার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশ বন্যার কবলে পড়ে। বন্যার পুনর্বাসন ও ওয়াশ সুবিধা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে ব্যয় হয় প্রায় ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অথচ জলবায়ু সহিষ্ণু পরিসেবার জন্য মাত্র ৯ কোটি ডলার ব্যয় করলে এই ক্ষতি এড়ানো যেতো। প্রতিবেদনে বলা হয়, উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যার কারণে লবণাক্ত পানির প্রবেশ নিরাপদ পানির দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং এর ফলে প্রতি বছর দুই কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং তাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রামীণ বাংলাদেশে কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করা একটি সাধারণ বাস্তবতা। মৌলিক পানি পরিসেবা বিশ্বে প্রতি বছর নারীর ৭ কোটি ৭০ লাখ কর্মদিবস বাচাতে পারে, যা তাদের কাজের সুযোগ ও জীবিকার বিকল্প খুঁজতে সক্ষম করে তুলতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে নারীর অপরিশোধিত শ্রম ওয়াশ খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। কোভিড-১৯ এর কারণে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের আরও অবনতি হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ওয়াশ খাতে পর্যাপ্ত ও লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগ এ পরিস্থিতির উত্তরণে এবং একই সাথে জেন্ডার সমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

ওয়াটারএইডের প্রধান নির্বাহী টিম ওয়েনরাইট বলেন, ‘মহামারির আগের পরিস্থিতি আবার ফেরত নাও আসতে পারে। কোভিড-১৯ মোকাবেলা, সম্ভাব্য অতিমারির প্রস্তুতি এবং সবুজ বা পরিবেশবান্ধব পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় পানি, স্যানিটেশন এবং হাইজিনকে প্রাধান্য দিয়ে সঠিক কাজটি করতে এবং সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিতে ওয়াটারএইড সরকার, দাতাসংস্থা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহবান জানাচ্ছে।’

ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, ‘ওয়াশ খাতে বিনিয়োগ তুলনামূলক কম ব্যয়ে অর্থনৈতিক সুযোগ ও স্বাস্থ্য সংরক্ষণের সম্ভাবনা উন্মোচন করতে পারে। এছাড়া কোভিড পরবর্তী প্রণোদনা ব্যয়ের মূল উদ্দেশ্যসমূহ বাস্তবায়নে এবং ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকিসমূহ মোকাবেলায় এই বিনিয়োগ সহায়ক হতে পারে।’

Posted ৬:২৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৭ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]