সোমবার, মার্চ ২, ২০২০

পাপিয়াকাণ্ড: সন্দেহের তালিকায় শতাধিক নারী নেত্রী

ডেস্ক   |   সোমবার, ০২ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

পাপিয়াকাণ্ড: সন্দেহের তালিকায় শতাধিক নারী নেত্রী

পাপিয়া কেলেঙ্কারির পর আওয়ামী লীগে বিতর্কিত নারী নেত্রীদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যেমন একটি তালিকা তৈরী করা হয়েছে তেমনি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা যেসমস্ত নারী নেত্রীরা দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন রকম টেন্ডারবাজি, তদবির বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা রকম অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের তালিকা করেছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে যে, আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে বা বিভিন্ন অঙ্গ সহযোগি ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে মূলত ৫ ধরনের অপরাধ করছেন কয়েকজন নারী নেত্রী। এই সমস্ত অপকর্মের মধ্যে রয়েছে;
১. বিভিন্ন টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার জন্য তদবির।
২. বিভিন্ন রকম ঠিকাদারদের পক্ষে লবিং করা।
৩. বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়।
৪. অনৈতিক কর্মকাণ্ড।
৫. নিয়োগ বাণিজ্য
এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের একটি তালিকা ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা তৈরী করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই তালিকায় ১১২ জন নারী নেত্রীর নাম রয়েছে। এদের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেত্রী রয়েছেন ৩৪জন। এই ৩৪জনের মধ্যে সাবেক এমপি রয়েছে ৬জন। অন্য সহযোগি সংগঠনের নেত্রী রয়েছে ৬২জন। এই ৬২ জনের মধ্যে ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্বে আছে ২৭জন। ছাত্রলীগের এই নেত্রীদের মধ্যে অধিকাংশই ইডেন কলেজ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী হলগুলোর নেত্রী। যুব মহিলা লীগের ১৯জন রয়েছেন। অন্যান্য সহযোগি সংগঠনের রয়েছে ১৬জন। এছাড়া শোবিজের ১৬জনের একটি তালিকা তৈরী করা হয়েছে। যারা নতুন আওয়ামী লীগার হয়েছেন। আওয়ামী লীগার হয়ে তার সচিবালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক কাজকর্মের ব্যপারে হস্তক্ষেপ করছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়া, টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন সরকারী কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও এরকম একটি তালিকা তৈরী করা হয়েছে। তবে সে তালিকা আরো দীর্ঘ। সেখানে প্রায় ১৩৫জনের নাম রয়েছে যারা সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্নরকম অপকর্মের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে যারা এরকম দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপকর্ম করছেন, তাঁরা যেন দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এই ধরনের অপকর্মগুলো না করতে পারে সেজন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা উচিৎ।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি বড় অংশ মনে করছে যে, নেতাকর্মীদের ডিজিটাল ডাটাবেইজ যদি তৈরি করা হয়, তাহলে এইসমস্ত অপকর্ম বন্ধের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের অগগ্রতি হবে। তাহলে প্রত্যেক নেতা-কর্মী, কে কোন কাজ করছেন, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
আর দ্বিতীয়ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব মনে করছে যে, দলের মধ্যে যারা ২০০৮-এর পর নতুন করে দায়িত্বে এসেছে, তাদেরকে আলাদা নজরদারিতে রাখা উচিৎ, যেন তাঁরা কি করছে, না করছে সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। আওয়ামী লীগ থেকে তৃতীয় সুপারিশে বলা হচ্ছে যে, যে সমস্ত স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, সেই অভিযোগগুলো সাথে সাথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রের কাছে পাঠাবে এবং কেন্দ্রীয় কমিটি সেটা যেন সাথে সাথে পর্যালোচনা করার সুযোগ পায়। হঠাৎ করে এই সমস্ত বিষয়গুলো যেন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে না আসে।
সর্বশেষ যেটা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে, সেটা হচ্ছে সচিবালয়ে যে নেতাকর্মীদের যাওয়া-আসা, সেটা সীমিত করার ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন বলেও তাঁরা মনে করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, যারা সন্দেহের তালিকায় রয়েছে, তাদেরকে খুব শীঘ্রই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং যাদের অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।


Posted ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ০২ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১