শুক্রবার ৬ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

পাপিয়ার ঘনিষ্ঠদের খোঁজা হচ্ছে

ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২০ | প্রিন্ট  

পাপিয়ার ঘনিষ্ঠদের খোঁজা হচ্ছে

নরসিংদীর বহিস্কৃত যুব মহিলা লীগের নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়ার ঘনিষ্ঠদের খুঁজতে গুলশানের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের সিসিটিভির ক্যামেরা ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পাপিয়ার কাছে কারা যাওয়া-আসা করতেন, তা জানতে এরই মধ্যে ওই হোটেলের একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন গোয়েন্দারা। এর আগে পাপিয়া সম্পর্কে তথ্য জানতে ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সূত্র জানায়, পাপিয়া শুধু পাঁচ তারকা হোটেলে নন, আরও অনেক জায়গায় বিভিন্ন পার্টি দিতেন। সেই পার্টিতে অনেক ভিআইপির আসা-যাওয়া ছিল। ওয়েস্টিনের বারে নিয়মিত বিশেষ পার্টির আয়োজন করতেন তিনি। ফার্মগেট ও নরসিংদীর বাসায় ডিজে ও ডিসকো পার্টির আয়োজন ছিল অনেকটা নিয়মিত। যারা পাপিয়াকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতেন, তাদের অনেকের সম্পর্কে গোয়েন্দা সংস্থা জানতে পেরেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে শিগগির জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পাপিয়ার স্যুটে কারা যাতায়াত করতেন তাদের তালিকা বের করার চেষ্টা চলছে। ওয়েস্টিন হোটেলে পাপিয়া কতদিন অবস্থান করেছেন এবং সেখানে কত টাকা বিল দিয়েছেন তার দালিলিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। হোটেল ওয়েস্টিনের কোনো অসাধু কর্মকর্তার পাপিয়াকে অনৈতিক কাজে সহায়তা করার প্রমাণ মিললে তাকে চাকরিচ্যুতি করা ছাড়াও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশেও পাচার করেছেন পাপিয়া। দেশের বাইরে একাধিক দেশের ব্যাংকে তার কয়েক কোটি টাকা জমা রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। পাপিয়ার এসব অর্থের বিষয়ে সিআইডিসহ একাধিক সংস্থা খোঁজখবর নিচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলাও হতে পারে।
পাপিয়ার ধারণা ছিল, তাকে কেউ গ্রেপ্তারের সাহস দেখাবে না। তাই দিনের পর দিন পাঁচ তারকা হোটেলে নির্বিঘ্নে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। তবে গ্রেপ্তারের কিছুদিন আগে পাপিয়া টের পান তার কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। যে কোনো সময় বিপদে পড়তে পারেন। এটি টের পেয়েই বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পাপিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল- এমন অনেকের নামের তালিকা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এই তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করছে, তারও খোঁজ চলছে। এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে পাপিয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট ঘনিষ্ঠতার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে মোবাইল ফোনসেটের চ্যাটিং লিস্টে অনেকের নাম পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ কোনো চ্যাটিং কিংবা ভিডিও ডিলিট করা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তার মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে।
ডিবি ও র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, নরসিংদীর একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা পাপিয়া মাফিয়া ডনের মতো আচরণ করতেন। দ্রুতই কোটি কোটি টাকা ও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিজাত হোটেলে সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে পার্টির আয়োজন ছাড়াও মাদকবাণিজ্য ও জাল টাকার কারবার করতেন। প্রভাবশালীদের মাধ্যমে নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈধ-অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়ে আসছিলেন তিনি। নিজে নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। প্রতারণার ফাঁদ পেতে টাকা আদায়ে অনেককে নির্যাতনও করতেন তিনি।
নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ ও তার স্বামী সুমন চৌধুরী এবং তাদের আরও দুই সহযোগী গত ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন গেট পার হওয়ার সময় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা, ইয়াবা, মদ ও জাল মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। পরদিন তাদের নিয়ে নরসিংদী ও ফার্মগেটের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ফার্মগেটের বাসা থেকে ৫৮ লাখ টাকা, অবৈধ পিস্তল ও গুলি, বিদেশি মুদ্রা ও মদ জব্দ করা হয়।

Facebook Comments Box


Posted ১০:০১ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২০

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১