শুক্রবার, জুলাই ২, ২০২১

পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে সোহাগের জীবন সংসার

  |   শুক্রবার, ০২ জুলাই ২০২১ | প্রিন্ট  

পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে সোহাগের জীবন সংসার

হাতে লম্বা বাঁশ, তার মাথায় রয়েছে ঝুড়ি। ওই দিকে বাঁশের ওপরের অংশে রশি দিয়ে বেঁধে চলছেন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। তার দৃষ্টি থাকছে গাছের মধ্যে। আর গাছে গাছে তিনি খোঁজ করছেন লাল পিঁপড়ার বাসা। আর পিঁপড়ার বাসা দেখা মাত্র বাঁশের মাথায় থাকা উড়া বা ঝুড়ি লাল পিঁপড়ার বাসায় বাঁশটি ঠেকিয়ে ছিদ্র করে ঝুড়ির মধ্যে ফেলছেন সাদা সাদা পিঁপড়ার ডিম। আর এ পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে করছেন জীবিকা নির্বাহ।
কেননা মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে নানাভাবে লড়াই করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। এরমধ্যে এক এক জনের পেশা এক এক রকম হয়ে থাকে। কেউ ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ পাইলট, কেউবা শিক্ষক আবার কেউ ব্যবসায়ীসহ বড় কিংবা ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসা করছেন। প্রতিটি মানুষের লক্ষ্য হচ্ছে বেঁচে থাকার লড়ায়ে জীবিকা অর্জন করা।
পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ বেছে নিয়েছেন মো. সোহাগ মিয়া। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলায়। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে গাছ থেকে ডিম সংগ্রহ ও বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আর এই পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহের জন্য তিনি প্রতিদিন দূর-দূরান্ত ছুঁটে বেড়ান।
এদিকে আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন এলাকায় একটি পুকুর পাড়ে দেখা যায় গাছে গাছে পিঁপড়ার ডিম খোঁজছেন। তার হাতে থাকা একটি বড় মাপের বাঁশের মাথায় একটি ঝুড়ি বেঁধে লাল পিপড়ার বাসায় বাঁশটি ঠেকিয়ে নড়াচড়া করছেন আর পিঁপড়ার বাসাটি ছিদ্র হয়ে সাদা সাদা পিঁপড়ার ডিম সেই ঝুড়ির মধ্যে পড়ছে। কৌতূহল বশত তার কাছে গিয়ে জানা গেল তিনি গাছের মধ্যে তবে লাল পিঁপড়ার বাসা খুঁজছেন। পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করতে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান।
যেমন তেমন বাসা হলে চলবে না, চাই ডোল পিঁপড়ার বাসা। যেখানে মিলবে প্রচুর পরিমাণ সাদা রঙের ডিম। এই পিঁপড়ার ডিমই যে তার জীবিকা নির্বাহের হাতিয়ার। তার স্ত্রী দুই ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে ৫ জনের সংসার। অর্থের অভাবে অন্য কোনো পেশায় যেতে না পারায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই পেশায় কাজ করছেন।
সোহাগ বলেন, এ ডিম সংগ্রহে কোনো ধরণের পুঁজি লাগেনা। আকাশ ভালো থাকলে গ্রামে গ্রামে ঘুরে সারাদিন দুই কেজির উপর ডিম সংগ্রহ করা যায়। ওই ডিমগুলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বশির দোকানে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি ডিম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি করি। পিঁপড়ার ডিম মাছের খুব প্রিয় খাদ্য। তারা আটা-ময়দা বা পাউরুটির সঙ্গে পিঁপড়ার ডিম লাগিয়ে বর্শিতে দেয়া হলে মাছ সহজেই টোপ গেলে। তাই সৌখিন মাছ শিকারিরা বড়শিতে মাছ ধরতে পিঁপড়ার ডিম ক্রয় করে থাকেন।
তিনি আরো বলেন, সাধারণত আম, লিচু, কাঁঠালসহ দেশীয় গাছগুলোতেই লাল পিঁপড়ার বাসা সবচাইতে বেশি পাওয়া যায়। লালা ব্যবহার করে গাছের একদম মগডালের দিকের কয়েকটি পাতা জোড়া দিয়ে শক্ত বাসা তৈরি করে সেখানে ডিম পাড়ে পিঁপড়ার দল। একটি বড় বাসা থেকে ২০০ থেকে ২৫০ গ্রাম ডিম পাওয়া যায়। তবে বছরের বেশীরভাগ সময় এই ডিমের চাহিদা থাকে। ডিম সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজটি খুব সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। কারণ ডিম আস্ত না রাখলে মাছ তা খায় না। তাছাড়া পিঁপড়ার কামড় তো খেতেই হয়। লাল পিঁপড়ার একটা স্বভাব একবার কামড় দিয়ে ধরলে ছাড়তে চায় না।
মো. হোসেন মিয়া জানান, তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে দীর্ঘ দিন রিকশা চালিয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পরিবার তার দুই ছেলে সহ ৪ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে এক ছেলে রিকশা চালাচ্ছেন বলে জানান। পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে মাসে ৭ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় হয়।
মাছ শিকারী মো. মতিউর রহমান বলেন, পিঁপড়ার ডিম মাছের খুব প্রিয় খাদ্য। আটা-ময়দা বা পাউরুটি সঙ্গে পিঁপড়ার ডিম লাগিয়ে বর্শিতে দেয়া হলে মাছ সহজেই টোপ গেলে। তাছাড়া খোল, একাঙ্গী, ঘোরবদ্ধ, তাম্বর, যীরখারা, আওফল, বুচকিদানা, স্টার ফল, মিষ্টির গাদ, গমের ভূষি, জয়ত্রী, জায়ফল, এগুলো একত্রে পরিমাণ মত মিশিয়ে বড় জারে ঢাকনা এঁটে রোদে শুকিয়ে টোপ বা চারা তৈরি করা হয়। এসব চারা বা টোপ মাছের প্রিয় খাবার হওয়ায় মাছ ভালো ধরা যায়।
মো. সিরজুল ইসলাম বলেন, পিঁপড়ার ডিম মাছের খুব প্রিয় খাবার। ডিম ছাড়া মাছ ধরা যায় না। দিন দিন পিঁপড়ার ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় ১ কেজি ডিম ক্রয় করতে ৫০০ টাকার লাগছে।
আবুল কাশেম জানান, নিজ এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় বরশি দিয়ে মাছ ধরেন তিনি। তবে বরশি দিয়ে মাছ ধরার প্রধান উপকরণ হলো খাবার ও চারা তৈরি করা। ওই খাবারের মধ্যে পিঁপড়ার ডিম মাছের খুবই প্রিয়। গাছ থেকে ডিম সংগ্রহ করতে না গেলে বাজার থেকে ক্রয় করতে হয়।


Posted ৫:০৯ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০২ জুলাই ২০২১

ajkerograbani.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

Archive Calendar

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া সম্পাদক ও প্রকাশক
মুহা: সালাহউদ্দিন মিয়া কর্তৃক তুহিন প্রেস, ২১৯/২ ফকিরাপুল (১ম গলি) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০ থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

২ শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সরণি, মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।

হেল্প লাইনঃ ০১৭১২১৭০৭৭১

E-mail: [email protected] | [email protected]