• শিরোনাম



    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...


    যাত্রায় অশ্লীল নৃত্য

    পুরুষদের শরীর না দেখালে এখন টাকা মেলে না

    আজকের অগ্রবাণী ডেস্ক: | ২৪ মে ২০১৭ | ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

    পুরুষদের শরীর না দেখালে এখন টাকা মেলে না

    দিনভর যানজটে লেপ্টে থাকা ঢাকার রাস্তাগুলো রাত ভারী হলেই কেবল নিঃশ্বাস ফেলতে পারে। এমন স্বস্তির রাস্তা পেয়ে ওরাও বেপরোয়া। মধ্যরাতের আগেই চলে আয়োজন। গাড়ি ছুটতে থাকে গাজীপুরের উদ্দেশে।


    গাজীপুর চৌরাস্তা পার হতেই গাড়ির চাকার গতি কমাতে থাকেন। নজর গাজীপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দু’ধারে। রাজেন্দ্রপুর আসতেই নিশানার দেখা মেলে। গুটিকয়েক ঝাড়বাতি বাঁশের খুঁটিতে মিটমিট জ্বলছে। তা দেখেই গাড়িগুলো বাঁক নেয় চোরারাস্তায় নতুবা জঙ্গলে। গাজীপুরের বাগেরবাজার, সুতিরবাজার, মাওনায় মিলে যায় রাতের টাকাওয়ালা মানুষেরা।

    ajkerograbani.com

    সেখানে উন্মাদ হয়ে ওঠে কেউ জুয়ার নেশা্য়। আর রসিক পুরুষরা ক্ষণিকের প্রেমরসে মন দোলায় নর্তকীর নগ্ন শরীরে।

    গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরের বাগেরবাজারে যেন টাকা উড়ছে। টাকার গন্ধে সেখানে রাতের নীরবতা ভাঙে। একেকটি মাঠে অর্ধশত জুয়ার বোর্ডের আয়োজন। হাউজি, ডাবু, চরকি, ফ্লাশ, তিন তাস, ওয়ান টেন কী নাই সেখানে? বিশাল মাঠ, সন্ধ্যার পর থেকে বসে জুয়ার আসর। ঢাকার জুয়াড়িরা এখানে আসর জমান। প্রতি মাঠের পাশেই গাড়ি রাখার পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। পার্কিং দেখে মনে হবে গাড়ির যেন হাট বসেছে। নিশান, হ্যামার, পাজেরো, ফেরারি ব্র্যান্ডের দেখাও মেলে গাজীপুরের যাত্রা মাঠে।

    নামেই যাত্রা, পালার কোনো বালাই নেই মঞ্চে। সব আয়োজনই জুয়াড়িদের জন্য। এখানে আছে ভিআইপি আয়োজনও। ছোট ছোট ঘর। তাতে ব্রিফকেসওয়ালাদের ঠিকানা। নতুন টাকার বান্ডিলের সঙ্গে দেশি-বিদেশি মদের ছড়াছড়ি সেখানে।

    হাউজি খেলার হাক-ডাক থাকলেও মূলত রাত ২টার পর উত্তাপ ছড়ায় অন্য খেলায়। রাতের গভীরতার সঙ্গে জুয়াড়িদের বেশির ভাগই যখন ফতুর হতে থাকে, তখন বেজে ওঠে উচ্চস্বরে হিন্দিগানের সুর। ক্ষণে ক্ষণে বাংলা গানও মেলে। মাঠের ঠিক মাঝে ঘেরা যাত্রামঞ্চ। মঞ্চ ঘিরে সারিবদ্ধ চেয়ার পাতা। ভিআইপিরা বসেন মঞ্চঘেঁষে। মঞ্চের পাশে বসতে হলে ফিও গুনতে হয় ঢের।

    গানের তালে তালে পর্দা ওঠে নাচের। পাশের সাজঘর থেকে এক এক করে মঞ্চে আসেন নর্তকীরা। রঙিন আলোর সঙ্গে ঝলসে ওঠে গাঢ় মেকআপ। প্রথমে দু-এক পর্ব শালীন পোশাকে, এরপর…

    রাত যতই গভীর হয়, পোশাকের পরিধি ততই খাটো হয়। অমন পোশাকেও যেন মন ভরে না। টাকার বান্ডিল হাতে আরও খোলামেলা দেখার সাধ জাগে। প্রলোভনে আরও উন্মাদ হন নর্তকীরাও।

    কথা হয়, নর্তকী স্নেহার সঙ্গে। বলেন, ‘মা যাত্রাপালায় অভিনয় করতেন। বাবা বাদ্যযন্ত্র বাজাতেন। যশোরে বাড়ি। ইচ্ছা ছিল মায়ের মতো যাত্রাশিল্পী হব। কিন্তু কপালে লেখা ছিল না। পুরুষদের শরীর না দেখালে এখন টাকা মেলে না।’

    ‘যাত্রাদলেই জন্ম। পড়ালেখাও জানি না। অন্যকিছু করব, সে পথও নেই। বাধ্য হয়ে অন্যের মনোরঞ্জন করি’- বলেন স্নেহা।

    সূত্র : জাগো নিউজ

    Facebook Comments Box

    কোন এলাকার খবর দেখতে চান...

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    আর্কাইভ

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০১১১২১৩১৪১৫১৬
    ১৭১৮১৯২০২১২২২৩
    ২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
  • ফেসবুকে আজকের অগ্রবাণী


  • Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/ajkerogr/public_html/wp-includes/functions.php on line 4757